গৃহবধূর লাশ হাসপাতালে রেখে পালালেন স্বামী

লাশ উদ্ধার

শেরপুর প্রতিনিধি: শেরপুরে শেফালী বেগম (২৫) নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে সদর থানা-পুলিশ। স্বামীর শারীরিক নির্যাতনে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার পরপর হাসপাতালে লাশ ফেলে রেখে স্বামী লাভলু মিয়া পালিয়ে গেছেন। নিহত শেফালী সদর উপজেলার হাতিআগলা গ্রামের লাভলু মিয়ার স্ত্রী ও ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার বালিহালা গ্রামের মোহাম্মদ আলীর মেয়ে। আজ সোমবার সকালে তিনি জেলা সদর হাসপাতালে মারা যান।

হাসপাতাল, পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আড়াই বছর আগে বাসচালক লাভলুর সঙ্গে শেফালীর বিয়ে হয়। তাঁরা সদর উপজেলার কুসুমহাটি বাজারের একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। কিন্তু বিয়ের পর থেকে নানা বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। এর জের ধরে গত শনিবার সন্ধ্যায় লাভলু স্ত্রী শেফালীকে বেদম মারধর এবং তলপেটে লাথি মেরে আঘাত করেন। এতে শেফালী গুরুতর আহত হন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শনিবার রাত সাড়ে নয়টায় লাভলু স্ত্রী শেফালীকে জেলা সদর হাসপাতালে এনে ভর্তি করান। পরে আজ সোমবার সকালে তিনি এই হাসপাতালে মারা যান। কিন্তু স্বামী লাভলু স্ত্রীর লাশ গ্রহণ না করে কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান। পরে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) নাহিদ কামালের নিকট থেকে সংবাদ পেয়ে সদর থানা-পুলিশ শেফালীর লাশ উদ্ধার করেন।

(আরএমও) নাহিদ কামাল বলেন, শেফালীর তলপেটে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। এ কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

শেফালীর বাবা মোহাম্মদ আলী অভিযোগ করে বলেন, তাঁর জামাতা লাভলু শেফালীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে হত্যা করেছে। এ ঘটনার জন্য তিনি লাভলুর বিচার দাবি করেন।

সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এ ঘটনায় সদর থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের ঘাড়ে ও তলপেটে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।