দেড় কোটি টাকার ইয়াবাসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় র‌্যাবের একটি দল অভিযান চালিয়ে অর্ধ লক্ষ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ২ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. শহিদুল ইসলাম ও মো. আব্দুল খালেক ওরপে আকাশ। র‌্যাব জানায়, র‌্যাব ১-এর একটি দল গতকাল ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর ভাটারা থানাধীন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ব্লক-জি, রোড নং-৩, বাড়ী নং-৬৫১/৬৫২-এর ২য় তলায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে মোঃ শহিদুল ইসলাম (৩৩) ও মোঃ আব্দুল খালেক ওরফে আকাশকে (৩৮) গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৫০,১২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন ব্রান্ডের ৫টি মোবাইল ফোন, ২টি মানিব্যাগ ও ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রিত নগদ ২১ হাজার ২৪০ টাকা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের আনুমানিক বাজার মূল্য ১,৫০,৩৬,০০০ টাকা।র‌্যাব আরো জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, গ্রেপ্তারকৃত মোঃ শহিদুল ইসলাম ফেব্রিক্স ব্যবসার সাথে জড়িত। পুরান ঢাকার ইসলামপুরে তার নিজস্ব ফেব্রিক্সের দোকান ছিল। সে গাউছিয়া হতে ফেব্রিক্স পণ্য ক্রয় করে ইসলামপুরে পাইকারী মূল্যে বিক্রয় করত। এই ব্যবসার অন্তরালে স্বল্প সময়ে অধিক অর্থের আশায় মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। গত প্রায় ২ বছর ধরে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত বলে স্বীকার করে।আর গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল খালেক ওরফে আকাশ বসুন্ধরার বর্ণিত ফ্ল্যাটে ভাড়াটিয়া হিসেবে অবস্থান করছে। উক্ত বাসাটি মূলত মাদক ট্রানজিট ও বিতরণের জন্য ব্যবহার করা হয়। তিনি একজন গাড়িচালক। গ্রেপ্তারকৃত শহিদুল ইসলামের প্রাইভেটকারচালক হিসেবে নিয়োজিত। উক্ত প্রাইভেটকারটি মাদক পরিবহণে ব্যবহার করা হয়। তারা কক্সবাজার থেকে আসা ইয়াবা ট্যাবলেটের চালান সংগ্রহ করে বসুন্ধরার বাসা থেকে প্রাইভেটকারের মাধ্যমে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে পাইকারী ও খুচরা মূল্যে সরবরাহ করত বলে স্বীকার করে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসা করছেন। তিনি পুলিশের হাতে তিনবার গ্রেপ্তার হয়েছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদকের মামলা রয়েছে।গত ২০১৬ সালের দিকে শহিদুল ইসলাম জনৈক সুমন ও আলমের মাধ্যমে ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। মূলত সুমন ও আলম চট্টগ্রাম হতে কৌশলে বিভিন্ন মাধ্যমে ইয়াবার চালান ঢাকায় প্রেরণ করে। উক্ত ইয়াবার চালান আসামি শহিদুল ইসলাম রাজধানীর খিলক্ষেত ও কাঞ্চন ব্রিজ এলাকা হতে গ্রহণ করত। এরপর ইয়াবার চালান নিয়ে আসামি আব্দুল খালেক ওরফে আকাশ বসুন্ধরার বর্ণিত ফ্ল্যাটে সংরক্ষণ করত এবং সেখান হতে ভাটারার তালু মিয়া, রুপগঞ্জের জনি ও বসুন্ধরার আব্দুল খালেক ওরফে আকাশের মাধ্যমে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সবররাহ করত। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে র‌্যাব জানিয়েছে।