বিএনপি নির্বাচনে না এলে কিছুই করার নেই: শেখ হাসিনা

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলে আমাদের কিছুই করার নেই। গতবারও তারা নির্বাচন করেনি। তবে এবারও নির্বাচন সময় মতই হবে।

    প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবনে সোমবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

    বিএনপি-জামায়াতের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ২০১৪ সালে নির্বাচন ঠেকানোর নামে তারা আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। গাড়িতে পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ হত্যা করেছে। ২০১৩-১৫ পর্যন্ত তারা পাঁচশর মতো মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে।

    বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলার রায় প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, এতিমের টাকা মেরে খেলে আদালতও শাস্তি দেয়, আল্লাহর তরফ থেকেও দেওয়া হয়। আমাদের তো কিছু করার নাই। রায়টা তো আমি দিইনি, রায় দিয়েছে কোর্ট। মামলাটা করেছে ফখরুদ্দীন-মইনুদ্দীন সরকার। ফখরুদ্দীনকে তারা গভর্নর করেছিল। নয়জনকে ডিঙ্গিয়ে মইন উ আহমেদকে সেনাপ্রধান করেছিল। আর ইয়াজউদ্দীন তো তাদের ছিলই। মামলাটা তারা দিয়েছে। এই মামলাটা ১০ বছর চলেছে। এই মামলায় তিন বার জজ পরিবর্তন হয়েছে, সময় চেয়েছে ১০৯ বার। বহু টালবাহানা আপনারা দেখেছেন। ২৬১ দিনের মতো তারিখ পড়ল। আপিল বিভাগে ২২ বার রিট করা হয়েছিল। এত কিছুর পর তিনি মাত্র ৪৩ দিন কোর্টে হাজির হয়েছিলেন।

    শেখ হাসিনা বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে আমাকে শ্যাওলা ধরা একটি ভবনে রাখা হয়েছিল, খাট ছিল ভাঙা। আর তাকে (খালেদা জিয়া) রাখা হয়েছিল স্পিকারের বাড়িতে, তার সঙ্গে এই ফাতেমাকে দেওয়া হয়েছিল। এটা গোপন ছিল। ডিআইজি হায়দার (সামছুল হায়দার সিদ্দিকী) সাহেবকে জিজ্ঞাস করলেই জানতে পারবেন।

    শেখ হাসিনা বলেন, অনেকে আছে ভাগ্যবতী, কেবল নিতেই পারে, আবার কেউ দিতেই পারে। আমরা দুই বোন, আমাদের একটা মাত্র বাড়ি। আমার আব্বা সারাজীবন জনগণের জন্য কাজ করেছেন, ওই বাড়িটি তাই জনগণের জন্য দিয়ে দিয়েছি। আমরা ট্রাস্ট করে ১৭০০ থেকে ১৮০০ জনকে সহায়তা করি। আমরা এটা নিয়ে খুব একটা প্রচারও করি না। আর কেউ যদি এতিমের টাকার মায়া ত্যাগ করতে না পারে, তা নিয়ে আমার কিছু বলার নেই।
    বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অবর্তমানে তারেক রহমানকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন করা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন করার মতো একজন নেতাও কি পাওয়া গেল না! বিএনপির নেতৃত্বে কী এতই দৈন্যদশা! দলের চেয়ারপাসনের কি দেশের কোনো নেতার প্রতি ভরসা নেই? দেশে কাউকেই পাওয়া গেল না, অথচ বিদেশে থাকা পলাতক একজন আসামীকে চেয়ারপারসন করতে হলো। দেশে থাকা একজন নেতারও কি চেয়ারপারসন হওয়া যোগ্যতা নেই?
    ১/১১ সরকারের সময় গ্রেফতার হওয়ার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমি তখন গ্রেফতার হওয়ার পরপরই জিল্লুর রহমানকে দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দিয়েছি। আমার আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে কাউকেই এ দায়িত্ব দেইনি। যোগ্যতা অনুযায়ীই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    সাম্প্রতিক সময়ে প্রশ্নফাঁস নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রশ্নফাঁসে কে জড়িত, তার নাম বলুন, ব্যবস্থা নেব। মন্ত্রী আর সচিব গিয়ে তো প্রশ্নফাঁস করেনি, তাদের কেন সরে যেতে হবে, যারা করেছে তাদের ধরিয়ে দেন, ব্যবস্থা নেব।

    প্রশ্ন ফাঁস নতুন কিছু না, কখনও প্রচার হয়, কখনও প্রচার হয় না- মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, পরীক্ষা শুরুর ২০ মিনিট আগে প্রশ্ন দেয়া হয়, এটা তো জানা কথা। এখন সবার হাতে ফোন, কেউ ছবি তুলে দিতে পারে। ২০ মিনিট আগে প্রশ্ন ফাঁস হলে আপনি কি করবেন? আর আমাদের এখানে এত ট্যালেন্টেড কে আছে, আধা ঘণ্টা আগে, ২০ মিনিট আগে ওই প্রশ্ন অনুযায়ী বই খুলে উত্তর মুখস্থ করে খাতায় লিখবে?

    রোহিঙ্গাদের আবাসস্থল নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা এখন বালুখালীতে আছে। আমরা চাচ্ছি এদের একটা অস্থায়ী ক্যাম্প করে রাখতে। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়ার আগে তাদের থাকার জন্য ভাসানচরে ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। প্রথমে এক লাখ মানুষের বসবাসের ব্যবস্থা করা হবে।

    মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে নানা টালবাহানা করেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তারা আট হাজারের কথা বলেছে, আমরা বলছি আট হাজার আগে নিক। তারপর আমরা দেখব, তারা এদের সঙ্গে কী ব্যবহার করে। আমরা বলেছি, সমস্যা সৃষ্টি করেছে মিয়ানমার, সমাধান তাদেরই করতে হবে। এখন একটা সমঝোতা হয়েছে। তারা আট হাজার পরিবারের তালিকা তৈরি করতে বলেছে। তালিকা সবই তৈরি হয়ে গেছে।
    শেখ হাসিনা বলেন, যখন ঢোকা শুরু হল, তখনই প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে টাকা দিয়ে তালিকা, বায়োমেট্রিক নিবন্ধন করেছি। যারাই ঢুকেছে, তাদের ছবি নিয়ে আইডি কার্ড করিয়ে রেখেছি। এখন মিয়ানমার অস্বীকার করতে পারবে না যে এরা তাদের না।

    ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন অপপ্রয়োগের বিষয় সাংবাদিকদের আশঙ্কার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে শঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। কেউ কোনো কিছু না করলে অপপ্রয়োগ হবে