বি চৌধুরী-কামালের জোটে খুশি জানিয়েছে বিএনপি

কামাল হোসেন ও এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বৈঠকের পরদিন বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার আগে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন। আজকে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত এই জাতীয় ঐক্যের প্রক্রিয়া অনেকদূর অগ্রসর হয়েছে।

“একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের স্বার্থে, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করার জন্য, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন, সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন এবং নির্বাচন কমিশনকে সংস্কার করে নির্বাচনের জন্য আজকে ২০ দলের বাইরেও যারা জাতীয় ঐক্যের সৃষ্টিতে কাজ করছেন, তাদের আমরা অভিনন্দন জানাই।”

আওয়ামী লীগ ছেড়ে আসা কামাল হোসেন এবং বিএনপি ছেড়ে আসা বি চৌধুরী মঙ্গলবার এক বৈঠকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার ঘোষণা দেন।

তবে ‘জাতীয় ঐক্য’ গঠনে বিএনপির প্রস্তাব নিয়ে ওই সভায় কোনো আলোচনা হয়নি বলে সাংবাদিকদের প্রশ্নে জানান বিকল্পধারার সভাপতি ও যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান বি চৌধুরী।

প্রেস ক্লাবে স্বাধীনতা ফোরামের আলোচনা সভায় খন্দকার মোশাররফ বলেন, নির্বাচন নিয়ে বিএনপি যেসব দাবি তুলেছে, তার সঙ্গে যুক্তফ্রন্টের প্রস্তাবেরও মিল রয়েছে।

“আমরা অত্যন্ত খুশি ও আনন্দিত যে আমাদের বাইরেও জাতীয় ঐক্যের প্রক্রিয়ায় অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট রয়েছে, ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গণফোরাম রয়েছেন, মান্নার নেতৃত্বে নাগরিক ঐক্য রয়েছে, আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বে জেএসডি রয়েছে।”

এর মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যুগপৎ আন্দোলনের সম্ভাবনাও দেখতে পাচ্ছেন বিএনপি নেতা মোশাররফ।

“আমরা বিশ্বাস করি, দেশের সকল দেশপ্রেমিক, পেশাজীবীসহ সমগ্র জনগণের যে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি হবে, তাতে এক ছাতার নিচে তারা আসবে।  আওয়ামী লীগ যত ষড়যন্ত্র করুক না কেন, জনগন যখন রাস্তায় নামবে কোনো ষড়যন্ত্র টিকবে না।”

এই আলোচনা অনুষ্ঠানে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাও ছিলেন, যিনি বি চৌধুরী নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টের সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন।

মান্না বলেন, “দাবি এটাও তুলতে হবে অবশ্যই সংসদ ভেঙে দিতে হবে, অবশ্যই এই সরকারকে বিদায় নিতে হবে, অবশ্যই একটা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে হবে।

“এই দাবিগুলো আদায় করে তারপরেই আমরা নির্বাচনে যাব। সেই নির্বাচনের গণতন্ত্রের বিজয় অবশ্যম্ভাবী। আমি সেই সুন্দরের অপেক্ষায় আছি সেদিন দেখব, রাস্তায় লক্ষ কোটি জনতা হাততালি দিতে দিতে বলবে, স্বৈরাচারের পতন ঘটেছে।”

স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, বিএনপি নেতা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খালেদা ইয়াসমীন, নিপুণ রায় চৌধুরী, জাসাসের সহসভাপতি শাহরিয়া ইসলাম শায়লা বক্তব্য রাখেন।