ঝালকাঠিতে সুপারির বাম্পার ফলন

0
95
Smiley face

সুপারি অঞ্চলখ্যাত দেশের ঝালকাঠি ও পিরোজপুরে এবার বাম্পার ফলন হয়েছে সুপারির। বেচাকেনায় ভালো দামও পাচ্ছেন চাষিরা।

প্রতি সপ্তাহে কোটি টাকার সুপারি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহের পাশাপাশি রপ্তানিও হচ্ছে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে।
ঝালকাঠি প্রতিনিধি জানান, জেলার রাজাপুরের ৫৪টি গ্রামে এবার সুপারির বাম্পার ফলন হয়েছে। এসব সুপারি জেলার চাহিদা মিটিয়ে পাঠানো হচ্ছে দেশের নানা প্রান্তে। এমনকি বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। সুপারি কিনতে দূর-দূরান্তের পাইকাররা এখন স্থানীয় বাজারগুলোতে ভিড় জমাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, ঝালকাঠির সুপারি ভারত, চীন, থাইল্যান্ডে রপ্তানি হয়। যশোর ও বেনাপোলের কিছু ব্যবসায়ী ঝালকাঠি থেকে সুপারি কিনে তা ভারতে এবং চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা চীন ও থাইল্যান্ডে রপ্তানি করেন।

সরেজমিনে রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া সুপারি কেনাবেচার হাটে দেখা গেছে, প্রতিদিন এই হাটে জেলা ও জেলার বাইরে থেকে ভিড় জমাচ্ছে শত শত কৃষক ও পাইকার। কেনাবেচা হচ্ছে লাখ লাখ টাকার সুপারি।

রাজাপুর উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর রাজাপুর উপজেলার ৫৪টি গ্রামের তিন শ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা সুপারির বাগানে বাম্পার ফলন হয়েছে। অনেকে আবার বাড়ির পাশে সুপারিগাছ লাগিয়েও ভালো ফলন পেয়েছেন। গত এক যুগের মধ্যে এ বছর সবচেয়ে বেশি ফলন হয়েছে বলে দাবি করছে কৃষি বিভাগ। বর্তমানে স্থানীয় বাজারগুলোতে সুপারির দামও বেশ ভালো থাকায় সুপারিবাগান মালিকরা বেশ লাভবান হচ্ছেন। বাজারগুলোতে স্থানীয় হিসাব অনুযায়ী প্রতি কুড়ি (দুই শ সুপারিতে এক কুড়ি) সুপারির ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে রাজাপুরের সুপারির সুখ্যাতি থাকায় পাইকারদের হাত ঘুরে বড় জাতের সুপারি দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে।
রাজাপুরের চাড়াখালী এলাকার সুপারির বাগান মালিক কিসমত ফরাজী বলেন, ‘গত কয়েক বছরের চেয়ে এ বছর ফলন হয়েছে তিন গুণ। আর সুপারির আকারও হয়েছে অনেক বড়। এ বছর আমি লক্ষাধিক টাকার সুপারি বিক্রি করতে পারব বলে আশা করছি। ’

একই গ্রামের রাসেল বেপারী বলেন, ‘আমার দুই একর জমিতে সুপারির বাগান রয়েছে। এ বছর বৃষ্টির কারণে সুপারির ফলন ভালো হয়েছে। কোনো পোকার আক্রমণও নেই। আমি এরই মধ্যে দুই লাখ টাকার সুপারি বিক্রি করেছি। বাগানে আরো সুপারি রয়েছে। ’

রাজাপুরের বাঘরি বাজারে ভ্যানগাড়িতে করে সুপারি নিয়ে আসা মো. হাসান জানান, এক ভ্যানগাড়ি সুপারি এক হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। এগুলো পাইকাররা কিনে ঢাকা, খুলনা ও চট্টগ্রামের বাজারে বিক্রি করে।

চট্রগ্রাম থেকে সুপারি কিনতে আসা পাইকার গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘আমরা এখান থেকে সুপারি কিনে ট্রাকযোগে চট্টগ্রাম নিয়ে যাই। সেখানে গিয়ে আড়তে সুপারির আকার নির্ধারণ করে বড় সাইজগুলো বিদেশে রপ্তানির জন্য মজুদ করি এবং অন্য সুপারিগুলো দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চালান করছি। ’

রাজাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রিয়াজ উল্লাহ বাহাদুর বলেন, ‘এ বছর আবহাওয়া ও বৃষ্টিপাত সুপারি চাষের অনুকূল হওয়ায় এ অঞ্চলে সুপারির ফলন অত্যধিক ভালো হয়েছে, যা দেখে এলাকার মানুষ সুপারি চাষে আরো উৎসাহী হবে। সুপারিবাগান মালিকরা প্রতিবছরই সুপারি বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন। ’ ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শেখ আবুবকর ছিদ্দিক জানান, জেলায় চলতি মৌসুমে ৫০০ হেক্টর জমিতে সুপারির আবাদ হয়েছে। লাভজনক বিধায় এ ফসলটি গ্রামীণ অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখছে।

পিরোজপুর প্রতিনিধি জানান, পিরোজপুরে ধানের পরেই দ্বিতীয় অর্থকরী ফসল সুপারি। লাভজনক অর্থকরী ফসল হিসেবে এ অঞ্চলের প্রতিটি বাড়িতে কমবেশি সুপারির চাষ করা হয়। দক্ষিণাঞ্চলে সুপারি উৎপাদনে প্রসিদ্ধ ইন্দুরকানী উপজেলা। আর তাই এ উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার থেকে বছরে প্রায় ১০ কোটি টাকার কাঁচা ও পাকা সুপারি সরবরাহ হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। পাশাপাশি এ সুপারি রপ্তানি হচ্ছে ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার আরো কয়েকটি দেশে। এ উপজেলায় চণ্ডীপুর, ঘোষেরহাট, পত্তাশী, বালিপাড়া, বটতলা, পাড়েরহাট, লাহুরী এবং ইন্দুরকানী সদরে সপ্তাহে দুদিন করে সুপারি কেনাবেচার হাট বসে। উপজেলায় ৩টি ইউনিয়নের ১৩টি হাটবাজারের মধ্যে ৮টি বাজারে প্রতি হাটে গড়ে প্রায় ৪০ লাখ টাকার সুপারি কেনাবেচা হয়। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বড় বড় পাইকার ও মহাজনরা আসেন এসব হাটে সুপারি কিনতে। দিনের কেনাবেচা শেষে তাঁরা লঞ্চ, ট্রলার ও ট্রাকে করে ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, সৈয়দপুর, রংপুর, বাগেরহাট, গাইবান্ধা, শরীয়তপুর, নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সুপারি চালান করেন। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত চলে কাঁচা ও পাকা সুপারি কেনাবেচা। গত বছরের তুলনায় এবার ফলন বেশি। মোরেলগঞ্জ থেকে চণ্ডীপুর হাটে আসা সুপারি ব্যবসায়ী হালিম জানান, এ বছর সুপারির বাজারদর অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি। তা ছাড়া এবার ফলনও বেশ ভালো। ইন্দুরকানী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো, তৌহিদিন ভূঁইয়া বলেন, সুপারি এ অঞ্চলের একটি অর্থকরী ফসল। এ উপজেলার প্রতিটি বাড়িতে কমবেশি সুপারির চাষ হয়। এবার ফলন ও দাম দুটোই বেশি। প্রতিবছর দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় এ উপজেলার প্রতিটি বাড়িতে সুপারিগাছের চারা লাগাচ্ছেন চাষিরা।

LEAVE A REPLY