বরগুনায় চুরির অভিযোগে দ্বিতীয় শ্রেণির শিশু নির্যাতন

মেহেদী হাসান,বরগুনা প্রতিনিধিঃ বরগুনায় চকলেট চুরির অভিযোগে রাজিব (৭) নামে এক শিশুকে নির্যাতন করেছে জসিম নামে একজন ব্যবসায়ী। বরগুনার স্টেডিয়াম এলাকায় (১৯ মার্চ) সোমবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। আহত অবস্থায় এলাকাবাসী শিশুটিকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ব্যবসায়ী জসিমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রাজিব বরগুনা শিশু সদনের তত্ত্বাবধানে গগন মেমোরিয়াল বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে।শিশু নির্যাতনের ঘটনায় এলাকায় প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রাজিব বরগুনা সদর উপজেলার যুগিয়া এলাকার মামুন ও রেখা দম্পতির সন্তান। বাবা-মার বিচ্ছেদের পর গত চার বছর ধরে সে বরগুনা এতিমখানা শিশু সদনের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। সোমবার বিকেলে স্টেডিয়াম এলাকার ব্যবসায়ী জসিম চকলেট চুরির অপবাদে তার দোকানের সামনে শিশু রাজিবকে বেধড়ক মারধর করে ফেলে রাখে। অচেতন অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে বরগুনা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে। ঘটনার পরপর বরগুনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জসিমকে গ্রেফতার করেছেন। বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. হুমায়ুন হাসান শাহীন বলেন, ঘটনাটি হৃদয় বিদারক। শিশুটির শরীরে বাহ্যিক কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তার শরীরের অভ্যন্তরে আঘাত পরীক্ষার করা হচ্ছে। তবে সে মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত এটা আমরা নিশ্চিত। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বরগুনা সরকারি শিশু পরিবারের উপতত্ত্বাধায়ক লায়লা আনজুম তানিয়া বলেন, খবর পেয়ে আমরা শিশুটিকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছি। সেখানকার চিকিৎসকদের পরামর্শে রাজিবকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তানিয়া আরও বলেন, বরগুনা থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।বরগুনার জেলা প্রশাসক মো.মোখলেছুর রহমান বরগুনা হাসপাতালে এসে চিকিৎসাধীন শিশুটির শারীরিক অবস্থার খোঁজ খবর নিয়ে তাকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া পুলিশকে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করেছেন।বরগুনার পুলিশ সুপার বিজয় বসাক বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক বরগুনা থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং ঘটনায় জড়িত ব্যবসায়ী জসিমকে আটক করে। আমরা শিশুটির চিকিৎসার সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তাকে আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের আইনি ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।