নিউজিল্যান্ডের স্ট্রবেরিতে সুই আতঙ্ক

অস্ট্রেলিয়াতে আতঙ্ক শেষ হতে না হতেই এবার নিউজিল্যান্ডের স্ট্রবেরিতে পাওয়া গেল সুই। অকল্যান্ডের একটি সুপারমার্কেট স্ট্রবেরির বাক্সে সুই পাওয়ার ঘটনায় দেশটিতে আতঙ্ক বিরাজ করছে। রবিবার বিবিসি অনলাইন এ খবর জানাচ্ছে।

কাউন্টডাউন নামে চেইন সুপার মার্কেটের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তাদের দোকানের তাক থেকে অস্ট্রেলিয়ার একটি ব্র্যান্ডের স্ট্রবেরি সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার সুপার মার্কেটগুলোতে স্ট্রবেরিতে সুই পাওয়ার অন্তত একশোটি অভিযোগ এসেছে।

অনেকেই ভেবেছিলেন, এটি ভুয়া তথ্য বা সোশ্যাল মিডিয়ার কৌতুক।

অকল্যান্ডের স্ট্রবেরি আসে মূলত অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের রাজ্য থেকে। গত সপ্তাহে নিউজিল্যান্ড জুড়ে কাউন্টডাউনের দোকানগুলোতে বিক্রি করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমরা খাদ্যের নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি।’

‘গ্রাহকরা তাদের বাড়িতে থাকা যেকোনো ব্র্যান্ডের স্ট্রবেরি আমাদের কাউন্টডাউন শপে নিশ্চিন্তে ফেরত প্রদান করতে পারেন। আমরা এসব ফেরত পণ্যের সম্পূর্ণ মূল্য শোধ করব।’

নিউজিল্যান্ডে স্ট্রবেরি খেয়ে কোনো ধরনের অসুস্থতা বা আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি বলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে। তবে ক্রেতাদের অস্ট্রেলিয়ায় উৎপাদিত স্ট্রবেরি খাওয়ার আগে কেটে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

৯ সেপ্টেম্বর স্ট্রবেরিতে সুই থাকার ঘটনাটি প্রথম জনসমক্ষে আসে। অজান্তেই সুইযুক্ত স্ট্রবেরি খেয়ে ফেলে ব্রিসবেনের এক তরুণ। এরপর দেশটির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একের পর এক স্ট্রবেরিতে সুই পাওয়ার খবর প্রকাশ হতে থাকে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে।

১৩ সেপ্টেম্বর পুলিশ প্রথম স্ট্রবেরিতে সুই থাকার তথ্য নিশ্চিত করে। এখন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার সাতটি স্ট্রবেরি বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানের স্ট্রবেরিতে সুই পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় সব প্রতিষ্ঠানই সরকারি আদেশে বাজার থেকে তাদের স্ট্রবেরি সরিয়ে নিয়েছে। বাজারফেরত স্ট্রবেরি শহর থেকে দূরে নিয়ে ফেলে দেয়া হচ্ছে।

অস্ট্রেলীয় সরকার নতুন আইন তৈরির ঘোষণা দিয়েছেন। নতুন আইন বাস্তবায়ন হলে দেশটিতে খাদ্যে গরমিল করার অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৫ বছরের জেল হতে পারে। এ ঘটনার মূল হোতাদের ধরিয়ে দিতে কুইন্সল্যান্ড রাজ্য সরকার এক লাখ অস্ট্রেলীয় ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে।

লোকসান সামাল দিতে স্ট্রবেরি চাষিদের হিমশিম অবস্থা। অস্ট্রেলিয়ায় টন কি টন স্ট্রবেরি ধ্বংস করা হচ্ছে। ১৩ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলারের স্ট্রবেরি শিল্প এখন ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে।