ট্রেনে ভিড় থাকলেও যাত্রী পাচ্ছে না বাস

ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষ রাজধানী ছাড়তে শুরু করলেও রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনালে দেখা যায়নি উপচে পড়া ভিড়। এবার ছিলো না ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ও। বাস টার্মিনালগুলো একেবারেই ফাঁকা। গতকাল মঙ্গলবার কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনগুলোতে মোটামুটি ভিড় দেখা গেলেও বাস টার্মিনালগুলোতে তা দেখা যায়নি। বাস মালিক সমিতির নেতারা বলছেন, যাত্রী না থাকায় টার্মিনালগুলো থেকে বাস কম ছাড়ছে। যাত্রীদের তেমন কোনো চাপ নেই, অনেক বাস যাত্রী পাচ্ছে না বলে জানান মালিক সমিতির নেতারা। সায়েদাবাদ আন্তজেলা বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে যাত্রীদের তেমন ভিড় নেই। ঈদযাত্রা ব্যতীত অন্যান্য দিনের মতোই যাত্রীরা কাউন্টারে আসছেন। এদিকে, রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ট্রেনে মোটামুটি ভিড় রয়েছে তবে তা অতীতের তুলনায় বেশি না। যাত্রীদের ঈদযাত্রায় কোনো রকমের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে না। তবে বাসে যাত্রী পরিবহণ ঠিকঠাক থাকলে ট্রেনে স্বাভাবিকভাবেই যাত্রীরা যাতায়াত করতে পারবেন। সব মিলিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়নি ঈদযাত্রার সেই উপচে পড়া ভিড় কিংবা কাউন্টারে যাত্রীদের হই-হুল্লোর। স্বাভাবিক গতিতেই চলছে যাত্রীদের ঈদযাত্রা। অতীতের চিত্র মনে করলে দেখা যায় যেখানে যাত্রীরা দীর্ঘ লাইন ধরে থাকতেন টিকিটের জন্য। সেই টিকিটে বাসে উঠতেও দাঁড়াতেন লাইনে। এমন চিত্র এবছর নেই বললেই চলে। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, দুর পাল্লার কিছু কিছু বাস অগ্রিম টিকিটও দিচ্ছে না। স্বাভাবিক নিয়মেই বিক্রি করছেন ঈদযাত্রার টিকিট। তার মধ্যে মানিকনগর থেকে ছেড়ে যাওয়া একুশে পরিবহণ একটি। তাদের কাউন্টারে স্বাভাবিকের মতোই আসছেন যাত্রীরা। কাটছেন টিকিট। যাচ্ছেন গন্তব্যে। নেই উপচে পড়া ভিড়। একুশের কাউন্টার থেকে বুঝাই যাবে না যে যাত্রীরা ঈদ উপলক্ষ্যে বাড়ি যাচ্ছেন। আরমান নামের একুশের এক যাত্রী বলেন, এখানে কোনো অগ্রিম টিকিট নেই। অন্যান্য দিনের মতো কাউন্টারে আসলেই টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। তাছাড়া আশপাশের কাউন্টার গুলোতেও তেমন ভিড় দেখা যায়নি। একুশের দায়িত্বরত এক টিকিট মাষ্টার জানান, যাত্রীদের এতটা ভিড় নেই। অগ্রিম টিকিট কাকে দিবো। অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা লাগছে না। স্বাভাবিকভাবেই যাত্রীরা যেতে পারছেন। সায়েদাবাদ টার্মিনাল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম জানান, যাত্রী না থাকায় বাস কম ছাড়ছে। আজ বিকালে ঘরমুখী মানুষের চাপ কিছুটা বাড়তে পারে। সকাল থেকে যাত্রীদের কোনো চাপ নেই, অনেক বাস যাত্রী পাচ্ছে না। এছাড়া টার্মিনালে গাড়ির সংখ্যা অনেক বেশি। তবে তিনি জানান, আজ বিকাল থেকে যাত্রীদের চাপ কিছুটা বাড়তে পারে। আগামীকাল যাত্রীদের পুরোপুরি ভিড় হবে বলে মনে হচ্ছে।এদিকে, গতকাল বেলা সাড়ে ১০টা পর্যন্ত কমলাপুর থেকে ২৩টি ট্রেন ছেড়ে গেছে। এছাড়াও সারাদিনে ৩১টি আন্তনগর ট্রেনসহ ৬৬টি ট্রেন বিভন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। কমলাপুর স্টেশন আজ একটু বেশি ভিড় হয়েছে বলে জানান স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্ত্তী। তিনি বলেন, দুটি ট্রেন দেরি করে কমলাপুরে এসেছে। সেগুলো ছাড়তেও দেরি হয়েছে। নীলসাগরে অতিরিক্ত যাত্রী উঠে। এসব যাত্রী নামাতে সময় বেশি লাগছে বলে স্টেশনে পেঁৗঁছাতে সময় বেশি লাগে। আবার সেখান থেকেও নির্ধারিত সময়ের পরে ছেড়ে আসছে। এ কারণে কমলাপুরেও আসে দেরিতে। সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনেও একই কারণ। তবে এখন পর্যন্ত সবকিছু মোটামুটি ঠিক আছে। এভাবে চললে এবারের ঈদে বড় কোনো ঝামেলা হবে না আশা করছি।