পাকিস্তানে ফিরে বিমান থেকেই গ্রেফতার হয়েছেন পাকিস্তানের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও পিএমএল-এন এর নেতা নওয়াজ শরীফ ও তার মেয়ে মরিয়ম নওয়াজ। শুক্রবার রাতে লাহোরের আল্লামা ইকবাল বিমানবন্দরে অবতরণের পরপরই তাদের গ্রেফতার করে দেশটির ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টেবেলিটি ব্যুরো। বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ১০টার দিকে নওয়াজ ও তার মেয়েকে বহনকারী ফ্লাইটটি লাহোরে অবতরণ করে।

এর আগে নওয়াজকে বহনকারী বিমানটি লন্ডন থেকে যাত্রা শুরুর পর শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় আবুধাবিতে যাত্রা বিরতি করে। সেখানে সাংবাদিকদের নওয়াজ বলেন, গ্রেফতারের ভয়ে তিনি ভীত নন। যেকোনও পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছেন তিনি। সেখান থেকে পরে ফ্লাইটটি লাহোরে আসে। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী ফ্লাইটটি লাহোরে অবতরণের সঙ্গে সঙ্গেই ডজনখানেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা বিমানে ওঠে অন্য যাত্রীদের নেমে যেতে বলে।

অন্য যাত্রীরা নেমে যাওয়ার পর নওয়াজ ও তার মেয়ের পাসপোর্ট জব্দ করে তিন সদস্যের ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন টিম। এরপর তাদের বোর্ডের পরিকল্পনা অনুযায়ী তাদের ইমিগ্রেশন আনুষ্ঠানিকতা শেষে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১০টার দিকে দুজনকে কারাগারে পাঠানো হয়।

গত শুক্রবার পাকিস্তানের অ্যাকাউন্টেবিলিটি কোর্ট নওয়াজ শরীফকে ১০ বছর ও তার মেয়ে মরিয়মকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেয়। এরপর থেকেই স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থানরত নওয়াজ শরীফ দেশে ফিরে রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের ঘোষণা দেন। ধারণা করা হচ্ছে আগামী ২৫ জুলাই জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সমর্থকদের উজ্জীবিত করতেই গ্রেফতারের ঝুঁকি মাথায় নিয়েই দেশে ফিরেছেন দেশটির তিনবারের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

তবে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী আগেই ঘোষণা দিয়েছিল নওয়াজ ফিরলেই তাকে গ্রেফতার করা হবে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী আজ নওয়াজের সমর্থকদের অবস্থান ঠেকাতে হাজার হাজার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। শেষ পর্যন্ত দেশে ফেরার পর তাকে গ্রেফতারও করা হলো।

এদিকে নওয়াজকে স্বাগত জানাতে লাহোরের বিভিন্ন পয়েন্টে নওয়াজের বিপুল সংখ্যক সমর্থক অবস্থান নেয়। তবে কড়া নিরাপত্তার কারণে তারা বিমানবন্দর এলাকায় ঘেষতে পারেননি। এ অবস্থায় লাহোর গেটে অবস্থান নিয়ে তারা নওয়াজকে স্বাগত জানিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন।