বরিশালের সঙ্গে ও মাশরাফিদের হার

    মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের গ্যালারি দর্শকে ঠাসা। বিপিএলের চতুর্থ আসরে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দর্শক ছিল শুক্রবার ছুটির দিন। কিন্তু টি-টোয়েন্টি মানেই যে চার-ছক্কার বৃষ্টি, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস-বরিশাল বুলসের ম্যাচে সেটি দেখা যায়নি। বরিশালের দর্শকদের যা একটু তৃপ্তি, দল জিতেছে ৬ উইকেটে।

    শুধু আজই নয়, এবার বিপিএলে এখন পর্যন্ত বড় স্কোরের ম্যাচ হয়নি। প্রথম ম্যাচে কুমিল্লার বিপক্ষে টিটাগং ভাইকিংস করেছে ১৬১। এরপর আর কোনো ইনিংস ১৫০ পেরোয়নি। আজকের ম্যাচও লো স্কোরিং। ম্যাচে চারই হয়েছে ২০টি আর ছক্কা ৬টি।

    ১৩০ রানের লক্ষ্য নিয়ে শুরু করে খুব একটা স্বচ্ছন্দে এগোতে পারেনি বরিশাল। দুই ওপেনার দিলশান মুনাবীরার স্ট্রাইকরেট ৭৮.৯৪ ও শামসুর রহমানের ৬১.৫৩। অদ্ভুত ব্যাটিং করেছেন শামসুর। নাবিল সামাদের বলে ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে গিয়ে লং অনে ইমাদ ওয়াসিমের ক্যাচ হওয়ার আগে ২৬ বলে করেছেন ১৬ রান। বাউন্ডারি মাত্র একটি। ১০ ওভার শেষে স্কোরবোর্ডে বরিশাল ৪৮/১। রান রেট ৫-এরও নিচে।

    মুনাবীরা-শামসুর বরিশালের সমীকরণটা যতটা কঠিন করে তুলেছেন, মুশফিকুর রহিম-থিসারা পেরেরা চতুর্থ উইকেটে সেটিই সহজ করে ফেলেছেন। আগের ম্যাচের মতো এদিনও মুশফিকের ব্যাট কথা বলেছে। সোহেল তানভীরের বলে লিটন দাসের ক্যাচ হওয়ার আগে ২৩ বলে করেছেন ৩৩। দুটি ছক্কা মেরেছেন, দুটিই প্রিয় স্লগ সুইপে। আর ২০ বলে অপরাজিত ৩৪ করে দলকে জয়ের প্রান্তে পৌঁছে দিয়েছেন পেরেরা।

    মারলন স্যামুয়েলস কুমিল্লার পক্ষে ইনিংস সর্বোচ্চ ৪৮ রান করলেও তাঁর নামের পাশে ১৯টা ডট বল। চাইলে নাজমুল হোসেন শান্ত-ইমাদ ওয়াসিমের দুটি রান আউট ঠেকাতে পারতেন তিনি।

    ১৭ ওভার শেষেও কুমিল্লার রানরেট ৬-এর নিচে। দলটির রানরেট শেষ পর্যন্ত যে ৬-এর ওপরে উঠেছে, সেটি সোহেল তানভীরের ছোট্ট ঝোড়ো ইনিংসের সুবাদে (১৯ বলে ৩০)। ইনিংসের প্রথম ছক্কাটি হয়েছে ১৭তম ওভারে এসে। কুমিল্লার যে তিনটি ছক্কা হয়েছে, তিনটি আবু হায়দারের বলে। সব কটিই মেরেছেন তানভীর।

    স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ না হতেই তাইজুল ইসলামের বলে বোল্ড ইমরুল কায়েস! শুরুর ধাক্কাটা পরে আর কাটিয়ে উঠতে পারেনি কুমিল্লা। ম্যাচের ফলেও পড়েছে তার প্রভাব। ৯ বল হাতে রেখেই জিতে যায় বরিশাল। এটি বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লার টানা দ্বিতীয় হার।