ঢাকা মেডিকেলে জোড়া লাগানো দুই মেয়ে শিশু

    চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির কাঞ্চননগরের কৃষক পরিবারের পেটে জোড়া লাগানো দুই মেয়ে শিশুকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ‘মানবকল্যাণে এসো কিছু করি’ নামের চট্টগ্রামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পক্ষ থেকে গতকাল রবিবার সকাল ৯টার দিকে আয়শা ও মাইশা নামের ওই শিশু দুটিকে ঢামেকে আনা হয়। হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসকরা শিশু দুটিকে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ শেষে শিশু সার্জারি বিভাগের ২০৫ নম্বর ওয়ার্ডের ৮ নম্বর বেডে ভর্তি করা হয়। প্রায় দেড় মাস বয়সী শিশু দুটির মুখমন্ডল ও হাত আলাদা হলেও পেট থেকে পা পর্যন্ত জোড়া লাগানো।
    এ বিষয়ে ঢামেক শিশু সার্জারি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. সৈয়দ আব্দুল আদিল বলেন, আজ (গতকাল রবিবার) সকালেই শিশু দুটিকে ঢামেকে আনা হয়। তাদের পেট, পা, পায়খানা ও প্রস্রাবের রাস্তা একে অপরের সঙ্গে জোড়া লাগানো। শিশু দুটির শারীরিক সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর শরীরের অভ্যন্তরের প্রকৃত অবস্থা বোঝা যাবে। তবে প্রাথমিকভাবে দেখে মনে হচ্ছে, তাদের আলাদা করাটা বেশ কঠিন হবে। এরপরও শিশু দুটিকে আলাদা করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে দিতে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে।
    পারিবারিক সূত্রমতে, শিশু দুটির বাবা মুহাম্মদ ইউনুছ (২১) দিনমজুর। মা হোসনে আরা বেগম (১৮) গৃহিণী। গত ২১ আগস্ট ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর ইউনিয়নের জজর্রী গ্রামের বাড়ি থেকে সন্তানসম্ভবা হোসনে আরাকে নাজিরহাট কেয়ার পয়েন্ট হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। ওই দিন বেলা সাড়ে ১১টায় সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে শিশু দুটির জন্ম হয়। তাদের মুখমন্ডল ও হাত আলাদা আলাদা হলেও পেট, পা, পায়ুপথ ও প্রস্রাবের রাস্তা একে অপরের সঙ্গে জোড়া লাগানো। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ ধরনের শিশুকে কনজয়েন্ট টুইন কিংবা সিয়ামিজ টুইন বলে।
    ‘মানবকল্যাণে এসো কিছু করি’ সংগঠনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফারুক হোসাইন সাংবাদিকদের বলেন, কৃষক ইউনুছ জোড়া লাগানো শিশু দুটিকে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। তার পক্ষে শিশু দুটির চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব নয়। কোনো শিল্পপতি কিংবা সরকারি সহায়তা ছাড়া এমন জটিল শিশুর চিকিৎসা করানো কৃষক ইউনুছের পক্ষে কষ্টসাধ্য। এ ব্যাপারে ইউনুছ ও তার পরিবার সরকার ও দানশীল ধনাঢ্য ব্যক্তিদের সহযোগিতা কামনা করছেন।