রংপুরের পীরগঞ্জে ট্রাক উল্টে নিহত শহীদুলের বাড়ি লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার উত্তর বত্রিশ হাজারী গ্রামের বাড়িতে মায়ের আহাজারি। আর তাঁর কোলে অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকা শারমিন জানে তার বাবা নতুন জামা নিয়ে বাড়ি ফিরবে। ছবিটি গতকাল দুপুরে তোলা। ছবি : হায়দার আলী বাবু

অ- অ অ+

স্ত্রী-সন্তানসহ স্বজনদের জন্য ঈদের জামা-জুতা নিয়ে গাজীপুর থেকে বাড়ি ফিরছিল তারা। চড়ে বসেছিল সিমেন্টবোঝাই ট্রাকে।

চালক ঘুমাতে গিয়ে ট্রাক চালানোর দায়িত্ব দেন সহকারীকে। রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার কলাবাগান এলাকায় আসার পর ট্রাকটি উল্টে যায়। প্রাণ হারায় ১৭ জন, যাদের সবাই পোশাক কারখানার শ্রমিক। গতকাল শনিবার ভোরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা বলেছে, চালকের সহকারী বেপরোয়া গতিতে ট্রাক চালাচ্ছিলেন। তাঁকে চিত্কার করে সাবধান করেছিল তারা। কিন্তু তাদের কথা শোনেননি সহকারী। সে কারণে এ প্রাণহানি।

একই দিন গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গরুবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে যাত্রীবাহী লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে এক নারীসহ চারজন নিহত হয়েছে। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে একটি বাসের চালক নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ময়মনসিংহের ভালুকায় পৃথক দুর্ঘটনায় দুজন, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর, কুড়িগ্রামের রৌমারী, পিরোজপুরের কাউখালী ও রাজবাড়ী সদর উপজেলায় একজন করে নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরো অন্তত ৪৭ জন। এর মধ্যে মুন্সীগঞ্জে বাস খাদে পড়ে আহত হয়েছে ২০ জন।

আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিনিধি ও আঞ্চলিক প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

রংপুরে দুর্ঘটনা, কালীগঞ্জে কান্নার রোল : নিহতদের মধ্যে বেশির ভাগই লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। তারা হলো লতাবর গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে আলমগীর হোসেন (৩০), তাঁর ভাই সাদ্দাম হোসেন (২৪), তাঁদের ভগ্নিপতি ঘোংগাগাছ গ্রামের সৈয়দ আলীর ছেলে দেলোয়ার হোসেন (২৫), একই গ্রামের ডোংগাগাছা গ্রামের মনোয়ারের ছেলে মনির হোসেন (২২), চাপারহাট গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে মজনু মিয়া ও ঝন্টু মিয়া (৩৪) ও ঝন্টুর মেয়ে ঝর্ণা (১০), উত্তর বত্রিশহাজারী গ্রামের আহমেদ আলীর ছেলে কোহিনূর ইসলাম (৪০) ও আশরাফুল হকের ছেলে শাহীদুল ইসলাম (৩৫), বালাপাড়া গ্রামের শাহজামানের ছেলে মহসিন আলী (২৫)। অন্য যাদের পরিচয় পাওয়া গেছে তারা হলো লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা এলাকার আব্দুল খালেক ও বড়াইবাড়ি গ্রামের আজিজুল ইসলাম, হাতীবান্ধা উপজেলার মহিষখোচা গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে রবিউল আলম, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার সোনাগাছা গ্রামের নওয়াব সরকারে মেয়ে নাশিদা আখতার, ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার মিমগ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে আনিসুজ্জামান ও তাঁর স্ত্রী সামসুন্নাহার, ময়মনসিংহের ভালুকা গ্রামের সিরাজউদ্দিনের ছেলে আনসার সদস্য জসিম উদ্দিন।

দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ১১ জন নিহত হয়। পরে আহতদের উদ্ধার করে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে আরো ছয়জন মারা যায়। এ ঘটনায় আরো ২০ জন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

দুপুরে চাপারহাট এলাকায় গিয়ে জানা যায়, গাজীপুর থেকে লালমনিরহাটসহ বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৫০ জন শ্রমিক নিয়ে ট্রাকটি গাজীপুর থেকে রওনা দিয়েছিল। ট্রাকের প্রায় অর্ধেক ছিল সিমেন্ট আর তার ওপরই গাদাগাদি করে বসেছিল শিশু, নারী-পুরুষ। ঈদ মৌসুমে নিম্নমানের বাসের ভাড়া যেখানে এক হাজার ২০০ টাকা সেখানে ট্রাকে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় লালমনিরহাট আসা যায় তাই নিম্ন আয়ের এসব মানুষ উঠেছিল ট্রাকটিতে।

চাপারহাটের ‘স্বপ্নবিলাস’ সিনেমা হলের পাশের জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে গিয়ে জানা যায়, ট্রাকে তাঁর বড় ছেলে মজনু, ছোট ছেলে ঝন্টু ও তাঁর স্ত্রী জামিলা এবং তাঁদের মেয়ে ঝর্ণাকে নিয়ে সবাই একসঙ্গে ট্রাকে উঠেছিল। কিন্তু এ দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে মজনু, ঝন্টু ও ঝর্ণাকে। বাড়ির উঠোনের এককোণে বসে রয়েছেন বাড়ির কর্তা জাহাঙ্গীর। কাঁদতে কাঁদতে তাঁর চোখ লাল হয়ে উঠেছে। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বড় ছেলে কয়েক দিন আগে ফোনে আমার জুতার মাপ নিয়েছিল। বলেছিল আব্বা, আমি তোমার জন্য এক নম্বর জামা-জুতা নিয়ে যাব। বাড়ির অন্যদের জন্যও নতুন পোশাক কিনে সবার সঙ্গে ঈদ করতে সে রওনা দিয়েছিল। এখন ঈদ করব কী, আমার যেন প্রাণটাই চলে গেল। এক বাড়িতে তিন তিনটা লাশ…। ’ বাড়ির ভেতরে গিয়ে দেখা গেল, জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী মাহফুজা বিছানায় গড়াগড়ি দিয়ে বিরতিহীনভাবে কেঁদেই চলেছেন।

এ বাড়ি থেকে খানিকটা এগিয়ে দুর্ঘটনায় নিহত কহিনুরের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির বাইরে মাটিতে গড়াগড়ি দিয়ে ছেলের বউ রোজিনা কাঁদছেন আর নিজে নিজেই বলছেন, ‘সেহরির সময়ও কথা হয়েছে ওনার সাথে। বলেছেন ৯টার দিকে বাড়িতে আসবেন। ’ কথা প্রসঙ্গে বাড়ির আঙিনায় রাখা ইট দেখিয়ে বলেন, ‘ঈদে বাড়ি এসে এই ইট দিয়ে টিনের ঘরের মেঝেগুলো পাকা করার কথা ছিল। কিন্তু সেটা তো আর হলোই না, উল্টো বাবার মতো প্রিয় শ্বশুরকে হারালাম আর আমার শাশুড়িও এখন হাসপাতালে। ’

দুর্ঘটনার শিকার একেকটি পরিবারের কষ্ট যেন ছাপিয়ে গেছে আশপাশেরই আর একেকটি পরিবারকে। এ যেমন লতাবর গ্রামের আইয়ুব আলী। তিনি হারিয়েছেন তাঁর অবলম্বন দুই ছেলে আলমগীর (৩০) ও সাদ্দাম হোসেনকে (২৫)। সেই সঙ্গে প্রাণ গেছে মেয়েজামাই একই উপজেলার ঘোংগাগাছ গ্রামের দেলওয়ার হোসেনেরও। আলমগীরের রয়েছে ছয় বছর বয়সী একমাত্র মেয়ে আঁখিমনি এবং সাদ্দামের বছর দেড়েকের মেয়ে শারমীন। আঁখিমনির সঙ্গে কথা হলে সে জানায়, ‘বাবা আমার জন্য নতুন জামা-স্যান্ডেল নিয়ে বাড়িতে আসবে বলেছিল। কিন্তু আসার সময় অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে। ’ আর কোনো কিছুর উত্তর দেয়নি সে।

ড্রাইভার ছিল ঘুমে, হেলপারের ট্রাক দুর্ঘটনা : ট্রাকটির চালক ও তাঁর সহকারীকে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন বরদরগা হাইওয়ে পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার ধীরেন্দ্র নাথ সরকার।

দুর্ঘটনার পর পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আহত ট্রাকযাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে গাজীপুর থেকে রংপুরগামী সিমেন্টবোঝাই ট্রাকে চড়ে রওনা দেন ২৫ পোশাক শ্রমিক। পরে যাত্রীদের নিষেধ সত্ত্বেও আরো যাত্রী তোলা হয় ওই ট্রাকে।

আহত সালেহা বেগম বাংলা বলেন, ‘রংপুর পর্যন্ত আসার জন্য ২০ হাজার টাকায় চুক্তি হয় ওই ট্রাকের ড্রাইভারের সঙ্গে। যমুনা সেতুর কাছে এসে আরো কয়েকজন যাত্রী তোলা হয় ট্রাকে। আমরা নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু ড্রাইভার-হেলপার আমাদের কথা শোনেনি। ’ তিনি বলেন, যমুনা সেতু পার হওয়ার পর থেকেই চালক ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তারা টের পেয়ে তাঁকে কয়েকবার সাবধান করে। বগুড়া পার হওয়ার পর চালক গাড়ি চালানোর দায়িত্ব দেন তাঁর সহকারীকে। তিনি পাশের আসনে ঘুমিয়ে পড়েন। এরপর সহকারী বেপরোয়া গাড়ি চালাতে শুরু করে। এ কারণেই ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায় বলে মনে করেন সালেহা।

আহত পোশাক শ্রমিক মমতাজ বেগম বলেন, ‘আমরা প্রতিবছরই ঈদের সময় বাসে করে বাড়ি যাই। কিন্তু এবার বাসের টিকিট পাইনি। যে কারণে আমরা ট্রাকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। আমরা ২৫ জন মিলে ট্রাকটির সঙ্গে চুক্তি করি। ’

বড়দরগা হাইওয়ে পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার ধীরেন্দ্রনাথ সরকার বলেন, ‘এমনিতেই ট্রাকটি সিমেন্টবোঝাই ছিল। এর ওপর ৪০ জন যাত্রী তোলা হয়েছিল ট্রাকটিতে। ফলে এমনিতেই তারা ঝুঁকিতে ছিল। এর ওপর ড্রাইভার ঘুমিয়ে পড়ে হেলপারকে গাড়ি চালাতে দিয়েছিল বলেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। ’

পীরগঞ্জ থানার ওসি রেজাউল করিম বলেন, ‘দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে ট্রাকটিকে উল্টানো অবস্থায় দেখতে পাই। ’ যেসব যাত্রী ট্রাকের ওপরে ছিল, ট্রাকটি উল্টে যাওয়ায় তারা সবাই চাপা পড়ে বলে জানান ওসি। এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।

তদন্ত কমিটি : রংপুরের পীরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়ে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), রংপুরের সহকারী পরিচালক আব্দুল কুদ্দুসকে প্রধান করে তিন সদস্যের এ কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান। তিনি জানান, এ দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে ২০ হাজার এবং আহতদের প্রত্যেককে চিকিৎসা খরচের জন্য পাঁচ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর শোক : রংপুরের পীরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত-আহতদের বিষয়ে শোক প্রকাশ করেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ। গতকাল ঢাকা থেকে কালীগঞ্জের বাড়িতে ফেরার পথে বড়দরগা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে রাখা নিহতদের লাশের সারি দেখে তিনি বলেন, ‘একসঙ্গে এত মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না। ’

‘রানা এন্টারপ্রাইজের’ আদ্যোপান্ত : দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি রানা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি পরিবহনের। গাড়িটির নম্বর-ট-১১-০৩২৮। এর চালক কালীগঞ্জের দক্ষিণ চাপারহাটের (টাওয়ার মার্কেট) সাদেক আলীর ছেলে নাজিমুদ্দিন। আর তাঁর সহকারী হিসেবে ছিলেন একই এলাকার জোবেদ মাছুয়ার ছেলে আকিমুল। ট্রাকটির মালিকের নাম আব্দুল করিম। চাপারহাটে ‘রানা ট্রেডার্স’ নামে তাঁর রড-সিমেন্টের দোকান আছে। এর পাশাপাশি তাঁর ট্রাকের ব্যবসাও রয়েছে বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটিসহ তাঁর আটটি ট্রাক রয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্র মতে, নিজের দোকানের জন্য নিজের ট্রাকেই ঢাকা থেকে সিমেন্ট আনছিলেন করিম। আর অধিক মুনাফার আশায় মালিকের সঙ্গে পরামর্শ করেই চালক ওই দিন ট্রাকে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা জনপ্রতি ভাড়ায় মানুষগুলোকে তুলেছিলেন। দুই বছর ধরে ‘অফ চান্স’ হিসেবে ঈদের সময় ট্রাকে করে এর মালিক নিম্ন আয়ের মানুষদের নিয়ে আসতেন বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে। মাস দেড়েক আগে এ পরিবহনের অন্য একটি বাঁশবোঝাই ট্রাক থেকে বেশ কিছু মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছিল।

রংপুর বিআরটিএর সহকারী পরিচালক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘দুর্ঘটনাকবলিত রানা এন্টারপ্রাইজের ট্রাকটির কোনো ধরনের ফিটনেস সার্টিফিকেট ছিল না। ’

এ বিষয়ে কথা বলতে গতকাল দুপুর থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অসংখ্যবার রানা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আব্দুল করিমের মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এসএমএস পাঠিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি।

আট জেলায় নিহত আরো ১২ : গাজীপুরের কালিয়াকৈরের মৌচাক এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ট্রাক ও লেগুনার সংঘর্ষে নিহতদের মধ্যে তিনজন পুরুষ এবং একজন নারী। তবে তাঁদের কারোরই পরিচয় পাওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গাজীপুরের কোনাবাড়ী থেকে একটি লেগুনা ঈদযাত্রী নিয়ে কালিয়াকৈরের চন্দ্রায় আসছিল। লেগুনাটি কালিয়াকৈরের মৌচাক পেনসিল কারখানার সামনে পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা গাজীপুরগামী গরুবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে লেগুনাটি দুমড়েমুচড়ে সড়কের পাশে ছিটকে পড়ে। এতে নারী-শিশুসহ অন্তত ১৫ যাত্রী গুরুতর আহত হয়। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। সেখানে তিনজনের মৃত্যু হয়। মুমূর্ষু অবস্থায় দুজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান আরো একজন।

সালনা কোনাবাড়ী হাইওয়ে থানার ওসি কাজী হোসেন সরকার বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাকটি আটক করা হয়েছে। নিহতদের পরিচয় পাওয়া জানা যায়নি।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বোয়ালিয়া চক্ষু হাসপাতালের সামনে দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন রানা মিয়া (২৮) নামের একজন চালক। আহত হয়েছে আরো আটজন। নিহত রানা উপজেলার হামিদপুর গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার ইসলামপুর এলাকায় গাড়িচাপায় উসমান মিয়া নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। তিনি উপজেলার আলীনগর গ্রামের আব্দুল আহাদের ছেলে। খাঁটিহাতা হাইওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক মো. আব্দুল কাদের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার মাঠের ভিটা এলাকায় মোটরসাইকেলের ধাক্কা নুরুল ইসলাম (৩৬) নামের এক বাইসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। তাঁর বাড়ি উপজেলার ফকিরপাড়া গ্রামে।

ময়মনসিংহের ভালুকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছে। আহতদের ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক পার হওয়ার সময় নিহত হয়েছেন উপজেলার রাজৈ ইউনিয়নের ঢুলীভিটা গ্রামের আব্দুল মজিদের স্ত্রী আনোয়ারা খাতুন (৬০)। ভালুকা-গফরগাঁও সড়কের চান্দরাটি এলাকায় অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে প্রাণ হারিয়েছেন মাকসুদা আক্তার (২৪) নামের একজন। তিনি গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার সতেরবাড়ী গ্রামের মহর আলীর মেয়ে।

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার নিলতী এলাকায় মোটরসাইকেলচাপায় নিহত হয়েছেন মো. শামসুল হক তালুকার (৭৫) নামের এক বৃদ্ধ। তিনি উপজেলার সুবিদপুর গ্রামের বাসিন্দা।

এ ছাড়া ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বেজগাঁওয়ে ঢাকা থেকে মাওয়াগামী গুনগুন পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পরে গেলে অন্তত ২০ যাত্রী আহত হয়েছে।

চট্টগ্রাম নগরে টাইগার পাস ও সীতাকুণ্ডের বারৈয়ারহাট এলাকায় আলাদা সড়ক দুর্ঘটনায় ট্রাকচালকের এক সহকারী নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছে। নিহত আলাউদ্দিনের (২০) বাড়ি নোয়াখালী। বারৈয়ারহাট এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুই ট্রাকের সংঘর্ষে তাঁর মৃত্যু হয়।

এদিকে বটতলী রেলস্টেশনে যাওয়ার পথে টাইগার পাস মোড় এলাকায় অটোরিকশায় বাসের ধাক্কায় একই পরিবারের পাঁচজন আহত হয়েছে।

রাজবাড়ীর রামকান্তপুর ইউনিয়নের কাজিবাদা এলাকায় ট্রাকচাপায় নিহত হয়েছেন বাবু সেখ (২৫) নামের একজন। তিনি ওই এলাকার রাজেন্দ্রপুর গ্রামের জহির সেখের ছেলে।