বেড়েছে কাঁচামরিচের দাম স্থিতিশীল সবজির বাজার

সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারগুলোতে কাঁচামরিচের দাম কেজিতে প্রায় ২০ টাকা বেড়েছে। তবে বেশির ভাগ সবজির দাম স্থিতিশীল। সেই সঙ্গে গত সপ্তাহে কমে যাওয়া পেঁয়াজের দামও স্থিতিশীল রয়েছে। রাজধানীর কাঁচাবাজারে প্রায় সব ধরনের মাছ, মাংস ও মসলা অতিরিক্ত দামেই বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া কোনো বাজারে মানা হচ্ছে না গরুর মাংসের নির্ধারিত মূল্য। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আড়তে মরিচের সরবরাহ কিছুটা কমেছে, যে কারণে দাম বেড়েছে। তবে অধিকাংশ সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। পটল, ঝিঙা, ধুন্দল, চিচিঙ্গা, বেগুন, কাঁকরোল, ঢেঁড়স, করলাসহ প্রায় সব সবজিই বাজারে ভরপুর। যে কারণে সবজির দাম স্থিতিশীল রয়েছে।গতকাল রাজধানীর বাড্ডা, মহাখালী, রামপুরা ও কারওয়ানবাজারের আশপাশের এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ তথ্য জানা গেছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনা করে মাংসের যে দাম নির্ধারণ করে দিয়েছেন তা মানছে না অনেক ব্যবসায়ী।নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে গরুর মাংস বিক্রি করছেন অনেক ব্যবসায়ী। বেশি দামে গরু কিনে কম দামে মাংস বিক্রি করা অসম্ভব বলে দাবি করছেন তারা। বাজারভেদে ৪৫০-৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে গরুর মাংস। খাসির মংস ৭০০-৮০০, ব্রয়লার মুরগি ১৪০-১৫০ এবং দেশী মুরগি ৪০০-৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাড্ডার মাংস বিক্রেতারা কাওসার জানান, গরুর ক্রয়মূল্য বেশি হওয়ায় খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়েছে।এদিকে সবজির বাজারে অন্যান্য সবজির দাম স্থিতিশীল হলেও মরিচের দাম কিছুটা বেড়েছে। পেঁয়াজের দামও স্থিতিশীল রয়েছে। মরিচের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আড়তে মরিচের সরবরাহ কিছুটা কমেছে, যে কারণে দাম বেড়েছে। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৫০-৭০ টাকা কেজি। ২৫০ গ্রাম বিক্রি হচ্ছে ১৫-২০ টাকা। যা গত সপ্তাহে ছিল ১০-১৫ টাকা। দেশী পেঁয়াজ ৩৫-৪৫, ভারত থেকে আমদানীকৃত পেঁয়াজ ২৫-৩০, আদা ৭০-১২০ এবং রসুন ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।গত সপ্তাহে ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হওয়া করলা একই দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে। তাছাড়া রমজানের শুরুতে বেগুনের চড়া দাম এখনো কমেনি। গতকালের বাজারে মানভেদে ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বেগুন। এছাড়া ঝিঙা ৬০, চিচিঙা ৬০, ঢেঁড়স ৫০, শসা ৬০ এবং আলু ২০-২৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। প্রতিকেজি পটল ৬০, কচুর লতি ৫০, ছড়া কচু ৬০, কুমড়ার জালি প্রতিটি ৫০ এবং লাউ ৬০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়।এদিকে বাজার ও মানভেদে প্রতি কেজি শসা বিক্রি হচ্ছে ৩০-৫০ টাকা যা আগের সপ্তাহে ছিল ৪০-৬০ টাকা। আর রোজার শুরুতে কিছু কিছু বাজারে শসা ১০০ টাকা কেজিও বিক্রি হয়। শসার দাম কমলেও কিছুটা বেড়েছে গাজরের দাম। বাজার ও মানভেদে গাজর বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪০-৫০ টাকা কেজি। আগের সপ্তাহের মতো লাল শাক, সবুজ ডাটা শাক, পাট শাক, কলমি শাক ১০-১৫ টাকা আটি বিক্রি হচ্ছে। আর পুঁইশাক ও লাউ শাক বিক্রি হচ্ছে ২০-৩০ টাকা আটি।কারওয়ানবাজারের বিক্রেতা সোহাগ বলেন, কাঁচামালের দাম নির্ভর করে আড়তের ওপর। আড়তে মাল বেশি আসলে দাম স্বাভাবিক ভাবেই কম থাকে। আবার আড়তে মালের ঘাটতি থাকলে দাম বেড়ে যায়। এখন আড়তে গেলেই পছন্দ মতো যেকোনো সবজি আনা যাচ্ছে। যে কারণে আমরাও কিছুটা কম দামে বিক্রি করতে পারছি।এ বাজারে মাছের দাম বেশ চড়া। প্রতিকেজি রুই বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৩৫০, ইলিশ ৫০০ ওজনের প্রতিজোড়া ১৬০০, শিং মাছ ৫৫০-৭০০ ও শোল মাছ ৬০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। অন্যদিকে গলদা চিংড়ি ৫০০-১৪০০, বাগদা ৮০০, কাতল ৩০০-৩৫০ এবং তেলাপিয়া ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।