নাটোর প্রতিনিধি

নাটোরে দুনীর্তি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি দিঘাপতিয়া এমকে ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক নবাব সিরাজ উদ-দৌলা সরকারি কলেজের সাবেক

অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে উচ্চ মাধ্যমিক ও অনার্স পরীক্ষার কেন্দ্র ১৩ বছর পর নিজের কলেজে ফিরিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নবাব সিরাজ উদ-দৌলা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল কুদ্দুস মৃধা স্বাক্ষর জালিয়াতির বিষয়টি স্বীকার করেছেন। অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে উচ্চ মাধ্যমিক ও অনার্স পরীক্ষার কেন্দ্র পরিবর্তনের অভিযোগ করে তার প্রতিকার চেয়ে শহরের উত্তর বড়গাছা মহল্লার জনৈক মোঃ বেলাল হোসেন শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা সচিব, মহা পরিচালক, দুনীর্তি দমন কমিশন, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড ও নাটোরের জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দিয়েছেন। গত ২০০৩ সালে নাটোর শহরতলীর দিঘাপতিয়া এম কে ডিগ্রী কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার্থী ওই কলেজের এক শিক্ষিকার মেয়েকে অসদুপায় অবলম্বন করে রসায়ন পরীক্ষার ১ম ও ২য় পত্রের মূল খাতায় কলেজেরই রসায়ন বিভাগের শিক্ষককে দিয়ে লিখিয়ে নেয়ার অভিযোগে কেন্দ্র বাতিল করে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড। তার পর থেকে সদরের সকল কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা নবাব সিরাজ উদ দৌলা সরকারী কলেজে এবং নবাব সিরাজ উদ দৌলা সরকারী কলেজেন সকল পরীক্ষার কেন্দ্র রাণী ভবানী সরকারী মহিলা কলেজেই হয়ে আসছে। গত ২৯ ডিসেম্বর নবাব সিরাজ উদ-দৌলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল কুদ্দুস মৃধা অবসরে যান। ঠিক তার তিন দিন আগে ২৬ ডিসেম্বর তারিখে তার স্বাক্ষর জালিয়াতি করে কলেজের প্যাডে মেমো নম্বর বসিয়ে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে একটি চিঠি পাঠানো হয়। নাটোর জেলা পরীক্ষা সংক্রান্ত কমিটিকে পাস কাটিয়ে পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়, নবাব সিরাজ উদ-দৌলা সরকারি কলেজের পরীক্ষার্থীদের দিঘাপতিয়া এম কে ডিগ্রী কলেজে আসন ব্যবস্থায় পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করতে তার কোন আপত্তি নাই।এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্যও তিনি আবেদন জানান। ফলে নবাব সিরাজ উদ-দৌলা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের আগামী ২এপ্রিলের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং পরবর্তি অনার্স পরীক্ষার কেন্দ্র নাটোর রাণী ভবাণী সরকারি মহিলা কলেজকে বাদ দিয়ে দিঘাপতিয়া এম কে ডিগ্রী কলেজে করা হয়েছে।

শহরের দুটি সরকারী ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাদ দিয়ে বড় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার কেন্দ্র কেন শহরের বাহিরে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরের একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দিঘাপতিয়া এম কে ডিগ্রী কলেজ স্থানান্তর করা হলো তা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা শুরু হলে স্বাক্ষর এই জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশ হয়ে পড়ে। নবাব সিরাজ উদ-দৌলা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল কুদ্দুস মৃধা বলেছেন, তিনি অবসরে যাওয়ার আগে কখনোই এমন কোন চিঠি লিখে যান নাই। বর্তমান অধ্যক্ষ প্রফেসর শামসুজ্জামান বলেছেন, ২৬ ডিসেম্বর‘১৬ তারিখে৮৩৬ (২)/১৬ স্মারক নম্বরে কেন্দ্র বদলের এমন কোন চিঠি তার কলেজ থেকে পাঠানো হয়নি। রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের সাথে যোগাযোগ করা তিনিও অভিযোগ পত্র পাননি বলে জানান। তবে প্রতিষ্ঠান প্রধানের বিরুদ্ধে স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। অন্যদিকে নাটোর রাণী ভবাণী সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নারর্গিস সুরাইয়া আখতার বলেছেন, দিঘাপতিয়া এম কে ডিগ্রী কলেজ কেন্দ্রটি বাতিল হওয়ার পর থেকেই তার প্রতিষ্ঠানে নবাব সিরাজ উদ-দৌলা সরকারি কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা সুন্দর পরিবেশে স্বাচ্ছন্দেই পরীক্ষা দিয়ে আসছে। তিনি বলেন তার প্রতিষ্ঠানে যদি কোন সমস্যাই থাকতো তাহলে নবাব

সিরাজ উদ-দৌলা সরকারি কলেজের এইচএসসি আর অনার্স কেন্দ্র বাতিলের পর মাস্টার্স পরীক্ষার কেন্দ্র তার কলেজে রাখা হতো না। নকল মুক্ত সুন্দর পরিবেশ ও ভাল ভাবে পরীক্ষা নেয়ার পরও কেন এমনটা করা হলো তা তিনি জানেন না। এ দিকে দিঘাপতিয়া এম কে কলেজের অধ্যক্ষ নাটোর জেলা দুনীর্তি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, কেন্দ্রের আবেদন করার জন্য নবাব সিরাজ উদ-দৌলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের পত্রের কোন প্রয়োজন নেই। তিনি তাই স্থানীয় সংসদ সদস্যের ডিও লেটার নিয়ে আবেদন করে আবার তাদের কেন্দ্র ফিরে পেয়েছেন। এ ব্যাপারে নাটোরের জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ড. চিত্র লেখা নাজনিন বলেছেন, এ বিষয়ে এখনো তারা কিছুই জানেন না। জেলা প্রশাসকের দপ্তরে আয়োজিত পরীক্ষা সংক্রান্ত কমিটির সভায়ও এমন কোন বিষয় উত্থাপিত হয়নি। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দেখবেন বলে তারা জানান।