জাতীয় নির্বাচনে অনিয়ম হবে না এমন নিশ্চয়তা নেই: সিইসি

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনে কোথাও কোনো অনিয়ম হবে না- এমন নিশ্চয়তা দেয়ার সুযোগ নেই। অনিয়ম হলে আমরা নিয়ন্ত্রণ করব। অনিয়ম হলে নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    তিনি বলেন, দেশে নির্বাচনী পরিবেশ ভালো আছে। অক্টোবরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে এবং ডিসেম্বরে বা জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

    মঙ্গলবার নির্বাচন প্রশিক্ষণ ভবনে এক কর্মশালার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি এসব কথা বলেন।

    এর আগে ‘নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রতিবন্ধী নাগরিকদের অংশগ্রহণে চ্যালেঞ্জসমূহ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন সিইসি কে এম নুরুল হুদা।

    এতে সভাপতিত্ব করেন নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক মোস্তফা ফারুক।

    পাঁচ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের অভিজ্ঞতার পরিপ্রেক্ষিতে সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন নিয়ে অনেকে সংশয় প্রকাশ করছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিইসি বলেন, আমরা অস্বস্তিতে নেই। আমরা মনে করি না, জাতীয় নির্বাচনে এ ধরনের অসুবিধা হবে। তবে পাবলিক নির্বাচন, বড় বড় নির্বাচনে কোথাও কোনো অনিয়ম হবে না- এই নিশ্চয়তা দেয়ার সুযোগ আমার নেই। অনিয়ম হলে আমরা তা নিয়ন্ত্রণ করব। নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত করে অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

    এ সময় সিইসি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ইতিপূর্বে যেখানে বেশি অনিয়ম হয়েছে, আমরা সেখানে বেশি অ্যাকশন নিয়েছি। যেমন বরিশালে বেশি অনিয়ম হয়েছে, সেখানে আমরা বেশি অ্যাকশন নিয়েছি।

    গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন সম্প্রতি বলেন, ইসির ওপর জাতির আস্থা নেই। এর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে সিইসি বলেন, ‘ড. কামাল কীভাবে দেখেন, জাতির কোনো পরিসংখ্যান কী তার কাছে আছে? এ ধরনের তথ্য তার কাছে আছে কিনা তা আমি জানি না। একটা কথা বলতে হলে জাতির পরিসংখ্যান নিতে হয় এরপর কথা বলতে হয়।

    তিনি বলেন, ইসির ওপর আস্থা নেই, এ রকম কথা তো আমি শুনি নাই।

    আগামী ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন করার মতো পরিবেশ আছে কিনা জানতে চাইলে সিইসি বলেন, আমি মনে করি আছে। নির্বাচনী পরিবেশ আছে, অসুবিধা কোথায়? আমি তো অসুবিধা দেখি না। সাংবিধানিক ধারা অনুসারে নির্বাচন হবে।

    তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে তো প্রস্তুতি আগ থেকেই ছিল। অঙ্কেই তো বলে অক্টোবর থেকে নির্বাচনের সময় শুরু হবে এবং ডিসেম্বরের মধ্যে অথবা জানুয়ারির প্রথম দিকে নিয়ম অনুসারে, সময়ের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে।

    নুরুল হুদা বলেন, অক্টোবরে নির্বাচনের তফসিল দিতেই হবে। একটা বাধ্যবাধকতা আছে। সাম্প্রতিক শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্ক নেই বলেও মনে করেন তিনি।

    জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে সিইসি বলেন, অনেক কাজ করছি- যেমন ভোটার তালিকা হয়ে গেছে, প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল হয়েছে, সীমানা পুনর্নির্ধারণ হয়েছে, ভোটকেন্দ্র নির্ধারণের কাজ চলছে। এবং এই কাজগুলো তো অনবরত চলছে।