বাড়ছে মানুষ বাড়ছে টেনশন

    মস্কোর স্থানীয় পরিবেশটা বেশ টিপটপ ছিমছাম। রাজধানীর অন্যতম বিলাসবহুল এ এলাকায় ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপ টিকেটধারীদের ভীর বাড়ছে। প্রধান সড়ক ও মেট্রো স্টেশনে দাঁড়ালে চোখে পড়ছে লাগেজ হাতে শত শত মানুষের খন্ড খন্ড দল। বিশ্বকাপ শুরুর এক দিন বাকি থাকতেই মস্কোর সবগুলো হোটেল-মোটেল আর বোটেল গুলো গমগম করছে ফুটবলপ্রেমীদের পদচারণায়। বিশ্বের প্রায় সব কটি দেশের মানুষের মিলনমেলা দেখতে পাওয়া যাবে রাশিয়ার ১১ শহরের ১২ ভেন্যুর আশপাশ এলাকা জুড়ে। অবশ্য বিশ্বকাপে অংশ নেয়া ৩২ দেশের সমর্থকদেরই বেশি চোখে পড়বে পুরো রাশিয়ার পথে পথে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সাধারন সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ দৈনিক আমার সংবাদকে জানান, বাংলাদেশের নিযুক্ত রাশিয়ান কালচারাল সেন্টারের সহযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে বিশ্বকাপের খেলাগুলো সরাসরি উপভোগ এবং খেলার খবর সংগ্রহ করতে বিভিন্ন মিডিয়া হাউজের প্রায় ৩৫ জন সাংবাদিকসহ মোট ৩ হাজার ৩৫ জন এবার রাশিয়ায় যাচ্ছেন। এদিকে, মস্কোতে এখন বড় সমস্যা হোটেল। ভিনদেশিদের গলায় ঝুলানো ফ্যান আইডি কার্ড। রাস্তায় রাস্তায় সাজ সাজ রব। সবই চলছে এক নিয়মের মধ্যে। তবে নিজ নিজ দলের সমর্থকদের মাঝে এখন বিরাজ করছে মহামিলন আর আনন্দের মধ্যে টেনশন আর টেনশন। কেমন করবে নিজ দেশ আর সমর্থনের দলটি প্রথম ম্যাচে। অপরদিকে, মুঠো ফোনে মস্কো থেকে জানা গেছে, বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে হোটেল মালিকরা রুম ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন। ১৩ জুনের পর ভাড়া বাড়িয়ে করা হয়েছে চার থেকে পাঁচগুণ। হোটেল না পাওয়া অনেক দর্শককে দেখা গেছে মেট্রো স্টেশনে লাগেজে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে নিতে। হোটেল না পাওয়ার টেনশন বাড়ছে দিন দিন বিদেশিদের। কারণ, মাঝে মধ্যেই চুরির ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। মস্কোর রাস্তায় বের হলেই চোখে পড়ে বিভিন্ন দেশের জার্সি গায়ের দর্শক। বিশ্বের বৃহত্তর দেশের রাজধানীতে দিন দিন যেমন মানুষ বাড়ছে, তেমন ব্যস্ততা বাড়ছে মস্কো পুলিশের। হোটেলগুলোয় প্রায় নিয়মিত পুলিশ আসছে এবং অতিথিদের খোঁজখবর নিচ্ছে। কখনো কখনো হোটেল বর্ডারদের পাসপোর্টও পরখ করছেন পুলিশের লোকজন। তারা অতিথিদের একটি স্লিপ ধরিয়ে দিচ্ছেন এবং সেটা সার্বক্ষণিক সঙ্গে রাখার পরামর্শ দিচ্ছে হোটেল কর্তৃপক্ষ। মস্কো আসা বিভিন্ন দেশের মানুষদের মধ্যে কেউ জঙ্গি তৎপরতার সঙ্গে সম্পৃক্ত কিনা, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এদিকে, বিশ্বমঞ্চে তারকাদের লড়াইয়ে নামার আবহে সেজে উঠেছে মস্কো। ফ্যান জোন-এ ফুটবল ভক্তদের ভিড়। সোমবার থেকেই। দু’বছর আগে রবি উইলিয়ামসকের গানের উপর নিষেধাজ্ঞা জারির দাবিতে সরব হয়েছিল রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম। হয়েছিল নানা প্রতিবাদ সভাও। বিশ্ব খ্যাত পপ গায়কের প্রকাশিত অ্যালবাম দ্য বুটস ইন এ এমন কিছু শব্দ ব্যবহার করা হয়েছিল যাতে অপমানিত হয়েছিলেন লেনিনের দেশের মানুষ। তাই আয়োজকদের বাড়ছে টেনশন। গ্রেট বৃটেনের সেই বিতর্কিত পপ গায়ক রবি উইলিয়ামসকেই ফিরিয়ে আনা হচ্ছে রাশিয়ার ইতিহাসে দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রীড়াযজ্ঞ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে। লুঝনিকি স্টেডিয়ামের আশি হাজার দর্শক এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত বৃহস্পতিবার ছড়িয়ে পড়বে তাঁর সুরের মুর্চ্ছনা। রাশিয়া বনাম সৌদি আরব ম্যাচের আগে আধ ঘণ্টার জন্য সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠান হবে। আগের সব বিশ্বকাপের সূচির সামান্য বদল ঘটিয়ে ফিফার পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানের যে তালিকা ও তথ্য প্রকাশিত হয়েছে তাতে দু’বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের প্রাক্তন তারকা রোনালদোই এক মাত্র ফুটবলার হিসাবে আলোকিত করবেন মঞ্চ। বিশ্বখ্যাত পপ তারকা উইলিয়াম ছাড়াও রাশিয়ার যুব সমাজের হার্ট থ্রব সোপ অপেরার জনপ্রিয়তম গায়িকা আইদা গ্যারিফ্লুনাকেও দেখা যাবে গানে গানে মঞ্চ মাতাতে। সঙ্গে থাকবে রাশিয়ার সংস্কৃতির ছোঁয়া।