ডা. শাহজাদা সেলিম
ডায়াবেটিস দেহের প্রতিটি সিস্টেমকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে। দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিসে চোখ, কিডনি, হৃৎপিণ্ড, স্নায়ুতন্ত্র, ত্বক, সন্ধি বা জয়েন্ট, প্রজননতন্ত্রসহ দেহের প্রতিটি তন্ত্রই তার স্বাভাবিক কার্যকারিতা হারাবে, রোগগ্রস্ত হবে।
ডায়াবেটিস রোগীর মাংসপেশির কর্মক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে আসে। পাশাপাশি ডায়াবেটিস নিউরোপ্যাথি হলে হাত ও পায়ের মাংসপেশি প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়। অনেক ক্ষেত্রে রোগী হাঁটাহাঁটি, হাতের কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। শরীরের প্রায় প্রতিটি হাড় ও জোড়া আক্রান্ত হয়। জোড়ার ভেতর বিভিন্ন ক্রিয়া-বিষক্রিয়ার ফলে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে অকেজো হয়ে পড়ে।
এতে জোড়ায় ব্যথা হয়, ফুলে যায়, চলাফেরা, কাজকর্মে ব্যথা তীব্র থেকে তীব্রতর হয়। নামাজ, গোসল, জামা-কাপড় পরা, টয়লেট ব্যবহার করার মতো দৈনন্দিন কাজকর্মে মারাত্মক অসুবিধার মুখোমুখি হতে হয় রোগীকে। দীর্ঘদিন রোগভোগের কারণে রোগী একপর্যায়ে পঙ্গুত্ববরণ করতে পারে।
তাই ডায়াবেটিসের কারণে শরীরের অসারতা, হাড় ও জোড়ার ব্যথায় পেইনকিলার বা ব্যথানাশক ওষুধ মোটেও খাওয়া উচিত নয়। এতে করে হৃদরোগ, স্ট্রোক ও স্ট্রোকজনিত প্যারালাইসিস, কিডনি অকেজো হওয়া, গ্যাস্ট্রিক, আলসার ইত্যাদি মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হতে পারে।
এ ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বিহীন অত্যন্ত আধুনিক চিকিৎসা। রোগী একজন বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে চিকিৎসা নিলে সুস্থ হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রোগীর শারীরিক অক্ষমতার পরিমাণ নির্ণয় করে বিভিন্ন থেরাপিউটিক এক্সারসাইজ, ইলেকট্রো মেগনেটিক রেডিয়েশন, ম্যানুয়েল ও মেকানিক্যাল থেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা দিলে সম্পূর্ণ সুস্থ থাকবে।
তবে ফিজিওথেরাপি নেওয়ার ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। যেখানে-সেখানে ফিজিওথেরাপি নেওয়া উচিত নয়। এতে রোগীর সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিন। ভালো থাকুন।
লেখক: সহকারী অধ্যাপক
এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়