বেকারদের বেতন দিতে সুইজারল্যান্ডে গণভোট

বেকারদের বেতন দিতে সুইজারল্যান্ডে গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে। এ গণভোট পাস হলে শুধু বেকাররাই নন, মাস শেষে বেতন পান না এমন চাকরিজীবীরাও বেতন পাবেন।

এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে রোববার সুইজারল্যান্ডে গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মাস শেষে সবার পকেটে আড়াই হাজার সুইস ফ্রাঁ যাতে দেওয়া হয় গণভোটের লক্ষ্য সেটিই। গণভোটের পক্ষে জুরিখে চলছে ব্যাপক প্রচারণা।

জুরিখের প্রচারণায় রোবটও অংশ নিয়েছে। কার্ডবোর্ড দিয়ে রোবটের পোশাক বানিয়ে গায়ে চড়িয়ে নিয়ে গানের তালে তালে রাস্তায় নেচে গেয়ে সবার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চলছে।

`বেসিক ইনকাম` নামে একটি সুইস ক্যাম্পেইন গ্রুপ গত কিছুদিন ধরেই এরকম নানা অভিনব কায়দায় প্রচারণা চালিয়ে আসছেন।

কিছুদিন আগে জেনেভায় বিশাল একটি মাঠের সমান পোস্টার বানিয়ে সাঁটানো হয়েছিলো। ওই পোস্টারে লেখা ছিল, কেউ যদি আপনার আয়ের দায়িত্ব নিয়ে নেয় তাহলে আপনি কি করবেন? এই ক্যাম্পেইনের দাবি সবার জন্য রাষ্ট্রের কাছে বেতনের নিশ্চয়তা।

ক্যাম্পেইনের আয়োজক ওয়াগনার বলেন, আমরা ন্যূনতম বেতন চালু করতে চাই, কারণ সুইজারল্যান্ডে সকল কাজের ৫০ ভাগের বেশিই বেতনবিহীন কাজ। যেমন ধরুন বাড়িতে যে সব সেবামূলক কাজ হচ্ছে। এখন যদি একটি ন্যূনতম বেতন থাকে তাহলে সে ধরনের কাজের একটি মূল্য তৈরি হবে।

এছাড়া এ মূল্য পাবেন যে কোন সুইস নাগরিক। চাকরিজীবী অথবা বেকার যাই হোন না কেন, মাসে আড়াই হাজার সুইস ফ্রাঁ অর্থাৎ আড়াই হাজার ডলারের সামান্য বেশি অর্থ পাবেন।

গণভোটে যদি দাবি পাশ হয়, তাহলে সুইজারল্যান্ড হবে বিশ্বের প্রথম দেশ যারা এমন দাবিতে গণভোটে অংশ নিলো।

তবে এ নিয়ে বিপরীত প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে দেশটির রাজনীতিকদের মাঝে। সুইস রাজনীতিকদের অনেকেই এমন দাবির বিরোধিতা করছেন।

সুইস পিপলস পার্টির নেতা লুৎসি স্টাম এই গণভোটের বিপক্ষে। তিনি বলেন, আমার মূল সমালোচনা খুব সহজ। এখন যেহেতু আমরা মুক্ত সীমান্ত নীতিমালা অনুসরণ করি। এ রকম মুক্ত সীমান্ত থাকলে বিষয়টি একেবারেই অসম্ভব। বিশেষ করে সুইজারল্যান্ডের মতো দেশ যেখানে এত উঁচু জীবনযাত্রার মান। ধরুন সবাইকে যদি এরকম অর্থ আপনি দেন তাহলে আশেপাশের সব দেশের লোকজন এখানে বসবাস করতে চলে আসবে।