নেত্রকোনার স্বাস্থসেবার ইতিবৃত্ত পর্ব-১

নিগার সুলতানা কলি

জেলা সিভিল সার্জন অফিসের তথ্যানুযায়ী নেত্রকোনা সদর উপজেলার বেসরকারী ক্লিনিক ১০ টি, মোহনগঞ্জ উপজেলায় ১ টি, দূর্গাপুরে ৩ টি, মদন উপজেলায় ১ টি।
নেত্রকোনা সদর উপজেলায় বেসরকারী ডায়াগনস্টিক সেন্টার ৩৬ টি, আটপাড়া উপজেলায় ২টি, মোহনগঞ্জে ১৫ টি, বারহাট্টায় ৪ টি, মদনে ৫ টি, দূর্গাপুরে ৯টি, কেন্দুয়ায় ৭ টি, পূর্বধলায় ৬ টি, কলমাকান্দায় ৫ টি।
বারহাট্টায় পদ্ম ডায়াগনস্টিক সেন্টার (লাইসেন্স নং-৬৫৬২) লাইসেন্স পায় ২৫/১১/১৩ তারিখে ও মাইল্যাব ডায়াগনষ্টিক সেন্টার (লাইসেন্স নং-৯০৮২), লাইসেন্স পায় ২৮/১২/১৫ তারিখে। অন্যদিকে, কখনও সিডি ডায়াগনষ্টিক সেন্টার কখনওবা গ্রীণ ডায়াগনষ্টিক সেন্টার নামে হারুনুর রশিদ ফকির ও সায়েম তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে, তাদের নেই কোন লাইসেন্স। অথচ করছেন ইসিজি, প্যাথলজী, আলট্রাসনোগ্রাম সব পরীক্ষাই। সায়েমের স্ত্রী রোজীনা বেগম বারহাট্টায় সরকারী হাসপাতালের কর্মরত স্টাফ হওয়ার সুবাদে হাসপাতালে আসা রোগীদের সাথে দরদাম করেন হাসপাতালের ভিতরেই।

রক্ত, পশ্রাবের নমুনাও নেন হাসাপাতালে কর্মরত থেকেই। পরে গ্রীণ ডায়াগনষ্টিকের নামে রিপোর্ট দিয়ে দেন। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে হারুনুর রশিদ ফকির জানান, আমি নিজেও একসময় সাংবাদিক ছিলাম, এসব কোন বিষয় না। ইক্করা ডায়াগনষ্টিক সেন্টার নেই কোন লাইসেন্স, নেই কোন প্রশিক্ষিত টেশনিশিয়ান, নেই কোন ডাক্তার। কিন্তু, আশ্চর্য হলেও সত্যি যে, প্রতিদিনই রোগীদের ইসিজি, প্যাথলজি পরীক্ষার রিপোর্ট দিচ্ছেন প্রকৃতিপ্রদত্ত আধ্যাত্মিক ডাক্তার সালমা আক্তার। উনি ব্যস্ত থাকলে স্কুলপড়–য়া ৭ম শ্রেণীর ছাত্র বাবু কাজ চালিয়ে নেন। এমনকি সেসব পরীক্ষার ভিত্তিতেই ডাক্তার ঔষুধ দিচ্ছেন রোগীদের। যদিও কাগজেপত্রে সবকিছুই ঠিকঠাক রাখেন। এব্যাপারে সালমা আক্তার সনদ না থাকার কথা স্বীকার করেই জানান, ডাক্তারের সাথে থাকতে থাকতেই এসব শিখেছি।
এব্যাপারে নেত্রকোনা জেলা সিভিল সার্জন তাজুল ইসলাম জানান, বিষয়টি দেখছি।
চলবে…