বেলের শরবতে প্রাণশক্তি

বেলের শরবত তৈরির উপকরণঃ

বেল ১টি, ঠাণ্ডা পানি পরিমাণ মতো, চিনি ও বরফকুচি।

প্রণালিঃ

প্রথমে বেল ফাটিয়ে এর শ্বাস চামচ দিয়ে কুড়িয়ে তুলে একটি বোলে নিন। এবার একটু কচলে নিন। এরপর অল্প পানি দিয়ে ভালোমতো কচলে বিচি ও আঁশ ফেলে দিন। এবার পরিমাণমতো পানি চিনি মিশিয়ে বরফকুচি দিয়ে পরিবেশন করুন।

আপনি চাইলে শুধু বিচি ফেলে দিয়ে সব উপকরণ একসাথে ব্লেন্ডারে দিয়ে ব্লেন্ড করে নিতে পারেন। বিচিসহ শরবত করলে সেটা তেতো হবে।

বেলের শরবতের উপকারিতাঃ

বেলের শরবত কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। প্রতিদিন বেলের শরবত পান করলে শরীরের ক্লান্তি দূর হয়। প্রতিদিনের শারীরিক পরিশ্রমের পর একগ্লাস বেলের শরবত খুবই উপকারী।

যাদের পাইলস, অ্যানাল ফিস্টুলা, হেমোরয়েড (মলদ্বারের রোগ) রয়েছে, এমন রোগীদের জন্য বেল উপকারী। এছাড়া বেলে ভিটামিন ‘সি’ ও ‘এ’ পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে।

বেলের ভিটামিন ‘সি’ দেহের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। বসন্ত ও গ্রীষ্মকালীন ছোঁয়াচে রোগগুলোর বিরুদ্ধে করে যুদ্ধ।

বেলের বিচিগুলো পিচ্ছিল। সাধারণত: যেসব ফলের বিচিগুলো পিচ্ছিল হয় সেই ফল পাকস্থলীতে হজম উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে। খাবার সঠিকভাবে হজম হয়, দূর হয় কোষ্ঠকাঠিন্য। এছাড়া দীর্ঘ সময়ের কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে যেসব ক্ষতিকারক রোগ হয় তা দূর করতে বেল উত্তম।

এটা ত্বকের র‌্যাশ ও ব্রণ দূর করে ত্বককে মসৃণ করে।

প্রসূতি মায়েদের বুকের দুধ বাড়াতে সাহায্য করে।

রক্ত পরিশোধন করে। রক্তের ক্ষতিকর পদার্থ বের করে দেয়।

বেলে আঁশের পরিমাণও অনেক বেশি। আঁশযুক্ত শাকসবজি বা ফল হজমশক্তি বাড়িয়ে, গ্যাস-এসিডিটির পরিমাণ কমায়। ফলে হজমে সমস্যা দূর হয়।

বেলের ভিটামিন ‘এ’ চোখের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোকে পুষ্টি জোগায়।

যারা নিয়মিত বেল খান, তাদের কোলন ক্যানসার, গ্লুকোমা, জেরোসিস, জেরোপথ্যালমিয়া হওয়ার প্রবণতা তুলনামূলক কমে যায়।