‘ফরহাদ এবার কাঁদালো থানার লোকজনকে’

    ফেসবুকের কল্যাণে অবশেষে পাওয়া গেল ফরহাদ হোসেনের বাবাকে। হালকা হালকা উচ্চারণে নিজের নাম বলাতে ফরহাদ শব্দটা আমরা “আহাদ” শুনেছি। আর বাড়ির কথা সাদিপুর বললেও আমরা ভুলবশত শুনেছি “গাজীপুর”।

    ফরহাদ জন্ম থেকেই কিছুটা Special Baby টাইপের মানুষ। তবে অত্যন্ত শান্তশিষ্ট স্বভাবের সে। সবসময় হাসিখুশিই থাকে।

    নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁও থানাধীন সাদিপুরের জনাব হাফেজ আহমেদ তার বাবা। তিনি একটা ফ্যাক্টরিতে কাজ করেন। তিন ছেলের মধ্যে মেঝো ছেলে ফরহাদ এর আগেও একবার হারিয়ে যায়। সেবার দুই বছর পর ফিরে পাওয়া যায় তাকে।

    গত শুক্রবারে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় অনেকটা খেয়ালী এই ফরহাদ। তখন থেকেই অত্যন্ত ঠাণ্ডা স্বভাবের এই ছেলেটির জন্য কান্নাকাটি করতে থাকেন ওর মা। বিভিন্ন পথ ঘুরে ঠাঁয় হয় যাত্রাবাড়ী থানায়। কিন্তু চলে যাওয়াতে ও এবার কাঁদালো থানার লোকজনকে। এই কয়দিন থানায় থাকা অবস্থায় ওর আচরণে যার পর নেই খুশি থানার সবাই। কখনো কাউকে বিরক্ত করেনি ফরহাদ। এমনকি কিছু খেতেও চাইতো না। কিছু বললেই হাসি মুখে আধো আধো কথা বলতো।

    ওর বাবার সাথে চলে যাবার সময় সবাইকে চমকে দিল ফরহাদ!! সামান্য টাকা ওকে হাতে দিলে ও হাসি মুখেই সাথে সাথে তা ফেরত দিয়ে আধো আধো কণ্ঠে বললো “স্যার, এটা আপনিই রাখেন”। হাসি পেলেও খুব আশ্চর্য হলাম।

    ছেলেটার এমন আচরণে সত্যি বিমোহিত হলাম। একজন “বিশেষ মানুষও” কতটা অমায়িক হয় তা নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করতে কষ্ট হত। এই কয়দিনে ওর প্রতি এক ধরনের মায়া জন্মানো আর ওর শেষের আচরণে ও চলে যাওয়াতে এক ধরনের বেদনা অনুভব করলাম। হয়ত কখনো এমন ফরহাদকে মেহমান হিসেবে আবারো চাইবো।