অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, তার প্রতিটি বাজেটই নির্বাচনি বাজেট। তিনি একটি দলের সদস্য ও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। সে হিসেবে তার বাজেট নির্বাচনি বাজেটই হবে। তিনি এমন বাজেট দেন যেটা মানুষ পছন্দ করবে। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা যা নির্ধারণ করা হয়েছে তা বাস্তবায়নযোগ্য বলেও তিনি বলেন।গতকাল রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অর্থ সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব কাজী শফিকুল আযম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ’ সেøাগানে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয় ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। এর মাধ্যমে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে চান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এরমধ্যে ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা যাবে সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি)। আর অনুন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৮২ হাজার ৪১৫ কোটি টাকা।বিশাল এই বাজেটে ব্যয় মেটাতে সরকারি অনুদানসহ আয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা। এনবিআর-বহির্ভূত কর ৯ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা। কর ব্যতীত রাজস্ব প্রাপ্তি ৩৩ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা। বৈদেশিক অনুদান ৪ হাজার ৫১ কোটি টাকা। মোট ঘাটতি ১ লাখ ২১ হাজার ২৪২ কোটি টাকা। সরকারের অর্থায়নে অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা থেকে ঋণ ধরা হয়েছে ৭১ হাজার ২২৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে যা আছে ৬০ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা। এদিকে, নিট ঋণ ধরা হয়েছে ৫০ হাজার ১৬ কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ ঋণ ৭১ হাজার ২২৬ কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী বলেন, কয়েকটি সংবাদপত্র বাংলা জানে না। তারা বলেছে ভুয়া বাজেট। দেশের উন্নয়ন চিত্র তথা পরিবর্তনের কথা স্বীকার করেন না সাংবাদিকরা।এর পর পরই প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘গরিব মারার বাজেট’ উল্লেখ করে প্রশ্ন করেন এক সাংবাদিক। উত্তরে মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে দারিদ্র্য বাড়ছে না। যিনি বলছেন দারিদ্র্য বাড়ছে, তিনি মিথ্যাবাদী। দেশে বৈষম্যও বাড়েনি। আপনারা এমন সব প্রশ্ন করছেন যে, আমার পক্ষে এগুলো সম্পর্কে বলতেও লজ্জা লাগে। আপনারা সাংবাদিক-শিক্ষিত লোক; যারা দেশের পরিবর্তন স্বীকার করে না।’ অপরদিকে অর্থমন্ত্রীকে করা এক প্রশ্নের উত্তরে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, আমরা ভার্চুয়াল বিজনেস যেমনÑ ইউটিউব, ফেসবুক এগুলোর উপর ট্যাক্স ধার্য করার প্রক্রিয়া শুরু করেছি। কিন্তু অনলাইন বিজনেস আমরা আলাদা করেছি এবং এটার উপর ভ্যাট বসাইনি। সাংবাদিকরা তখন মন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় অনলাইন কেনাকাটায় ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাবের বিষয়টি তুলে ধরলে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘ছাপায় হয়ত ভুল হতে পারে।’ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, সরকারি চাকুরেদের যেসব সুযোগ-সুবিধা বর্তমান সরকার দিয়েছে এর আগে তারা জীবনে তা চোখেও দেখিনি। বেতন ৪০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। ইনক্রিমেন্টের ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্বল্প সুদে গৃহনির্মাণ ঋণ দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এরপরও তারা (সরকারি চাকরিজীবীরা) আর কত সুবিধা চান- বলে প্রশ্ন করেন মুহিত। প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সরকারি কর্মচারীদের গৃহনির্মাণ ঋণকে বাস্তবসম্মত পর্যায়ে উন্নীত করার নির্দেশনা দেন। সরকারি কর্মচারীরা বিশেষত নবীন কর্মকর্তারা যেন একটি ফ্ল্যাট বা গৃহের মালিক হতে পারেন সেদিক লক্ষ্য রেখে ব্যাংকিংব্যবস্থার মাধ্যমে গৃহ নির্মাণ ঋণ প্রদানের বিষয়ে একটি নীতিমালার খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। আগামী অর্থবছরেই তা কার্যকর হবে বলে আশা রাখেন তিনি।তিনি বলেন, এ নীতিমালার আওতায় একজন সরকারি কর্মচারী দেশের যে কোনো স্থানে গৃহনির্মাণ বা ফ্ল্যাট ক্রয়ের জন্য ঋণ নিতে পারবেন। সহনীয় ও পরিশোধযোগ্য সুদে ব্যাংকিংব্যবস্থার মাধ্যমে এই ঋণ সরকারি কর্মচারীদের দেয়া হবে। ঋণের প্রকৃত সুদের অবশিষ্ট অর্থ সরকার ভর্তুকি বাবদ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে পরিশোধ করবে। এই ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর সরকারি সেবা প্রদানে কর্মচারীরা আরও উদ্যমী হবেন এবং সর্বত্র সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট হবেন বলেও তিনি বলেন। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চূড়ান্ত নীতিমালা অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য পাঁচ শতাংশ সুদহারে গৃহঋণের নীতিমালা চূড়ান্ত করেছে এ সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি। চূড়ান্ত নীতিমালার আওতায়