ট্যাক্স ফাঁকির ঘটনা ফাঁস হওয়ায় চাপে ট্রাম্প

0
282
Smiley face

শনিবার রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দু’পক্ষের প্রচারণা একটা বড় ধাক্কা খায় রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৯৯৫ সালের আয়কর রেকর্ড নিয়ে আমেরিকার জাতীয় দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমসের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের কারণে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই সময়ে ট্রাম্প ব্যবসায় ৯১ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার লোকসানের ঘোষণা দেন। এর ফলে বৈধ উপায়েই এত বছর ধরে রাষ্ট্রীয় আয়কর না দিয়ে থেকেছেন তিনি।

কিছুদিন আগেই এই রিপাবলিকান প্রার্থী বলেছিলেন, দুই প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীর আয়কর রিটার্ন প্রকাশের রাষ্ট্রীয় নির্দেশ তিনি মানবেন না। এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে বেশ ভালো বিতর্কের সম্মুখীন হন ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন প্রকাশিত তথ্য যেন আগের বিতর্কের আগুনে ঘি ঢেলে দিলো।

নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, ট্রাম্পের কর বিষয়ক দলিলাদির তিনটি পৃষ্ঠা পেয়েছে তারা। সিল দেখে বোঝা যায়, সেগুলো নিউইয়র্ক থেকেই ডাকযোগে এক রিপোর্টারকে পাঠানো হয়েছিল। আর রিটার্ন অ্যাড্রেস হিসেবে লেখা ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম স্থাপনা ট্রাম্প টাওয়ারের নাম।

এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর ট্রাম্প একটি টুইটবার্তায় বলেন, ‘আমি আমাদের দেশের জটিল কর আইন সম্পর্কে আজ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে দাঁড়ানো যে কোনো ব্যক্তির চেয়ে বেশি জানি এবং আমিই একমাত্র এগুলোকে ঠিকঠাক করতে পারব।’

তবে ট্রাম্পের অনুসারীরা তার পক্ষ নিয়ে গণমাধ্যমে হাজির হন রোববার থেকেই। নিউ জার্সি গভর্নর ক্রিস ক্রিস্টি বলেন, নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে দেয়া তথ্যগুলো যদি সত্যি হয়, তবে বলতে হবে প্রতিবেদনটি ‘খুবই ভালো’ হয়েছে। এর মধ্য দিয়েই প্রকাশ পেয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প একজন জিনিয়াস। কেননা তিনি বৈধ উপায়েই আয়কর না দিয়ে প্রায় দুই দশক কাটিয়ে দিতে পেরেছেন।

মার্কিন টিভি চ্যানেল ফক্স নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রতিবেদনটি থেকেই নিশ্চিত হওয়া যায়, কর্মজীবী মানুষের ওপর থেকে করের বোঝা কমানোর জন্য সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি।

মার্কিন কর বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ অনুসারে নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, ’৯০-এর দশকে ঘোষিত দেউলিয়াত্বকে ব্যবহার করে লোকসানের সমপরিমাণ কর প্রদানযোগ্য অর্থ নতুন করে কামাই করা পর্যন্ত ট্রাম্প আয়কর শোধ না করেই ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারেন – এমন ফাঁক মার্কিন কর আইনে রয়েছে। ট্রাম্প সেই ফাঁককে কাজে লাগিয়েই এত বছর ধরে কর দেননি।

কিন্তু এরপরও কথা থেকে যায়। কেননা বৈধ উপায়ে হলেও ট্রাম্প ১৮ বছর ধরে কর ফাঁকি দিচ্ছেন। দু’দশক ধরে কর না দেয়া ব্যক্তি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্যতা রাখেন কিনা, সেই প্রশ্ন যেমন উঠছে। তেমনি বলা হচ্ছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো একই সুযোগ নিয়ে অন্য কেউও কর ফাঁকি দিতে পারেন।

সাম্প্রতিক বিজ্ঞানভিত্তিক জরিপে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনকে আসন্ন নির্বাচনে বিজয়ী ঘোষণা আর এরপর নতুন এই প্রতিবেদন – সব মিলিয়ে ট্রাম্পের নির্বাচনী ইমেজের ওপর প্রভাব খুব একটা ভালো পড়ছে না বলেই ধারণা বিশ্লেষকদের।

কেননা নতুন প্রতিবেদনটিকে ট্রাম্পের ওপর ‘কামানের গোলা’ বলে উল্লেখ করা ডেমোক্রেটিক দল বিষয়টিকে তাদের পক্ষেই ব্যবহারের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবে। আর চেষ্টা না করলেও ‘কর খেলাপি’ তকমা জুড়ে গেলে নির্বাচনের মাত্র মাসখানেক আগে তা মুছে ফেলা কঠিন হবে ট্রাম্পের জন্য।

LEAVE A REPLY