বিকল্প ব্যবস্থা না করে বন্ধ লেগুনা,ব্যাপক ভোগান্তিতে যাত্রীরা

রাজধানীর দুই-একটি সড়ক ছাড়া সব সড়কেই লেগুনা চলাচল বন্ধ রয়েছে। লেগুনা চলাচল বন্ধের কারণে যাতায়াতে ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে যাত্রীদের। বিকল্প ব্যবস্থা না করে লেগুনা বন্ধ করায় ডিএমপি কমিশনারের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সাধারণ যাত্রীরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আজ বুধবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে ঢাকা নিউ মার্কেট থেকে পুরান ঢাকার বিভিন্ন গন্তব্য- নিউমার্কেট থেকে ফার্মগেট, মোহাম্মদপুর থেকে মিরপুর, মোহাম্মদপুর থেকে মহাখালী, মিরপুর থেকে মহাখালী, গুলিস্তান থেকে মুগদা, বাসাবো, খিলগাঁও ও রামপুরা থেকে গুলিস্তান সড়কে লেগুনা চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে নিউমার্কেট থেকে আর্টি বাজার, ঢাকা উদ্যান থেকে শ্যামলী ও মোহাম্মদপুর থেকে শ্যামলী সড়কে লেগুনা চলছে।

উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালের দিকে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া জানিয়েছেন, রাজধানীর সড়কগুলোতে সবচেয়ে বেশি বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তৈরি হয় লেগুনার কারণে। সড়কে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণও এই লেগুনা। কাজেই রাজধানীতে আর লেগুনা চলবে না।

তিনি আরও বলেন, ‘লেগুনার কোনো রুট পারমিট নেই। রাজধানীতে এতদিন যারা লেগুনা চালিয়েছে, তারা অবৈধভাবে তা চালিয়েছে। তাই রাজধানীতে তাদের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে।’

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার বক্তব্যের পর মালিকেরা লেগুনা বন্ধ রেখেছেন। তবে মালিক ও চালকরা গতকাল রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন। তারা তাদের সমস্যার কথা বলেছেন। বিকল্প ব্যবস্থা কিংবা লেগুনা চালকদের কর্মস্থানের ব্যবস্থার কথা জানিয়েছেন তারা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাদেরকে আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন লেগুনার মালিক ও চালকরা।

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)-র হিসাব অনুযায়ী ঢাকা মহানগরীতে অনুমোদিত লেগুনার সংখ্যা ২ হাজার ৫২৫টি। যদিও বাস্তবে সে সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি।

মোহাম্মদপুর থেকে শ্যামলী সড়কের লেগুনা চালক আবুল হোসেন বলেন, ‘আমরা ঝিগাতলা থেকে মিরপুর-১ সড়কে লেগুনা চালিয়ে থাকি। কিন্তু সকাল থেকে শুধু মাত্র মোহাম্মদপুর থেকে শ্যামলী পর্যন্ত লেগুনা চালিয়ে যাচ্ছি। গাড়ির মালিকদের নিষেধ আছে এই সড়কের বাহিরে যেন না যাই।’

এ বিষয়ে শ্যামলী লেগুনা স্টপেজের কয়েকজন চালক জানিয়েছেন, আমরা গাড়ি কিস্তিতে নিয়েছি। লেগুনা না চালালে কী ভাবে কিস্তি দেব। তাদের আয়ে চলে ৫/৬ সদস্যের পরিবার। লেগুনা না চালাতে পারলে না খেয়ে মরতে হবে।

রাজধানীতে লেগুনা না থাকায় মোড়ে মোড়ে যাত্রীদেরকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে সকাল থেকে। যেসব সড়কে বাস চলে সেই সব সড়কে বাসে উঠতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে যাত্রীদের। বিশেষ করে অফিস যাওয়ার সময় বাসে ওঠা দায় হয়ে পড়েছে। তুলনামূলক ভাবে যাত্রীদের চাইতে বাস কম হওয়া দীর্ঘ অপেক্ষার পর কোন বাস এলেও তাতে ওঠার জন্য ধস্তাধ‌স্তি করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় যুবকরা গায়ের শক্তি খাটিয়ে কোন মতে ওঠতে পারলেও বয়স্ক এবং নারীরা তা পারছেন না। যাত্রীর পরিমাণ বেশি থাকায় সিটিং সার্ভিস নামে চলা বাসগুলোও দাঁড় করিয়ে যাত্রী বহন করে চলেছে।

রাজধানী ধানমন্ডি সাত মসজিদ সড়কের ১৫ নং বাস স্টপেজে বাস কিংবা লেগুনার জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে যাত্রীদের।

সেখানকার যাত্রী আব্দুল মোমেন বিডি২৪লাইভকে বলেন, ‘হঠাৎ করে লেগুনা বন্ধ করে দেওয়ায় আমাদের জন্য দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিকল্প ব্যবস্থা না করে লেগুনা বন্ধ করাটা কতটা যৌক্তিক? সকালে ধানমন্ডি থেকে লিংকরোড গিয়ে অফিস করতে হয়। লেগুনা বন্ধ করায় প্রায় ১ ঘন্টা অপেক্ষা করে কোন গাড়ি পাচ্ছি না।’

৬০ ফিট এলাকার লেগুনা মালিক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আজকে আমাদের লেগুনা চলতে দিচ্ছে না। বলা হচ্ছে, সড়কে অনুমোদন নেই। তাহলে এতো দিন কেন চলতে দেওয়া হল। আমরা এতো টাকা ব্যয় করে লেগুনা কিনেছি। এখন লেগুনাগুলো কী করবো। আজকে আমাদের লেগুনা চলতে দিচ্ছে না কিন্তু বাস পারমিট ছাড়াই চলতে দিচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সড়কে বাস যদি চলতে পারে তাহলে লেগুনা কেন চলতে পারবে না। যে সকল লেগুনার রুট পারমিট আছে সেই লেগুনা চলতে না দেওয়া অন্যায়। লেগুনার জন্য রুট পারমিট দিয়ে সাধারণ যাত্রীদের সেবা করার সুযোগ চান এই মালিক।’