দ্রুততম হাজারের হাতছানি

    ক্রীড়া প্রতিবেদক
    ভিভ রিচার্ডস সিংহাসনে বসে আছেন সেই ১৯৮০র জানুয়ারি থেকে। এরপর ক্রিকেট বিশ্ব কত রাজা-মহারাজা পেয়েছে, কেউই ভিভের আসনটা দখল করতে পারেননি। ভিভের মতো ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ২১তম ইনিংসেই হাজার রানের মাইলফলক ছুঁয়েছেন কেভিন পিটারসেন, জনাথন ট্রট, কুইন্টন ডি কক আর বাবর আজমরা। কিন্তু গড় রানের সুবাদে ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তিই অবস্থান করছেন সবার শীর্ষে।

    ৩৭ বছর ধরে যেমন ভিভকে ছাড়ানো যায়নি, তেমনি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পেরোনো যায়নি শাহরিয়ার নাফীসকে। জাতীয় দলের সাবেক এই বাঁহাতি হাজার রানের মাইলফলক ছুঁয়েছিলেন ২৯তম ইনিংসে। সময়টা ছিল ২০০৬ সালের নভেম্বর। তার পরের ১১ বছরে বাংলাদেশের হয়ে আরও ১১ জন হাজার রানের চার-ডিজিট ছুঁয়েছেন। কিন্তু কেউই ৩৪ ইনিংসের আগে নন! সৌম্য সরকারের সামনে এখন হাতছানি, বাংলাদেশের হয়ে দ্রুততম হাজার রানের মালিক হওয়ার। ডাবলিনে টানা দুই ম্যাচে ফিফটি করে সৌম্যর রান এখন ৯২৫; এই রান এসেছে ২৫ ইনিংস থেকে। আজকের নিউজিল্যান্ড ম্যাচসহ আগামী তিন ম্যাচের মধ্যে ৭৫ রান করতে পারলেই সৌম্যই গড়বেন দ্রুততম হাজারের রেকর্ড। অবশ্য সৌম্যর তুলনায় মাইলফলকের পূরণের বেশি কাছাকাছি আছেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ১৪০ ওয়ানডে খেলে ফেলা রিয়াদের সামনে হাতছানি তিন হাজার রানের। দরকার মাত্র ২৮ রান।

    আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে ব্যাটিং করে রিয়াদ যে ফর্ম দেখিয়েছেন, তাতে মাইলফলকটা হয়তো সর্বশেষ আয়ারল্যান্ড ম্যাচেই হয়ে যেতে পারত। সেদিন বাংলাদেশ দলের ৮ উইকেটের বড় জয়ের ম্যাচে রিয়াদকে মাঠেই নামতে হয়নি। তার আগে প্রথম ম্যাচে অপরাজিত ৪৩ আর দ্বিতীয় ম্যাচে ৫১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। ২ হাজার ৯৭২ রানে অবস্থান করা রিয়াদ ২৮ রান করলেই হয়ে যাবেন বাংলাদেশ দলের তিন হাজার রান করা পঞ্চম ব্যাটসম্যান। তিন হাজারি ক্লাবে আগে থেকেই আছেন মোহাম্মদ আশরাফুল (৩৪৬৮)। মুশফিকুর রহিম আর সাকিব আল হাসানরা তো চার হাজারও পেরিয়ে গেছেন (যথাক্রমে ৪১৯০ ও ৪৭৯৬ রান)। আর ৫ হাজার ৩৮৫ রান নিয়ে সবার উপরে অবস্থান করছেন তামিম ইকবাল। বাংলাদেশের হয়ে দ্রুত তিন হাজারি ক্লাবে ঢোকার কীর্তিটাও তামিমের। চার বছর ১৯১ দিন সময়ের মধ্যে ১০২ ম্যাচ খেলে ওই মাইলফলক ছুঁয়েছিলেন বাঁহাতি ওপেনার। ২৮ রান দূরে থাকা রিয়াদ এরই মধ্যে ব্যাটিং করেছেন ১২১ ইনিংসে।

    কম ইনিংসের এই দৃষ্টিকোণ থেকেই এগিয়ে যাওয়ার বড় সুযোগ সৌম্যর সামনে। দেখার বিষয় এখন একটিই_ নাফীসের ২৯ ইনিংসের কীর্তি ছুঁতে তার কত ইনিংস লাগে?

    শুধু সৌম্য, মাহমুদুল্লাহর হাজারি মাইলফলকই নয়, ম্যাচের মাইলফলকও হাতছানি দিচ্ছে মাশরাফি মুর্তজা, সাকিব আল হাসানদের সামনে। বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি ওয়ানডে খেলার রেকর্ড এখনও মোহাম্মদ আশরাফুলের। ২০১৩’র মেতে সর্বশেষ ওয়ানডে খেলা আশরাফুলের ম্যাচসংখ্যা ১৭৭। তিন ম্যাচ কম খেলে দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন মাশরাফি। পেছন পেছন অবশ্য আরও তিনজন আছেন_ সাকিব (১৭২), মুশফিকুর রহিম (১৭১) ও তামিম (১৬৮)