Smiley face

নাটোর প্রতিনিধিঃ
জেলার বাগাতিপাড়া-নাটোর প্রধান সড়ক এর উপজেলা সদর থেকে তমালতলা পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময়ে সড়কের সংস্কার কাজ না হওয়ায় বেড়েছে জনদূর্ভোগ। নির্দিষ্ট সময় শেষ হওয়ার প্রায় দু’মাস পার হলেও দৃশ্যমান কাজ হয়েছে বিশ থেকে পঁচিশ ভাগ। তবে ঠিকাদারের দাবী মানসম্মত কাজ করার জন্যই ভাল ইটের অপেক্ষা করাতে একটু সময় নিতে হচ্ছে। প্রশাসন যেন নির্র্বিকার!
সূত্রে জানা যায়, বাগাতিপাড়া পৌরসভার মালঞ্চি বাজার থেকে তমালতলা মহিলা কলেজ পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার সড়কের দু’পাশে তিন ফুট বৃদ্ধি করার কাজ শুরু হয়েছে গত ১২জুন-১৭। ২০অক্টোবরের মধ্যে কাজ শেষ কারার কথা নাটোরের উত্তর বড়গাছা’র মীর হাবিবুল আলম নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের। বর্তমানে বিশ্ব থেকে পঁচিশ ভাগ দৃশ্যমান কাজ হওয়ার কথা স্বিকার করেছেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্তব্যাক্তি। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে সড়কের দু’পাশে খুঁড়ে রাখার কারণে অহরহ ঘটছে দূর্ঘটনা। বাগাতিপাড়া-নাটোর প্রধান সড়কটির পাশে রয়েছে উপজেলা পরিষদ, হাসপাতাল, পৌরসভা, বেশ কিছু হাট-বাজার, স্কুল-কলেজ সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। প্রায় পাঁচ মাস আগে কাজটি শুরু করা হলেও খুবই ধীর গতীতে এগুচ্ছে। তাতে করে স্কুল কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী, ব্যবসায়ী, উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভাতে নাগরিকসেবাভোগী সহ সর্বস্তরের জনগণকে সিমাহীন দূর্ভোগে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বাগাতিপাড়া হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী বাজিতপুর গ্রামের আব্দুল মতিন বলছিলেন তার অসস্তির কথা। অসুস্থ শরীর নিয়ে এমনিতেই গাড়ীতে বসে থাকতে পারছিলেননা। তারপরেও সংস্কার কাজের খুঁড়ে রাখা রাস্তার কারনে ভোগান্তী হচ্ছিলো যেন দ্বিগুন। সংস্কারের অভাবে এমন জনদূর্ভোগ থেকে রেহাই পেতে চান এলাকাবাসী। গণমাধ্যম কর্মী দেখে জনদূর্ভোগের চিত্র তুলে ধরতে বলেন বাগাতিপাড়া পৌরসভার বিহারকোল মহল্লার মুক্তিযোদ্ধা শ্যামল কুমার রায়।
বাগাতিপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কায়সার ওয়াদুদ বাবর দাবী করেন, ‘সড়কটি দু’পাশে অনেকগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওই সড়কটি ব্যবহার করতে হয়। দীর্ঘদিন সংস্কারের জন্য খুঁড়ে রাখায় প্রায় দূর্ঘটনা ঘটে। আর পাবলিক পরীক্ষার সময় চাপ আরো বেড়ে যায়। তাই দ্রুত সংস্কার কাজটি শেষ করা দরকার।
কাজটি পেয়েছেন নাটোরের উত্তর বড়গাছা’র মীর হাবিবুল আলম নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। পক্ষে আমিরুল ইসলাম জাহান কাজের ধীর গতির কথা স্বিকার করে দাবী করেন, ‘ভাল ইট না থাকার কারণে কাজ একটু বিলম্ব বলা যায়, তবে বর্তমানে ভাল ইট বের হয়েছে। আসা করছি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যাবে।
বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রোকৌশলী এএসএম শরিফ খান বলেন, নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হওয়ায় ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে পাঁচ বার চিঠি দেয়া হয়েছে। কিন্তু তারা বারবার ভালো ইট না পাওয়ার দোহাই দিয়েছেন। আমার দপ্তর থেকে উর্ব্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবর লিখিত জানানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন বানু বলেন, সড়কের সংস্কারের কাজটি শেষ করার জন্য আমি, নিজে ওই ঠিকাদারের সাথে কথা বলেছি, সমন্নয় মিটিং এ উঠিয়েছি আবার জেলা নির্বাহী প্রৌকৌশলীকে বলেছি তারপরেও কাজটি সম্পন্ন করেনি। ঠিকাদারের অবহেলার কারনেই কাজটি এখনও শেষ হয়নি।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমি জেলা মিটিংএ কয়েকবার বলেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। জনদূর্ভোগ কমাতে দ্রুত সড়কটি মেরামত করা প্রয়োজন।

LEAVE A REPLY