পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া-চরখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের তুষখালী বন্দর সংলগ্ন খালের ওপর বেইলি সেতু ধসে উপকূলীয় ১২ রুটে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। শুক্রবার দিবাগত রাত পৌনে ১১টার দিকে মঠবাড়িয়া থেকে চরখালীগামী ভেকু বহনকারী একটি ট্রলি (পিরেজপুর-শ-১১-০০৪৩) ব্রিজ পার হওয়ার সময় প্রায় ৬০ ফুট দীর্ঘ বেইলি সেতুটি ভেঙে পড়ে। দুর্ঘটনা কবলিত ট্রলির চালক ও শ্রমিকরা পালিয়ে যায়। সেতু ভেঙে পড়ায় খুলনা-পিরোজপুর-মঠবাড়িয়া-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কে অন্তত ১২টি রুটে সরাসরি যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, মঠবাড়িয়া-চরখালী সড়কের মঠবাড়িয়া অংশে তুষখালী বন্দরসংলগ্ন খালের ওপর প্রয় ৬০ফুট দীর্ঘ বেইলি সেতুটি গত কয়েক বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। কার্যকর সংস্কার না হওয়ায় চলতি বর্ষা মৌসুমে সেতুটি মরিচা ভারী যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তুষখালী বন্দরের ইজিবাইক চালক মো. খায়রুল মাতুব্বর জানান, শুক্রবার দিবাগত রাত পৌনে ১১টার দিকে পৌরসভার পানির প্লান্টে ব্যবহৃত ভেকু বহনকারী একটি ট্রলি বেইলি সেতুটি পার হচ্ছিল। এ সময় একটি যাত্রীবাহি মাহিন্দ্রকে সাইড দিতে গিয়ে হঠাৎ সেতুটির পশ্চিম অংশ ভেঙে পড়ে। এ সময় মাহিন্দ্র চালক মোস্তফা (৩০) আহত হন। ঘটনার পরে দুর্ঘটনা কবলিত ট্রাকের চালক ও শ্রমিকরা পালিয়ে যায়।

সেতু ভেঙে পড়ায় উপকূলীয় এলাকার ১২টি রুটে সরাসরি যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বরগুনা, পাথরঘাটার, মঠবাড়িয়ার সঙ্গে পিরোজপুর, ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনাসহ ১২টি রুটে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ায় জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। এতে যাত্রী সাধারণ চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন। এ ছাড়া পাথরঘাটা মৎস্য বন্দর থেকে এ সড়কে মাছ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে বিকল্প পথে বামনা-কাঁঠালিয়া হয়ে মাছ সরবরাহ করতে হচ্ছে।

তুষখালী ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান জানান, বেইলি সেতুটি অনেক পুরানো। সেতুটি ভারী যান চলাচলের উপযোগী ছিল না। ট্রলিতে বহনকারী কয়েক টন ওজনের একটি ভেকু ও ট্রলির চাপ সামলাতে না পেরে সেতুর পশ্চিম অংশ ভেঙে পড়ে। দীর্ঘ তুষখালী খালের এই স্থানে ভেঙে পড়া সেতু মেরামত করে আসলে কোনো লাভ নেই। আঞ্চলিক এ মহাসড়কে একটি পাকা সেতু নির্মাণ ছাড়া আর ঝুঁকি এড়ানো অসম্ভব।

এ বিষয়ে পিরোজপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ফখরুল ইসলাম জানান, সেতুটি কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়লে সম্প্রতি মেরামত করা হয়। পিরোজপুর জেলায় আরো ২০টি সেতু ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এসব সেতু আসন্ন ঈদুল আজহার আগে মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।