নওগাঁ প্রতিনিধি :- নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে কৃষক হাসি মুখে ধান কাটা-মাড়াই শুরু করেছে। তবে পুরোদমে ধান কাটা-মাড়াই শুরু হতে আর মাত্র কয়েকদিন সময় লাগবে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে যথাসময়ে কৃষকরা ভালো পরিচর্যা করায় এবছর ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনায় কৃষকের মুখে এখন হাসির ঝিলিক দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে একাধিক কৃষকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বছর এ সময় দেশের দক্ষিণ ও উওরাঞ্চল বিশেষ করে নাটোরের লালপুর, ভেড়ামারা, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, পোড়াদহ, চিলাহাটি, ডোমারসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ধান কাটা শ্রমিক এ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে আসতে শুরু করেছে।
এদিকে, উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে দিগন্তজুড়ে পাকা ধানের সোনালি রঙের সমারোহ। চলতি মৌসুমে ইরি-বোরো ধানের ভালো ফলনের বুকভরা আশা নিয়ে অপেক্ষার প্রহর গুনছে। বাজারে নতুন ধানের আমদানি হওয়ায় কেনা-বেচা শুরু হলেও দাম ভালো থাকায় কৃষকদের মুখে হাসি দেখা দিয়েছে। জিরা জাতের সরু ধান মানভেদে ৮৭০ টাকা পর্যন্ত হাটে-বাজারে বেচা-কেনা হচ্ছে।
উপজেলার কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে ইরি বোরো মৌসুমে উপজেলার ৮ ইউনিয়নে ১৮ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে ইরি বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় কৃষি অফিসের পরামর্শে সঠিক সময়ে চারা লাগানো, নিবিড় পরিচর্যা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, যথাসময়ে সেচ দেওয়া, সার সংকট না থাকায় উপজেলার কৃষকরা জিরাশাইল, খাটো-১০, স্বর্ণা-৫ জাতের ধান চাষ করেছেন। নতুন ধান কাটার শুরুতেই বিঘা প্রতি ২০-২২ মণ হারে ধান উৎপাদন হচ্ছে। এছাড়া নওগাঁর ছোট যমুনা নদী বেষ্টিত নিম্না ল হওয়ায় উর্বর পলিমাটির জমিতে ইরি-বোরো ধান ব্যাপক আকারে চাষ করা হয়েছে।
উপজেলার বজ্রপুর গ্রামের কৃষক মো. আব্দুল মজিদ মন্ডল জানান, আমি এ বছর ৬ বিঘা জমিতে  বোরো লাগিয়েছি। কৃষি বিভাগের পরামর্শে যথাসময়ে ভালো পরিচর্যা করায় আমার জমিতে ধান ভালো হয়েছে। ইতোমধ্যেই ধানকাটা শুরু করেছি, ফলনও ভালোই হচ্ছে। এ ব্যাপারে উপজেলার শাহাগোলা গ্রামের কৃষক মো. আজাদ সরদার জানান, আমি এবার ১২ বিঘা জমিতে ধান লাগিয়েছি। ধানকাটা শুরু করেছি, ফলনও ভালোই হয়েছে।
উপজেলার ভবানীপুর-মির্জাপুর হাটের ধান ব্যবসায়ী মো: আবু জাফর আলী খাঁন জানান, গত হাটে তেমন ধান আমদানি শুরু হয়নি। তবে টুকটাক বেচা-কেনা হয়েছে, জিরা জাতের ধান প্রতিমণ ৮৫০-৮৭০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। আশা করছি দু-চারদিনের মধ্যে পুরোদমে ধান আমদানি শুরু হবে।
এ ব্যাপারে শাহাগোলা ইউনিয়নের ভবানীপুর ব্লকের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মো. শফি উদ্দিন আহম্মেদ জানান, আমরা বিশেষ করে অধিক ফলেন জন্য পরিমিত সার ব্যবহার, পানি সাশ্রয় এবং সার্বিক পরিচর্যায় কৃষকদের সচেষ্ট হতে আমরা সব সময়ই পরামর্শ দিয়ে আসছি। এবার আত্রাই উপজেলার কোথাও মাঝড়া পোকার আক্রমণ নেই। এবং উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কে এম কাউছার হোসেন জানান, ইরি-বোরো ধান লাগানোর শুরু থেকে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলায় ধানকাটা-মাড়াই শুরু হয়েছে ও ধানের ভালো ফলন হচ্ছে বলে আমরা কৃষকদের কাছ থেকে জানতে পেরেছি। তিনি আরো বলেন, বড় ধরনের কোন প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা দুর্বিপাক না হলে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।