টাঙ্গাইলের সখীপুরে একটি মামলায় নামের মিল থাকায় মূল আসামির বদলে রফিকুল ইসলাম (৩৫) নামের এক দিনমজুরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পাঁচ দিন ধরে তিনি কারাগারে রয়েছেন। দুই বছর আগে ২০১৫ সালের ১৪ মে একই মামলায় রফিকুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই সময় তিনি তিন দিন কারাগারে ছিলেন।

সখীপুর পুলিশ গত রোববার দুপুরে দিনমজুর রফিকুলকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন সোমবার পুলিশ টাঙ্গাইল আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠায়।

মামলার বাদী মো. সাইজুদ্দিনের সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ক্যারম খেলা নিয়ে উপজেলার চতলবাইদ গ্রামের ভাতকুঁড়া পাড়া এলাকার আবদুর রশিদের ছেলে রফিকুল ইসলাম (২২) দলবল নিয়ে সাইজুদ্দিনের ভাগনে খাইরুলের ওপর হামলা চালান। এ ঘটনার পরদিন তিনি বাদী হয়ে রফিকুলসহ আরও দুজনকে আসামি করে সখীপুর থানায় মামলা করেন। গত রোববার পুলিশ যে রফিকুলকে গ্রেপ্তার করেছে, তাঁর বাবার নাম ঠান্ডু। বাড়ি চতলবাইদের ভূঁইয়া পাড়ায়। দুই বছর আগেও পুলিশ দিনমজুর রফিকুলকে গ্রেপ্তার করলে তিনি আদালতে গিয়ে রফিকুল মামলার আসামি নয় বলে শনাক্ত করলে সে সময় রফিকুল ছাড়া পেয়েছিলেন।

কারাগারে থাকা দিনমজুর রফিকুলের বোন রেহেনা আক্তার বলেন, তাঁর মা ভিক্ষা করেন। ভাই রফিকুলকে ছাড়িয়ে আনতে গতকাল বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইল আদালতে গেলে আইনজীবী অতিরিক্ত টাকা দাবি করলে তাঁরা বাড়ি ফিরে আসেন।

দিনমজুর রফিকুলের মা রোকেয়া বেগম বলেন, পুলিশ এসে জিজ্ঞেস করেছিল রফিকুল কে? তখন তিনি বলেন তাঁর ছেলে। তখন পুলিশ রফিকুলকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় পুলিশ রফিকুলকে কিল-ঘুষি মারে বলেও অভিযোগ করেন রোকেয়া বেগম।

মূল আসামি চতলবাইদ গ্রামের ভাতকুঁড়া পাড়ার রফিকুলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তাঁর বাড়ির সব ঘরে তালা ঝুলছে। পাশের বাড়ির বাসিন্দা ইব্রাহিম মিয়া বলেন, বাড়ির সব পুরুষ বিদেশে থাকেন। নারীরা বাড়িতে থাকলেও গতকাল সবাই আত্মীয় বাড়িতে বেড়াতে গেছেন।

জানা গেছে, আসামি রফিকুল ইসলাম ও তাঁর বাবা আবদুর রশিদ বর্তমানে সিঙ্গাপুরে আছেন। চার মাস আগেও মূল আসামি রফিকুল দুই মাসের ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন।

এ বিষয়ে সখীপুর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) এমদাদ হোসেন বলেন, নাম-ঠিকানা মিলে যাওয়ায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকছুদুল আলম বলেন, মানুষমাত্রই ভুল হয়। দারোগারও ভুল হতে পারে।