জামায়াতের ঘাঁটি ভাঙতে কঠিন পথ আওয়ামী লীগের

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম-১৫ লোহাগাড়া-সাতকানিয়া আসনের প্রত্যন্ত অঞ্চলে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে মাঠে-ঘাটে আলোচনার ঝড় বইছে। কারা সম্ভাব্য প্রার্থী হবে এ নিয়ে হিসাব কষতে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ। এ আসনটি জামায়াত শিবিরের ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত। ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে ন্যাপের বিজয়ী প্রার্থী মোসতাক আহমদের ফল পাল্টে নৌকার এম সিদ্দিককে বিজয়ী ঘোষণা এবং ২০১৪ সালের বিএনপিবিহীন নির্বাচন ছাড়া চট্টগ্রাম ১৫ আসনে বিগত ৪০ বছরে বিএনপি-জামায়াত ঘরানার বাইরের কারো বিজয়ের ইতিহাস নেই। আসনটিতে বার বার প্রার্থী পরিবর্তন করেও আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের বিজয়ী হওয়া তো দূরের কথা, জোর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসাও সম্ভব হয়নি। গত নবম সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বেশ দাপটের সঙ্গে নির্বাচিত হন বিএনপি-জামায়াত জোটের টিকিটে মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা শামসুল ইসলাম।
তবে এ আসনে বিএনপিবিহীন দশম নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ কৌশল করে জামায়াত ঘরানার এক নেতাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। তিনি হচ্ছেন জামায়াতের সমর্থক ও পৃষ্ঠপোষক হিসেবে পরিচিত ড. আবু রেজা নিজামুদ্দিন নদভী। তাকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাইয়ে দেয়ার নেপথ্যে অনেক কাহিনী এলাকার মানুষের মুখে মুখে শোনা যায়। এ ব্যাপারে সাতকানিয়া উপজেলার সাধারণ মানুষ বলেন, আবু রেজা নিজামুদ্দিন নদভীকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী করার ব্যাপারে গত দশম নির্বাচনে কলকাঠি নেড়েছেন চট্টগ্রামের প্রভাবশালী এক মন্ত্রী। তার উদ্দেশ্য ছিল ‘জামায়াতের লোক দিয়ে জামায়াতের দুর্গ দখল। এ আসনে নদভীকে প্রার্থী করায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা চরম ক্ষুব্ধ ছিলেন। তবে আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীরা দলের বৃহত্তর স্বার্থের কথা চিন্তা করে জামায়াত ঘরানার এ নেতার জন্য কাজ করেছেন। বর্তমানে আসনটির এমপি তিনি। একাদশ নির্বাচনের বিষয়ে জানতে চাইলে নদভী বলেন, ১৯৭৩ সালের পরে কোন সাংসদ যে উন্নয়ন করতে পারেনি, আওয়ামীলীগ সরকারে আমলে সেই উন্নয়ন করেছি আমি। শুধু তাই নয় আমার ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে অনেক উন্ন্য়ন করেছি। সেই কারণে আমি আগামি একাদশ নির্বাচনে আবার মনোনয়ন প্রত্যাশা করছি।

এদিকে আগামী একাদশ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ থেকে একাদিক নেতা মনোনয়ন চাইবেন বলে শোনা যাচ্ছে। তারা হলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, জেলা আওয়ামীলীগ নেতা চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও রূপালী ব্যাংকের পরিচালক সাংবাদিক নেতা আবু সুফিয়ান, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা ডা. আ ম ম মিনহাজুর রহমান, বনফুল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সাতকানিয়া উপজেলা আ.লীগের সভাপতি এম.এ. মোতালেব সিআইপি, দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নরুল আফছার চৌধুরী। তবে কেন্দ্রীয় নেতা আমিনুল ইসলাম আমিন গত ৯ বছরে লোহাগাড়া ও সাতকানিয়ায় নিয়মিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে জনগণের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করেছেন। উন্নয়ন কর্মকা-েও ব্যাপক অংশগ্রহণ করেছেন। যার কারণে দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। এবারের নির্বাচনে নতুন প্রজন্মের নেতাকর্মীরা নতুন মুখ প্রত্যাশা করছেন। মনোনয়ন বিষয়ে জানতে চাইলে, জেলা আওয়ামীলীগ নেতা, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও রূপালী ব্যাংকের পরিচালক সাংবাদিক নেতা আবু সুফিয়ান বলেন, গত নির্বাচনে আমি মনোনয়ন চেয়েছিলাম এবং একাদশ নির্বাচনেও মনোনয়ন চাইবো। তবে দলের হাই কমান্ড মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করবো। অপরদিকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি অধ্যাপক শেখ মোহাম্মদ মহীউদ্দিন। অন্যদিকে এ আসনটি যেহেতু জামায়াত শিবিরের ঘাঁটি এবং দলটির নিবন্ধন বাতিল হয়েছে, তাই একাদশ নির্বাচনে জামায়াতের পক্ষ থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে আনম শামসুল ইসলাম নির্বাচন করবে বলে শোনা যাচ্ছে। উল্লেখ্য চট্টগ্রাম- ১৫ আসনে ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এলডিপি’র পক্ষে ড. কর্নেল (অব:) অলি আহমদ বীরবিক্রম, আওয়ামীলীগের পক্ষে এডভোকেট এ.কে.এম সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ও জামায়াতের পক্ষে আনম শামশুল ইসলাম নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেন। জয় লাভ করেন জামায়াত প্রার্থী আনম শামশুল ইসলাম। ১৯৯১ হতে ২০০৯ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত চারবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনবার জামায়াত প্রার্থী ও একবার বিএনপি প্রার্থী জয়লাভ করেন। তবে ২০১৪ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয় লাভ করেন।