দলীয় লোকজন নির্বাচনী পর্যবেক্ষক হতে পারবেন না: সিইসি

রাজনৈতিক দল-সংশ্লিষ্টরা যাতে নির্বাচনী পর্যবেক্ষক হওয়ার সুযোগ না পান সে ব্যাপারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে. এম. নুরুল হুদা। তিনি বলেন, রাজনৈতিক কোনো ব্যক্তি যেন পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ না পান, সে বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।

রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে সংলাপে তিনি এ কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি পর্যবেক্ষকদের পক্ষপাতহীন ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। এ ছাড়া পর্যবেক্ষণ কাজ চলাকালে ভোটের কার্যক্রম যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখারও অনুরোধ জানান।

সিইসির সভাপতিত্বে সংলাপে বিভিন্ন পর্যবেক্ষক সংস্থার অন্তত ২৫ জন প্রতিনিধি অংশ নেন বলে জানা গেছে।

ইসির নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপে পর্যবেক্ষকদের বিষয়ে আলোচনার কথা জানিয়ে সিইসি বলেন, নির্বাচনে পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে সেখানে কথা হয়েছে এবং পর্যবেক্ষকরা যাতে সঠিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে বিষয়ে তারা পরামর্শ দিয়েছেন।

বৈঠক শেষে জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক পরিষদের (জানিপপ) চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, যথাযথভাবে প্রশিক্ষণ ছাড়া পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব পেলে ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। পর্যবেক্ষণের সময় কী করা যাবে, আর কী করা যাবে না- সেটা  হাতে-কলমে বুঝিয়ে দিতে হবে।

ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের পরিচালক আবদুল আলিম বলেন, পর্যবেক্ষকদের পরিচয়পত্র ভোটের আগের দিন না দিয়ে আগেভাগে দেওয়া এবং ইসির পক্ষ থেকে তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে একটি তৃতীয় পক্ষকে দিয়ে স্বাধীন নিরীক্ষা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রতিবছর নির্দিষ্ট একটি দিনে ভোটার হালনাগাদ শুরু করে ওই দিনকে জাতীয় ভোটার দিবস ঘোষণার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ফেমার প্রেসিডেন্ট মুনিরা খান বলেন, বর্তমান পর্যবেক্ষক নীতিমালা অনুযায়ী ২৫ বছরের নিচে কেউ পর্যবেক্ষক হতে পারেন না। এই নিয়ম শিথিল করে ২০ থেকে ২৫ বছর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, এক জায়গার পর্যবেক্ষক অন্য জায়গায় পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন না। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদেরও পরীক্ষা করে এই সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের ড. আনোয়ার ফরাজি ইমন বলেন, প্রবাসী এক কোটি নাগরিককে ভোটার করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আইন সংস্থার, আসন সীমানা পুনর্নির্ধারণসহ ঘোষিত রোডম্যাপ নিয়ে কে. এম. নুরুল হুদা নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলসহ অংশীজনের সঙ্গে ধারাবাহিক এই সংলাপ করছে।

গত ৩১ জুলাই সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ১৬ ও ১৭ আগস্ট গণমাধ্যম প্রতিনিধি এবং ২৪ আগস্ট থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মতবিনিময় করে কমিশন। সোমবার নারী নেত্রী এবং মঙ্গলবার নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সংলাপে বসার কথা রয়েছে।