বিনা পয়সায় শিক্ষক নিয়োগ

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছে বিনা পয়সায়। এ ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণ, উৎকোচ কিংবা উপঢৌকন গ্রহণ করা হয়নি। তবে কতিপয় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অসৎ উদ্দেশ্যে সুপারিশকৃতদের নিয়োগ নিয়ে এখনো টালবাহানা করছে বলে জানিয়েছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)।

এনটিআরসিএ সূত্রে জানা গেছে, ১২ হাজার ৬১৯ শিক্ষক নিয়োগপ্রত্যাশী প্রার্থীকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। যাদের ওইসব প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণ, উৎকোচ কিংবা উপঢৌকন ছাড়াই নিয়োগ দিতে বাধ্য। এমনকি সাত হাজারের বেশি প্রার্থীর চাকরিও হয়ে গেছে, তাদের এক টাকাও খরচ করতে হয়নি। তা ছাড়া নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতির কোনো সুযোগ নেই।

এ প্রসঙ্গে এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান (অতিরিক্তি সচিব) এএমএম আজহার আমাদের সময়কে বলেনÑ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণ, উৎকোচ কিংবা উপঢৌকন ছাড়া নিয়োগ হতো না, এ বদ্ধমূল ধারণা পাল্টে দিয়েছে এনটিআরসিএ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মানসম্পন্ন ও যোগ্য শিক্ষক নিয়োগের লক্ষ্যে যথোপযুক্ত শিক্ষকমান নির্ধারণ করে থাকে এ প্রতিষ্ঠানটি।

তবে সুপারিশপ্রাপ্তদের নিয়োগ বিড়ম্বনার কথা স্বীকার করে চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের মানসিকতা পরিবর্তন করা অনেক দূরহ একটি বিষয়। কতিপয় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ লোভ, অসৎ উদ্দেশ্যে এবং অজ্ঞতার কারণে এনটিআরসিএ প্রত্যয়নপ্রাপ্তদের নিয়োগ নিয়ে টালবাহানা করছে। তবে এদের সংখ্যা খুব কম। যারা এমনটা করছেন, তাদের বিষয় খোঁজ নিচ্ছে সরকার। শিগগির তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করা হবে। আইন-বিধি অনুযায়ী শাস্তি পেতে হবে অভিযুক্তদের।

নিয়মানুযায়ী, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রথমে এনটিআরসিএর সঙ্গে নিবন্ধিত হয়। পরে তাদের বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের শূন্য পদের চাহিদা দেয়। এরপর ওই পদে নিয়োগপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে আবেদন গ্রহণ করা হয়। নেওয়া হয় প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনী পরীক্ষা। চাহিদা অনুযায়ী মেধার ভিত্তিতে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন দেওয়া হয়। সম্প্রতি তাদের মধ্য থেকে সাড়ে সাত হাজারের বেশি প্রার্থী বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগও পেয়েছেন।

বাকিদের নিয়োগ নিয়ে জটিলতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অযথা শূন্য পদের চাহিদা দিয়েছে। কোথাও অন্তর্বর্তীকালীন ম্যানেজিং কমিটি, কোথাও নিয়োগপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে অর্থ চাওয়া হচ্ছে আবার কোথাও প্রার্থীদের নিয়োগে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। যদিও এসব বিষয় খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, অতীতের প্রাতিষ্ঠানিক ও কারিগরি দুর্বলতা কেটেছে। বর্তমানে পরীক্ষা সংক্রান্ত কার্যক্রম ডিজিটাল পদ্ধতিতে হয়। অত্যন্ত স্বচ্ছ ও নির্ভুলভাবে প্রার্থীদের আবেদন বাছাই, পরীক্ষার মূল্যায়ন এবং মেধাতালিকা নির্বাচন করা হয় বিশেষ সফটঅয়্যারে।

চেয়ারম্যান বলেন, আধুনিক জ্ঞানসমৃদ্ধ মানুষই হতে পারেন একজন যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষক। এরাই ভবিষ্যৎ উপযোগী জ্ঞানবিজ্ঞানে জাতিকে সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলেন দক্ষ মানবসম্পদে। এ কারণে যোগ্য শিক্ষক প্রার্থী নির্বাচন এবং নিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এনটিআরসিএ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা না থাকায় অনেক অভিযোগ, সমালোচনা, প্রচারণা রয়েছে বলে মনে করেন প্রতিষ্ঠানের এই নির্বাহী কর্মকর্তা।

সমসাময়িক ইস্যু করা বিজ্ঞপ্তি, নোটিশ ভালো করে না দেখার কারণেও এনটিআরসিএ সেবাগ্রহীতাদের কাছে অনেক অসঙ্গতি মনে হয় উল্লেখ করে চেয়ারম্যান বলেন, প্রতিটি বিজ্ঞপ্তি ভালো করে বুঝে অগ্রসর হলে কারো কোনো অভিযোগ থাকবে না।

এএমএম আজহার আরও বলেন, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রায় ছয় লাখ প্রার্থীকে এ পর্যন্ত প্রত্যয়ন দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা সংক্রান্ত কার্যক্রম অত্যন্ত স্বচ্ছ ও নির্ভুলভাবে সম্পাদনে এনটিআরসিএর নিরন্তর প্রয়াস অব্যাহত। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা, সহমর্মিতা এবং পরামর্শ আন্তরিকভাবে প্রয়োজন বলেও মনে করেন বর্তমান চেয়ারম্যান।

জানা গেছে, দেশে প্রায় ৩৩ হাজার বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যা দেশের সমগ্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৯৮ শতাংশ। যেখানে শিক্ষক নির্বাচনসহ সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য ২০০৫ সালে একটি আইনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) নামে স্বায়ত্তশাসিত এ প্রতিষ্ঠান। এক্ষেত্রে যোগ্যতা নির্ধারণী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন প্রদান, নিবন্ধিত ও প্রত্যয়নকৃত শিক্ষক প্রার্থীদের তালিকা প্রস্তুত করাসহ ক্ষেত্রবিশেষে প্রশিক্ষণও দেয় এনটিআরসিএ। আর নিবন্ধন পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ, ফি গ্রহণসহ সব কাজ টেলিটকের মাধ্যমে করা হয় অনলাইন ও এসএমএস পদ্ধতিতে।