বিশেষ প্রতিনিধি
২০১৭ সালে দেশে হ্যান্ডসেট বিক্রিতে ফিচার ও স্মার্টফোন মিলিয়ে শীর্ষে ছিল সিম্ফনি। তবে আর্থিক মূল্যের হিসাবে স্মার্টফোন বিক্রিতে শীর্ষে ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার ব্র্যান্ড স্যামসাং। আর বিক্রির প্রতিযোগিতায় সর্বনিম্ন অবস্থানে ছিল চীনা ব্র্যান্ড শাওমি ও বাজারে নতুন করে ফিরে আসা নকিয়া।
একই সময়ে দেশে ৯ হাজার কোটি টাকার ৩ কোটি ৪৪ লাখ মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানি করা হয়েছে।
মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমপিআইএ) বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। সোমবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
এ ব্যাপারে বিএমপিআই’র যুগ্ম সম্পাদক মো. মেজবাহউদ্দিন সমকালকে বলেন, ‘২০১৭ সালের তুলনায় চলতি বছরে আরও ৩০ শতাংশ বেশি স্মার্টফোন বিক্রির আশা করা হচ্ছে। কারণ ফোরজি চালু হওয়ার কারণে স্মার্টফোনের চাহিদা বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফোরজি চালু হওয়ার পর বাজারে ক্রমাগত ফোরজি স্মার্টফোনের সংখ্যা বাড়ছে। নতুন আমদানির ক্ষেত্রে ফোরজি স্মার্টফোনই আমদানি করা হচ্ছে। এগুলোর দামও মোটামুটিভাবে থ্রিজি স্মার্টফোনের কাছাকাছি থাকছে।’
বিএমপিআই’র বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭ সালে আগের বছরের চেয়ে ৩০ লাখেরও বেশি হ্যান্ডসেট আমদানি করা হয়। এ হিসাবে বিগত বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধির হার ছিল ১১ শতাংশ বেশি। ফিচার ফোনের ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি ছিল ১৪ শতাংশ ও স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে ছিল এক শতাংশ। ২০১৭ সালে ফিচার ফোন আমদানি করা হয় ২ কোটি ৬০ লাখ; যেখানে ২০১৬ সালে আমদানি করা হয়েছিল ২ কোটি ৩০ লাখ। আর স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে ২০১৬ ও ২০১৭ সালে আমদানির পরিমাণ ছিল ৮০ লাখ।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৭ সালে বাজারে ২০টি ব্র্যান্ডের উপস্থিতি দেখা যায়। এর মধ্যে সংখ্যা অনুযায়ী, ফিচার ও স্মার্টফোন মিলিয়ে বিক্রিতে শীর্ষে ছিল স্থানীয় ব্র্যান্ড সিম্ফনি। এ হিসেবে সিম্ফনির মার্কেট শেয়ার ছিল ৩০ শতাংশ। আর শুধু স্মার্টফোন বিক্রিতে বাজারমূল্যে সর্বোচ্চ মার্কেট শেয়ার ছিল স্যামসংয়ের ২৬ শতাংশ।
বিএমপিআই’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংখ্যার বিবেচনায় ফিচার ও স্মার্টফোন মিলিয়ে ২০টি ব্র্যান্ডের মধ্যে সিম্ফনির মার্কেট শেয়ার ছিল ৩০ শতাংশ, স্যামসংয়ের ১৪ শতাংশ, হুয়াওয়ের ৯ শতাংশ, ওয়ালটনের ৮ শতাংশ, লাভার ৭ শতাংশ, আইটেলের ৫ শতাংশ, মাইক্রোম্যাক্সের ৩ শতাংশ, নোকিয়ার ২ শতাংশ, আমরা ও শাওমি’র ১ শতাংশ এবং অন্যান্য ১৩ শতাংশ।
অন্যদিকে টাকার অংকে স্মার্টফোন বিক্রিতে স্যামসাংয়ের শেয়ার ছিল ২৬ শতাংশ, সিম্ফনি ২১ শতাংশ, হুয়াওয়ে ১৩ শতাংশ, অপো ১০ শতাংশ, ওয়ালটন ৬ শতাংশ, লাভা ৫ শতাংশ, শাওমি ৪ শতাংশ, আইটেল ও নোকিয়া ৩ শতাংশ এবং অন্যান্য ৯ শতাংশ।
প্রতিবেদন বিশ্নেষণে দেখা যায়, ফিচার ফোন আমদানির সংখ্যা বেশি থাকলেও বিক্রির ক্ষেত্রে বাজারমূল্য বিবেচনায় বাজারে স্মার্টফোনের দখল ছিল ৬৮ শতাংশ ও ফিচার ফোনের দখল ছিল ৩২ শতাংশ। ২০১৭ সালে বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে ৩ থেকে ৬ হাজার টাকা মূল্যমানের হ্যান্ডসেট।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এরইমধ্যে বাংলাদেশে তৈরি মোবাইল হ্যান্ডসেট বাজারে এসে গেছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই বেশ কয়েকটি ব্র্যান্ড দেশে তৈরি মোবাইল হ্যান্ডসেট বাজারজাত করবে। এর ফলে মোবাইল ফোন আরও সহজলভ্য হয়ে উঠবে। বাংলাদেশে তৈরি মোবাইল হ্যান্ডসেট বিদেশে রপ্তানির জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা তৈরিতেও উদ্যেগ নেবে বিএমপিআই। এ ছাড়া মোবাইল হ্যান্ডসেটের ডেটাবেজ তৈরিতে সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গেও যুক্ত আছে বিএমপিআই। এই ডেটাবেজ তৈরি হলে দেশে চোরাইপথে নিকৃষ্টমানের হ্যান্ডসেট আসা বন্ধ হয়ে যাবে।
বিএমপিআই’র যুগ্ম সম্পাদক মো. মেজবাহউদ্দিন সমকালকে বলেন, ‘২০১৭ সালে স্মার্টফোন বিক্রি প্রত্যাশার চেয়ে কম ছিল। এর প্রধান কারণ ছিল থ্রিজি মোবাইল নেটওয়ার্কের অস্থিতিশীলতা। থ্রিজি নেটওয়ার্কে কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত হলে গ্রাহকরা আরও বেশি স্মার্টফোন কিনতে আগ্রহী হতো।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ বছর ফোরজি চালু হয়েছে। মানসম্পন্ন ফোরজি নেটওয়ার্ক নিশ্চিত হলে চলতি বছরে স্মার্টফোন বিক্রি আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় বাড়বে।’
চলতি বছরে গত বছরের চেয়ে ৩০ শতাংশ বেশি স্মার্টফোন বিক্রির আশা করা হচ্ছে বলেও জানান বিএমপিআই’র যুগ্ম সম্পাদক।