জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ সেশন জট, দিশেহারা গ্রন্থাগারের শিক্ষার্থীরা

0
182
Smiley face

মোঃ রাজিব তালুকদারঃ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রুটিন অনুযায়ী গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞানে সর্বশেষ ২০১৪-২০১৫ শিক্ষাবর্ষে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। দু’টি শিক্ষাবর্ষ পেরিয়ে গেলেও এর পর আর কোন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞানে। দীর্ঘ এ সেশন জটের কারনে দিশেহারা হয়ে পরেছে গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞানের দু’ই শিক্ষাবর্ষের হাজার হাজার শিক্ষার্থীরা। দুটি শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষা কখন অনুষ্ঠিত হবে এর কোন খবর না পাওয়া গেলেও এরইমধ্যে ভর্তি করা হয়েছে ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদেরকে। গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী মোঃ আল আমিন জানান, ২০১৫-২০১৬ শিক্ষাবর্ষে পটুয়াখালীতে গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞানে কলেজে ভর্তি হয়ছি। পরীক্ষায়র জন্য ফরম পূরণও করেছি দুই বছর পূর্বে। কিন্তু এখনও কোন পরীক্ষায় অনুষ্ঠিত হয় নাই। পূর্বে দুই বার পরীক্ষার রুটিন দেয়ার পরে পরীক্ষা স্থাগিত করা হয়েছে। শেষবার পরীক্ষা দিতে কেন্দ্রে গিয়ে নোটিশ দেখতেপাই অনিবার্য কারনে পরীক্ষা স্থাগিত করা হল। আমি একটি গালর্স স্কুলে সহকারী লাইব্রেীয়ান পদে চাকুরী করিয়া। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট না থাকায় ১১ কোডের বেতনস্কেলে বেতন পাই। এমন আর কতদিন চলবে ? একই কলেজে শিক্ষার্থী জহিরুল ইসলাম, চায়না আক্তার, ফয়সাল হোসেন ও মোঃ মিজানুর রহমান জানায়, তারা ২০১৬-২০১৭ শিক্ষাবর্ষে গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞানে ভর্তি হয়েছেন। কোর্সের মেয়াদ ২০১৬ থেকে জুন ২০১৭ এক বছর। কার্সে অনুযায়ী প্রথম সেমিস্টার পরীক্ষা হবে ডিসেম্বর’১৬ ও দ্বিতীয় সেমিস্টার জুন’১৭। ভর্তির পর থেকে কাঠালিয়া থকে ৩০ মিঃ মিঃ পথ পারি দিয়ে নিয়মিত ক্লাসে অংশগ্রহণসহ পড়া লেখা করে আসছেন এবং রুটিন অনুযায়ী ডিসেম্বর মাসে টিউটেরিয়াল পরীক্ষায় দিয়ে প্রথম সেমিস্টার পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণও করছেন। জুন’১৭ মাসে দ্বিতীয় সেমিস্টার পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের কোর্স শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রথম সেমিস্টার পরক্ষীই অনুষ্ঠিত হয় নাই। তাঁরা ক্ষোপ প্রকাশ করে বলেন আমাদের পরীক্ষার কোন খবর নাই, এদিকে আবার ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদেকও ভর্তি করে বসে আছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এবিষয়ে পটুয়াখালী গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞানে কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ শাহিদুল ইসলাম জনান, বগুরা গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান নামে একটি কলেজ আছে। ঐ কলেজে ২’শ আসন থাকা সত্যেও ৭’শ শিক্ষার্থীকে ভর্তি হয়েছে। ২০১৬ শিক্ষাবর্ষে ২’শ শিক্ষর্থীকে পরীক্ষার অনুমতি দেয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। বাকী ৫’শ শিক্ষার্থীর পরীক্ষার অনুমতি না পেয়ে উক্ত কলেজের অধ্যক্ষ মামলা করেছেন। এ মামলার কোন নিষ্পত্তি না হওয়ায় এ সেশন জটের তৈরী হয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। মামলা প্রত্যাহার না হাওয়া পর্যন্ত পরীক্ষার কোন সম্ভাবনা নেই। সাড়াদেশের শিক্ষার্থীদের স্বার্থে বগুরা কলেজের অধ্যক্ষ মামলা প্রত্যহার করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি আরো জানান, দীর্ঘ সেশন জটের কারনে সাড়া দেশের শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বিধায় কিছুদিন পূর্বে পরীক্ষার দাবীতে মানবন্ধন করা হয়েছে।তবে এবিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয় নাই।

LEAVE A REPLY