প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামী নির্বাচন আ.লীগের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনে সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। দলকে বদনামে ফেললে মনোনয়ন দেওয়া হবে না। যে মনোনয়ন পাবে নেতাকর্মীদের তার পক্ষেই কাজ করতে হবে। জনগণের মন জয় করেই ক্ষমতায় আসতে হবে।
শনিবার (২৩জুন) আওয়ামী লীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে গণভবনে দলের বিশেষ বর্ধিত সভায় এসব কথা বলেন দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।এসময় আওয়ামী লীগ সরকার যুগের সাথে তাল মিলিয়ে অর্থনৈতিক নীতিমালাকে সময় উপযোগী করেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নৌকায় মার্কায় ভোট পেলেই এ দেশের মানুষ সব পায়। ভাষার অধিকার, স্বাধীনতা, দারিদ্র্য মুক্তি, শিক্ষার আলো, রাস্তা-ঘাট, স্কুল কলেজ সব পেয়েছে।’ ‘আমরা সারা দেশের উন্নয়ন করছি। আজকে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। দেশের প্রতিটি উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত আছে আ.লীগ। প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় পেয়েছে।’

আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, দুর্নীতিবাজরা নয় নিজ এলাকায় যার জনপ্রিয়তা আছে তাকেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নমিনেশন দেওয়া হবে।
‘যেসব এমপি টাকা নিয়ে কাজ করেন, দুর্নীতি করেন, তারা নমিনেশন পাবেন না। নমিনেশন দেওয়া হবে এলাকায় যার জনপ্রিয়তা আছে তাকেই।’

কেউ দলের বিরুদ্ধে কথা বললে তার মনোনয়ন পাওয়ার কোনও সুযোগ নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভোটের রাজনীতি করতে হলে উন্নয়নের কথা জনগনের সামনে তুলে ধরতে হবে।’ দুঃসময়ে দলের হাল ধরে রাখা কর্মীরা যাতে অবহেলিত না হয় সেদিকে নজর রাখা হবে বলেও জানান আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘নির্বাচনের স্বার্থে মহাজোট করেছে আওয়ামী লীগ। কিন্তু দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি লীগের।’ আওয়ামী লীগ যাকে মনোনয়ন দিবে তার হয়ে সবাইকে কাজ করতে নেতাকর্মীদের নির্দেশও দেন প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়া আওয়ামী লীগে সুযোগ সন্ধানীদের প্রতি নজর রাখার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের সজাগ থাকতে বলেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি স্বাধীনতা বিরোধীরা যাতে ভোট না পায় সে ব্যাপারে সজাগ থাকারও নির্দেশ দেন তিনি।

বাঙালির যা কিছু অর্জন সবই আওয়ামী লীগের শাসনামলে এসেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল বাংলাদেশকে স্বাধীন করার জন্য। সব ধর্মের মানুষের দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এই দল।’ ‘৭৫ এর পর এদেশের ক্ষমতা ছিল ক্যান্টনমেন্টে বন্দী। রাজনীতি জনগণের কল্যাণে না হলে তা দিয়ে জনগণের জন্য কিছু করা যায় না। ক্ষমতা নিজেদের ভোগ দখলের জন্য না।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সবসময় কাজ করেছে জনগণের জন্য। রাজনীতি সঠিক হলে এবং দেশের কল্যাণে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করলে দেশের উন্নয়ন হয় এটি প্রমাণ করেছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ কথা দিলে কথা রাখে।’

বিএনপির রাজনীতির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দূর্নীতিবাজদের দলে রাখার জন্য দলের গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করে বিএনপি নিজেদের দুর্নীতিবাজ দল হিসেবে প্রমান করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগে যারা ক্ষমতা কুক্ষিগত করেছিল, যারা ক্ষমতার আশেপাশে ছিল শুধু তাদেরই ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু আমরা সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে মানুষ খুন করেছে। দুর্নীতি করেছে। অত্যাচার করেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ মানুষের ঘরে ঘরে উন্নয়ন পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে। আমরা মানুষের জন্য কাজ করেছি। যার কারণে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে।

এর আগে স্বাধীনতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু জানতেন- ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয় লাভ করবে এবং পাকিস্তানিরা ক্ষমতা হস্তান্তর করবে না, এ কারণে অনেক প্রস্তুতি প্রয়োজন। সে কারণে তিনি লন্ডনে বসে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন। কিন্তু সেসব বিষয় তখন মুখে বলেননি। তিনি অসহযোগ আন্দোলন ডাক দিয়ে স্বাধীনতার ক্ষেত্র প্রস্তুত করেন। ৭ মার্চের ভাষণে তিনি গেরিলা যুদ্ধের নির্দেশনা দিয়েছিলেন। ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আমরা মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করি এবং বিশ্বজনমতের কারণে স্বাধীনতা অর্জনের পর বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয় পাকিস্তানি বাহিনী।’

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘দেশে ফিরে এসেই যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে গড়ে তোলার দায়িত্ব তুলে নেন বঙ্গবন্ধু। পৃথিবীর ইতিহাস থেকে জানা যায়, বিশ্বের কোনও দেশ থেকে কোনও মিত্রবাহিনী ফেরত যায়নি। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মিসেস ইন্দিরা গান্ধী কয়েক মাসের মধ্যেই বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় বাহিনীকে ফেরত নেন। এটাও হয়েছে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের কারণে।’

১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের দায়িত্ব নেওয়ার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘১৯৭৫ সালে পরিবার হারিয়ে আমি আওয়ামী লীগের কাছেই বাবার ভালোবাসা পেয়েছি, ম