জাহাজ নির্মাণ শিল্পে গড়তে পারেন ভবিষ্যৎ

    আপনি কি ডিপ্লোমা বা গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রিধারী প্রকৌশলী? চাকরির ক্ষেত্রে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছেন? উত্তর ‘হ্যাঁ’ হলে আপনার ভেবে থাকা খাতগুলোর সঙ্গে আরেকটি সম্ভাবনাময় খাত যোগ করতে পারেন। সেটি হলো ‘জাহাজ নির্মাণ শিল্প’।
    বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতের অন্তর্ভুক্ত জাহাজ নির্মাণ শিল্পে নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এ খাতের কাজে শুধু দেশেই সুযোগ নয়, বিদেশেও রয়েছে। জাহাজ নির্মাণ শিল্পে কাজের সম্ভাবনার বিষয়ে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে প্রথম জাহাজ রপ্তানিকারী প্রতিষ্ঠান আনন্দ গ্রুপের কারিগরি পরিচালক (টেকনিক্যাল ডিরেক্টর) সাইফুল ইসলাম বলেন, জাহাজ নির্মাণ শিল্পের কাজগুলো মূলত টেকনিক্যাল বিষয়। এ কারণে প্রকৌশল বিষয়ে পড়া লোকদের এখানে কাজের ভালো সুযোগ রয়েছে।
    জাহাজ নির্মাণের ক্ষেত্রে মূলত নেভাল আর্কিটেক্ট, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, মেরিন ইঞ্জিনিয়ার বেশি লাগে। ডিপ্লোমা ও গ্র্যাজুয়েট-উভয় ধরনের প্রকৌশলীরই দরকার পড়ে। তবে দেশে বর্তমান অবস্থায় ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের কাজের সুযোগ এখনো তুলনামূলক বেশি রয়েছে।
    এ ক্ষেত্রে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়, এ ব্যাপারে ওই কর্মকর্তা বলেন, নিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণত সব চাকরিপ্রত্যাশীকে ইংরেজি, গণিত ও মানসিক দক্ষতার ওপর একটি প্রিলিমিনারি পরীক্ষা দিতে হয়। সেখানে থেকে প্রত্যাশিত নম্বর অর্জনকারীদের মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়। মৌখিক পরীক্ষায় চাকরিপ্রত্যাশী জাহাজ নির্মাণসংশ্লিষ্ট যে বিষয়ে কাজ করবেন, সেই বিষয়ে তাঁর দক্ষতা ভালোভাবে পরখ করে দেখা হয়। লোক নিয়োগের জন্য বিভিন্ন পত্রিকার পাশাপাশি অনলাইন পোর্টালগুলোতে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়।
    এসব ক্ষেত্রে শিক্ষাজীবনে অর্জিত ফল (একাডেমিক রেজাল্ট) কতটা গুরুত্ব বহন করে, এ বিষয়ে আনন্দ গ্রুপের ওই কর্মকর্তা বলেন, অবশ্যই, ভালো একাডেমিক রেজাল্টের বিষয়টির গুরুত্বসহকারে দেখা হয়। তবে লোক নিয়োগ করতে গিয়ে দেখা গেছে, খুবই ভালো ফল অর্জন করেছেন, কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে তেমন দক্ষ নন। আবার ভালো একাডেমিক ফল না করে মোটামুটি ফল নিয়ে ভালো করেছেন। তবে, প্রার্থীকে অর্জিত ফলের সঙ্গে অবশ্যই বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
    কাজে যোগদানের সময়ের বেতনের বিষয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, আনন্দ শিপইয়ার্ড সাধারণত সদ্য পাস করা ডিপ্লোমাধারী মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা বেতনে কাজ শুরু করেন। আর গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রিধারী মাসে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকায় শুরু করেন। এ ছাড়া কোম্পানির নিয়মানুযায়ী তাঁরা অন্যান্য সুবিধা পান। প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিবছরই কাজের ভিত্তিতে ইনক্রিমেন্ট ও ইনসেনটিভ দেয়। অভিজ্ঞ প্রার্থীরা যোগ্যতা অনুযায়ী আরও বেশি বেতন পান। বাংলাদেশে এ খাতের সম্ভাবনার বিষয়ে সাইফুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ থেকে আনন্দ শিপইয়ার্ড ও ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড ইতিমধ্যেই বিদেশে জাহাজ রপ্তানি করেছে। এ ছাড়া দেশে আরও অন্তত আটটি শিপইয়ার্ড রপ্তানি উপযোগী জাহাজ নির্মাণ করার মতো সক্ষমতা অর্জন করেছে। সরকারি ডকইয়ার্ডের পাশাপাশি ঢাকা ও চট্টগ্রামে ১০০টির বেশি ছোট ও মাঝারি ধরনের ডকইয়ার্ড গড়ে উঠেছে। কাজেই দিন দিন এ খাতে কাজের সুযোগ বাড়ছে।
    দেশের বাইরে কাজের সুযোগের বিষয়ে সাইফুল ইসলাম বলেন, বিদেশে এ শিল্পের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে সিঙ্গাপুর, কাতার, সৌদি আরবসহ নৌপথে আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত অনেক দেশেই চাকরি সুযোগ রয়েছে। সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলোতে অভিজ্ঞ কর্মীদের ভালো বেতন দেওয়া হয়। দেশের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি বেতন পাওয়া যায়। দেশে এ খাতে দু-তিন বছর কাজ করলেই তাঁর সামনে আন্তর্জাতিক বাজারে কাজের সুযোগ উন্মুক্ত হয়ে যায়। কাজেই এ খাতে ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখতেই পারেন!