চীনের বাজারে ৯৭ শতাংশ পণ্যে শুল্ক সুবিধা পাবে বাংলাদেশ।

চীনের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তিতে যাওয়ার জন্য দেশটির কাছে লেটার অব ইনটেন্ট (সম্মতিপত্র) পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। এখন দেশটি অনুমোদন দিলে নতুন বাণিজ্য সুবিধা কার্যকর হবে দুই দেশের মধ্যে। জিরো ট্যারিফ স্কিম নামের এই বাণিজ্য সুবিধায় চীনের বাজারে ৯৭ শতাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা পাবে বাংলাদেশ। তবে এর বিপরীতে বর্তমানে আপটার (এশিয়া প্যাসিফিক ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট) আওতায় যে সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে তাতে ছাড় দিতে হবে। অর্থাৎ সেই সুবিধা আর পাওয়া যাবে না। গতকাল সচিবালয়ে চীনের রাষ্ট্রদূত ঝ্যাং জুয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, এ মুহূর্তে বাংলাদেশ আপটার আওতায় চীনের কাছ থেকে ৫ হাজার ৭৪টি রপ্তানি পণ্যের ওপর শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা পাচ্ছে। জিরো ট্যারিফ স্কিমের আওতায় চীনে বাণিজ্য সুবিধা গ্রহণ করলে ওই দেশটিতে আর আপটা সুবিধা কার্যকর হবে না। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করার জন্যও চীন আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে উভয় দেশের মধ্যে এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়েছে। এখন এফটিএর সম্ভাব্যতা যাচাই প্রক্রিয়া চলছে। সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলে বাংলাদেশ চীনের সঙ্গে এফটিএ স্বাক্ষর করবে। বর্তমানে চীনের বাজারে আপটা ও ডব্লিউটিও এ দুই ধরনের বাণিজ্য সুবিধা পাচ্ছে বাংলাদেশ। আপটার আওতায় শুল্কসুবিধার ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে ৩৫ শতাংশ এবং ডব্লিউটিওর শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধার আওতায় ৪০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের শর্ত রয়েছে। এ দুটি সুবিধায় চীনের ট্যারিফ লাইনের ৬৫ শতাংশ পণ্যে শুল্ক সুবিধা পায় বাংলাদেশ। তবে এর মধ্যে দেশের প্রধান প্রধান রপ্তানি পণ্যগুলো অন্তর্ভুক্ত না থাকায় চীনের বাজারে প্রচলিত এই বাণিজ্য সুবিধা বাংলাদেশের কোনো কাজে লাগছে না। প্রস্তাবিত জিরো ট্যারিফ স্কিমে ঢুকলে বাংলাদেশে তৈরি পোশাক, চামড়াসহ প্রধান প্রধান রপ্তানি পণ্যগুলো শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা পাবে। বৈঠক শেষে চীনের রাষ্ট্রদূত সাংবাদিকদের বলেন, চীন বাংলাদেশকে উচ্চমাত্রায় গুরুত্ব দেয়। বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক চমৎকার। বাংলাদেশের সঙ্গে এফটিএ স্বাক্ষর করে বাণিজ্য ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করতে চায় চীন।