জামিন পেলেও এখনই মুক্তি মিলছে না খালেদার

Smiley face

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টে দেয়া জামিন আদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে পাঁচ বছরের সাজার রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে করা খালেদা জিয়ার আপিল শুনানি ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। আজ বুধবার সকালে (১৬মে) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দিয়েছেন।
বিএনপি প্রধানের আইনজীবী সগির হোসেন লিওন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে জামিন দিয়েছে আদালত। তবে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোয় এখনই খালেদা জিয়ার মুক্তি মিলছে না। চারটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না খালেদা জিয়া।

খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, যেসব মামলায় খালেদা জিয়াকে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে সেগুলোর কোনো সারবত্ত্বা নেই। আশা করছি এক সপ্তাহের মধ্যেই মুক্তি পাবেন তিনি।

খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সর্বোচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেও খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অন্য মামলা থাকায় তিনি এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না। তার মুক্তির ক্ষেত্রে কিছুটা বাধা আছে। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কুমিল্লায় তিনটি, ঢাকায় দুটি ও নড়াইলে একটি মামলা রয়েছে। যেহেতু সর্বোচ্চ আদালত তাকে জামিন দিয়েছেন তাই নিম্ন আদালতে খালেদা জিয়ার জামিন পেতে খুব একটা বেশি দেরি হবে না। আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় তাকে জামিনে বের করে আনবো। খালেদা জিয়া শিগগিরই নেতাকর্মীদের মাঝে ফিরে আসবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলাটির রায়ের পর থেকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে। এছাড়া মামলাটির রায়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পাঁচজনকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায়ের পর জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন খালেদা জিয়া, যার ওপর শুনানি নিয়ে গত ১২ মার্চ হাইকোর্ট চারটি দিক বিবেচনায় তাঁকে চার মাসের জামিন দেয় হাইকোর্ট।

এই জামিনাদেশ স্থগিত চেয়ে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ পৃথক আবেদন করে। শুনানি নিয়ে ১৪ মার্চ আপিল বিভাগ ওই জামিন স্থগিত করে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষকে এই সময়ের মধ্যে নিয়মিত লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করতে বলেন। অন্যদিকে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার চেয়ে আবেদন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা, যা গত ১৪ মার্চ চেম্বার বিচারপতির আদালতে ওঠে। আদালত আবেদনটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। পরে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ পৃথক লিভ টু আপিল করে।

গত ৮ ও ৯ মে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী খুরশীদ আলম খান, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আপিল বিভাগে যুক্তিতর্ক তুলে ধরেন। এরপর গতকাল মঙ্গলবার রায়ের কথা থাকলেও অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আবার যুক্তিতর্ক তুলে ধরার আবেদন জানান। এতে অনুমতি দেন আপিল বিভাগ। দুপুরে তার যুক্তি উপস্থাপন শেষ হলে রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন আদালত।

প্রসঙ্গত, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন নিম্ন আদালত। এ মামলার অপর আসামি খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বাকি পাঁচজনকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা জরিমানাও করা হয়।