নেতাদের চুপ থাকতে বললেন খালেদা

0
244
Smiley face

বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে গত কিছু দিন থেকে সিরিজ বৈঠক করে চলেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক ছাড়াও তিনি আলাদা করেও বসছেন তাদের সঙ্গে। এসব বৈঠকে বর্তমান রাজনীতির আলোকে কেন্দ্রীয় নেতাদের চুপ থাকারই পরামর্শ দিচ্ছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়সহ দলের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য জানান, আগামী জাতীয় নির্বাচন ও আন্দোলনসহ দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ইস্যুতে আপাতত দলের সিনিয়র নেতাদের চুপচাপ থাকতে বলেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। গত কয়েকদিনে দলের স্থায়ী কমিটির পাঁচজন সদস্যসহ বেশ কজন সিনিয়র নেতা দেখা করতে গেলে তাদের সবাইকে একই পরামর্শ দেন তিনি। বললেন, মন্ত্রী-এমপি কিংবা সরকারি দলের নেতারা যত উগ্র কথাবার্তা কিংবা যে যা-ই বলুক না কেন— তাদের ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না। এর পাশাপাশি দলীয় ঘরানার কয়েকজন বুদ্ধিজীবীও সাক্ষাৎ করেছেন তাঁর সঙ্গে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ মামলা-মোকদ্দমা নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন। কিন্তু তার জবাবে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, আমার বিরুদ্ধে মামলা নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা মামলা এগুলো। এটা দেশি-বিদেশি সবাই জানেন। বিএনপি ও আমাকে চাপে রাখার জন্যই এসব করা হচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে স্থায়ী কমিটির একজন প্রবীণ সদস্যকে বেগম খালেদা জিয়া বলেন, ভোট মানেই হলো— ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগ। এখন ভোটাররাই যদি ভোটকেন্দ্রে যেতে না পারেন, তারা যদি তাদের ভোটই দিতে না পারেন— তাহলে সেটি নির্বাচন হলো কী করে? এ জন্য প্রকৃত অর্থে— জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে হলে তাদেরকে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে। আর তার জন্য দরকার নিরপেক্ষ ব্যবস্থায় নির্বাচন। আর জাতীয় নির্বাচনের আগে অবশ্যই বর্তমান পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে হবে। কারণ এই সংসদের বেশিরভাগ সদস্যই বিনাভোটে নির্বাচিত। প্রধান বিচারপতি এই সংসদকে অকার্যকর বলে অভিহিত করেছেন সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল রায়ের পর্যবেক্ষণে। যা এখনো বহাল রয়েছে। অতঃপর আগামী জাতীয় নির্বাচন নিরপেক্ষ একটি সরকার ব্যবস্থার অধীনেই হতে হবে। এর আগে দলের স্থায়ী কমিটির সর্বশেষ বৈঠকেও বেগম খালেদা জিয়া একই মনোভাব ব্যক্ত করেছেন। গত রবিবার মুক্তিযোদ্ধাদের এক সমাবেশেও বেগম খালেদা জিয়া একই অবস্থান ব্যক্ত করে দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন, আন্দোলন এবং নির্বাচন দুটোর জন্যই একসঙ্গে প্রস্তুতি নিতে হবে। আগামী দিনে আমরা কর্মসূচি দেব। সেই কর্মসূচি পালন এবং জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ— দুটোর জন্যই সবাইকে একসঙ্গে প্রস্তুতি নিতে হবে। আপনারা প্রস্তুতি নিন। তার আগে শনিবার রাতে গুলশান কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ২০১৮ সাল হবে গণতন্ত্রের বছর। নতুন বছর মানুষের স্বস্তি ও শান্তির বছর হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

LEAVE A REPLY