তিন হাজারেরও বেশি যুবককে অপহরণ করে বিয়ে!

হিন্দু মতে আট ধরনের বিয়ের চল আছে৷ ব্রহ্ম, দৈব, আর্শ, প্রজাপতিয়া, অসুর,গান্ধর্ব, রাক্ষস ও পৈশাচ বিয়ে৷ কিন্তু ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য বিহারের রাজধানী পাটনাতে আরও এক ধরনের বিয়ের চল আছে৷ তা হল পাকড়াও বিয়ে৷
হিন্দু মতে রাক্ষস বিয়ের ক্ষেত্রে মেয়েদের জোর করে ধরে এনে ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়৷ কিন্তু কলি যুগে সেই জায়গা নিয়ে নিয়েছে পাকড়াও বিয়ে৷ এক্ষেত্রে মেয়েদের নয়, সাধারণত ছেলেদের ধরে এনে বিয়ের পিঁড়িতে বসানো হয়৷ এরপর তাকে জোর করে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়৷ বিহারে বহুদিন ধরে এই ধরনের বিয়ের চল আছে৷

তথ্য বলছে, গত বছর ৩৪০০ ছেলেকে পাকড়াও করে বিয়ে দেওয়া হয়৷ প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিহারে পাকড়াও বিয়ে হয়ে থাকে৷ ২০১৭ সালে ৩৪০৫ জন ছেলেকে অপহরণ করে জোর করে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়৷ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ছেলের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে বিয়ে করতে বাধ্য করা হয়৷

গত মাসে পাটনার এক গ্রামে ইঞ্জিনিয়ার ছেলেকে ধরে এনে বন্দুকের নলে বিয়ে দিয়েছিল মেয়ের পরিবার৷ সদ্য বিবাহিত স্ত্রীকে সে গ্রহণ করতে অস্বীকার করে৷ সেই খবর জাতীয় খবরের শিরোনামে চলে আসে৷

পাকড়াও বিয়ের মতো ঘটনা বিহারে উত্তরোত্তর বাড়ছে৷ এক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ২০১৪ সালে পাকড়াও বিয়ের সংখ্যা ছিল ২৫২৬৷ পরের বছর বেড়ে হয় ৩০০০৷ ২০১৬তে তা হয় ৩০৭০৷ পুলিশ জানিয়েছে, সব ক্ষেত্রে হয় ছেলে নয়তো ছেলের পরিবারের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে বিয়ে দেওয়া হয়েছে৷

কেন করা হয় পাকড়াও বিয়ে? কারণ হিসেবে দায়ী পণপ্রথা৷ পণের হাত থেকে মুক্তি পেতে ছেলেকে অপহরণ করা হয়৷ মেয়ের জন্য উপযুক্ত পাত্রকে অপহরণ করে এনে জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়৷ অপহরণের জন্য অনেকে গুণ্ডাও ভাড়াও করে৷ এতে এক ঢিলে দুই কাজ হয়৷ প্রথমত পণের হাত থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া যায়৷ দ্বিতীয়ত পছন্দসই পাত্রের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দেওয়া হয়৷

এদিকে যে হারে পাকড়াও বিয়ের সংখ্যা বাড়ছে তাতে উদ্বিগ্ন রাজ্য সরকার৷ রাজ্য সরকারের তরফ থেকে জেলার সব পুলিশ সুপারদের সজাগ থাকতে বলা হয়েছে৷ বিশেষ করে বিয়ের মরশুমে এই ঘটনা ঘটেই থাকে৷ তাই কোন ঘটনা ঘটলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশকে৷