দুধের টাকা যোগাতে না পারায় দুই মাসের শিশুকে লবণ খাইয়ে হত্যা

    ঢাকার দোহার উপজেলায় অভাবের সংসারে সন্তানের দুধের টাকা যোগাতে না পারায় দুই মাসের শিশুকে লবণ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক জন্মদাত্রী মায়ের বিরুদ্ধে।

    রবিবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে দোহার উপজেলার উত্তর জয়পাড়া মিয়াপাড়া নামক এলাকায় হৃদয়বিদারক, খুবই মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটে। সত্যি চোখের পানি ধরে রাখার মতো না ঘটনাটি।

    পুলিশ সূত্র জানায়, অভিযোগ ওই মা উপজেলার উত্তর জয়পাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো: বাচ্চু (৩০) স্ত্রী সাথী আক্তার (২১)।

    জানা গেছে, বছর তিনেক আগে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। বাচ্চু ও সাথী সংসারে সাবিহা আক্তার নামে দুই বছরের একটি কন্যা সন্তান ও মো: সায়েম নামে দুই মাসের একটি পুত্র সন্তান আছে।

    অভাবের সংসার তাদের। স্বামী বাচ্চু রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। রবিবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে দুই মাসের ছেলে সায়েমের দুধ আনার জন্য বাচ্চুকে বলেন স্ত্রী সাথী আক্তার। কিন্তু, বিকেল ৫টার দিকে স্বামী দুধ না নিয়ে বাড়িতে আসলে সন্তানের দুধের টাকা যোগার করতে আশপাশের বেশ কয়েকজনের কাছে দ্বারে দ্বারে ধর্না দেয় মা সাথী।

    অনেকের কাছে চেয়েও দুধের টাকা না যোগাতে পেরে ওইদিন সন্ধ্যার দিকে বাড়িতে গিয়ে প্রচণ্ড রাগে-ক্ষোভে দুই মাসের সন্তান সায়েমকে লবণ খাইয়ে দেয় সে। এরপর শিশুটির শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। সে সময় সাথী নিজেই শিশু সন্তান সায়েমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে নেওয়ার পর শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করে কর্তব্যরত চিকিৎসক।

    এই খবর শোনা মাত্র হাসপাতালে ছুটে যান বাবা মো: বাচ্চু।

    সোমবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। সেখান থেকে মা সাথী আক্তারকে আটক করে পুলিশ।

    এ ব্যাপারে শিশুটির বাবা মো: বাচ্চু বলেন, আমাদের অভাবের সংসার। সাথী আমাকে সন্তানের দুধের কথা বলেছিল। আমি তা আনতে পারিনি। দুধের টাকা যোগাতে না পারায় প্রচণ্ড রাগে-ক্ষোভে ছেলেকে মেরে ফেলেছে সাথী।

    এ বিষয়ে দোহার থানার ওসি (তদন্ত) ইয়াসিন মুন্সী এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, অভাবের সংসারে সন্তানের দুধের টাকা যোগাতে না পেরে রাগে-ক্ষোভে নিজের সন্তানকে লবণ খাইয়ে হত্যা করেছে শিশুটির মা।

    তিনি আরও জানান, পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে সাথী আক্তার সন্তান হত্যার বিষয়টি স্বীকারও করেছে পুলিশের কাছে। তাকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।