সারাদেশে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের মধ্যে জেলায় জেলায় বন্দুকযুদ্ধে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছেই। র‌্যাব ও পুলিশ এসব ঘটনাকে বর্ণনা করে আসছে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হিসেবে। রোববার রাতে সিরাজগঞ্জ ও ভাটারায় দুইজন নিহত হয়েছেন।সিরাজগঞ্জে নিহত ব্যক্তি এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী বলে জানিয়েছে পুলিশ। ভাটারা এলাকায় নিহত ব্যক্তি পেশাদার খুনি বলে দাবি পুলিশের। নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধির পাঠানো খবর:
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: রাজধানীর ভাটারায় গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক যুবক নিহত হয়েছেন। নিহতের নাম মো. শরিফুল ইসলাম (২৮)। রোববরা রাত ৩টার দিকে ভাটারার একশ’ ফিট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শরিফুল পেশাদার খুনি বলে দাবি পুলিশের। ভাটারা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শাহীন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রোববার রাত ৩টার দিকে ডিবি পুলিশ আমাদের খবর দিলে আমরা ঘটনাস্থলে গেয়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ওই যুবককে উদ্ধার করি। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢমেক) ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকায় গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। নিহতের নাম শাহিন শেখ (৩৫)। তিনি পৌর এলাকার মাহমুদপুর মহল্লার বিষা শেখের ছেলে।রোববার রাত সোয়া দু’টার দিকে সদর উপজেলার রায়পুর রেল স্টেশনের কাছে এ ঘটনা ঘটে। শাহিনের বিরুদ্ধে কমপক্ষে ১০টি মাদক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সদর থানার ওসি মোহাম্মদ দাউদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে শাহিন ও তার সঙ্গীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এসময় শাহিন গুলিবিদ্ধ হন এবং বাকিরা পালিয়ে যায়। পরে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে আনার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও বেশ কিছু নেশাজাতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে। অভিযানে অংশ নেয়া ৩ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে দাবি ডিবি পুলিশের। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন- এএসআই শামিম হোসেন এবং কনস্টেবল শাহিন হোসেন ও মানিক শেখ। তাদেরকে সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। নিহত শাহিনের লাশ বর্তমানে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেভাবে তা দমন করছে- তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে হতাহতের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তারা বলছেন, দেশে ক্রমাগতই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেই চলেছে, এটা বড়ই উদ্বেগের বিষয়। মাদক ব্যবসায়ীসহ যেকোনও সন্ত্রাসীকে এভাবে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা মানবাধিকার লঙ্ঘন। যেকোনও অন্যায় অপরাধকে বিচারের আওতায় এনে তার শাস্তি দেওয়া উচিত। অথচ সেটা হচ্ছে না।’

অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তরুণ সমাজকে সর্বনাশা ধ্বংসের পথ থেকে ফিরিয়ে আনার একটি ‘যুগান্তকারী পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এই অভিযানকে। তার দাবি, এই অভিযানে সারা দেশের মানুষ ‘খুশি’ হয়েছে।

আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। তাদের জীবন বাঁচাতে বন্দুকযুদ্ধে বাধ্য হচ্ছে।‘দেশে কোনও ক্রসফায়ার হচ্ছে না। যা হচ্ছে বন্দুকযুদ্ধ। মাদকের বিরুদ্ধে কোনও ছাড় নয়, জিরো টলারেন্স নীতিতে পুলিশ সামনের দিকে এগুচ্ছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা রয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা বিভাগওয়ারি এ তালিকা নিয়ে অভিযান চলছে। মাদক বিক্রেতারা সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে যতই ক্ষমতাধর হোক না কেন, তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, কাউকে হত্যা করা এই অভিযানের উদ্দেশ্য নয়। নিরপরাধ কোনো ব্যক্তিকে আটক করা হচ্ছে না।‘যারা তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী শুধু তাদেরকেই পুলিশ অথবা নিরাপত্তা বাহিনী ধরতে যাচ্ছেন এবং আইনের আওতায় নিয়ে আসছেন।’

মাদক নির্মূলের নামে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের’ অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র থাকে। যখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের গ্রেপ্তার করতে যায়, তখন তারা গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এসময় দু-একটি নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে থাকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেকোনো মূল্যে মাদক ব্যবসা বন্ধের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে তিনি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে বলেছেন।