বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, মিথ্যা ও সাজানো মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেওয়ায় জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে তার। তাকে সাজা দিয়ে বিএনপিকে নেতৃত্বহীন, দুর্বল, এমনকি দল ভাঙার ষড়যন্ত্রও কাজে আসবে না। শত অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করে বিএনপির নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ আছেন এবং থাকবেন। পাশাপাশি বিএনপি ও খালেদা জিয়াকে বাইরে রেখে নির্বাচন করতে সরকারের নীলনকশাকে জনগণ সফল করতে দেবে না। সরকারের ফাঁদে পা দেননি তারা। সরকার হতাশ। পরিস্থিতি বুমেরাং হয়েছে।

সাবেক মন্ত্রী আরও বলেন, মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার এই শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে তার ভাবমূর্তি ও জনপ্রিয়তা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। জনগণ সুস্পষ্টভাবে জেনে গেছে, জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ‘ভুয়া কাগজ’ তৈরি করে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে তাকে। সাবেক মন্ত্রী বলেন, এই মামলার সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার কোনো সম্পৃক্ততা প্রমাণ করতে পারেনি সরকার। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ২ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলা করা হয়েছে। অথচ ট্রাস্টের অ্যাকাউন্ট থেকে এক টাকাও উত্তোলন করা হয়নি। বরং ওই অ্যাকাউন্টের টাকা সুদে-আসলে এখন ৬ কোটি টাকা হয়ে জমা পড়ে আছে। তাহলে কীভাবে এতিমের টাকা আত্মসাৎ করলেন খালেদা জিয়া?

একই সঙ্গে ড. মোশাররফ বলেন, মামলার বিচার চলাকালে খালেদা জিয়া এতিমদের টাকা খেয়েছেন বলে বক্তব্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী- এতে আদালত প্রভাবিত হয়েছে। রায়ের আগেই আওয়ামী লীগের নেতারাও প্রকাশ্যে গণমাধ্যমকে বলেছেন, খালেদা জিয়ার সাজা হবে। এসব ঘটনা থেকে জনগণের বিশ্বাস- এ মামলায় শাস্তি দেওয়ার মতো কোনো তথ্য-উপাত্ত-প্রমাণ ছিল না। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) খালেদা জিয়াকে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় চার্জশটি দিলেও শাস্তি দেওয়া হলো প্যানাল কোর্টের ধারায়। ঘন ঘন খালেদা জিয়ার হাজিরা দেওয়াসহ মামলার তাড়াহুড়ায় জনমনে সন্দেহ ও অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে যে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এ রায়টি হয়েছে। একই সঙ্গে রায়ের সার্টিফায়েড কপি ও কারাগারে ডিভিশন দেওয়ার ব্যাপারেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সাবেক মন্ত্রী বলেন, অন্যায়ভাবে সাজা দেওয়ায় বেগম জিয়া ‘দেশনেত্রী’ থেকে এখন ‘দেশ মাতা’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। জাতীয় নেতা থেকে ‘আন্তর্জাতিক নেতায়’ পরিণত হয়েছেন। এভাবে শাস্তি দেওয়ার পর জাতিসংঘ, যুক্তরাজ্যসহ পৃথিবীর বড় বড় দেশের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এই সাজা বিএনপি ও খালেদা জিয়াকে বাইরে রেখে নির্বাচন করার ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মনে করেন জনগণ। কিন্তু সরকারের এহেন স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট আচরণ ও সারাদেশে গ্রেফতার-নির্যাতনের স্টিম রোলার চালানোর ঘটনায় জনগণ বিক্ষুব্ধ ও বিরক্ত।

সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার পদত্যাগের নাটকে বিচার বিভাগ আজ প্রশ্নের সম্মুখীন বলে অভিযোগ করেন ড. মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনকে কারাগারে প্রেরণ ও সিনিয়র নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের গ্রেফতার ও নির্যাতনে জনগণ এ সরকারের হাত থেকে মুক্তি চায়। সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রত্যাশা করে।

তিনি বলেন, জনগণ খালেদা জিয়া ও গণতন্ত্রকে এক ও অভিন্ন মনে করে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের স্বার্থে তাকে কারামুক্ত করে তার নেতৃত্বে প্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ জনগণ।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো আর একটি নির্বাচন এ দেশের জনগণ চায় না বলে দাবি করেন বিএনপির শীর্ষস্থানীয় এ নেতা। সরকার যদি আবার সেই পথে অগ্রসর হয়, দেশে যে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হবে, জনগণ তা উত্তরণের পথ বেছে নেবে বলে তার দৃঢ়বিশ্বাস।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিএনপির কর্মসূচি এবং করণীয় সম্পর্কে নানা কথা বলছেন, যা অনভিপ্রেত ও এখতিয়ারবহির্ভূত। এমনকি প্রধানমন্ত্রীও আমাদের নেতৃত্ব ও দলের গঠনতন্ত্র নিয়ে মন্তব্য করেছেন।

তিনি বলেন, একটি দলের গঠনতন্ত্রে কী থাকবে ও নেতৃত্ব কে দেবেন- তা নিয়ে আরেকটি দলের নেতার কোনোরকম বক্তব্য রাখার অধিকার নেই। বিএনপি কীভাবে চলবে, কী কর্মসূচি নেবে- তা নির্ধারণের যোগ্যতা ও দূরদর্শিতা তাদের আছে। বিএনপি অন্য দলের পরামর্শ বা উস্কানিতে বিভ্রান্ত হবে না।

আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, যে দল ১৫৪ আসনে জনগণের ভোট ছাড়া বিনা নির্বাচনে ‘অনৈতিক’ সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেন, সেই অগণতান্ত্রিক, অবৈধ রাষ্ট্র পরিচালনাকারী দলের মুখে অন্য দলের গণতন্ত্র চর্চা ও গঠনতন্ত্র নিয়ে কথা বলা শোভা পায় না।