গত দু’মাসে ভারতে মারা গেছে ১০৬টি চিতাবাঘ

Smiley face

ওয়াইল্ডলাইফ প্রোটেকশন সোসাইটি অফ ইন্ডিয়া (ডব্লিউপিএসআই)-র প্রকাশ করা এক রিপোর্টে রাতের ঘুম উড়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় পরিবেশ ও প্রাণী সংরক্ষণ দপ্তরের। রিপোর্টে বলা হয়েছে, চলতি বছর অর্থাৎ ২০১৮-র প্রথম দু’মাসে সারা ভারতে মোট ১০৬টা চিতাবাঘের মৃত্যু হয়েছে।

ওয়াইল্ডলাইফ প্রোটেকশন সোসাইটি অফ ইন্ডিয়া (ডব্লিউপিএসআই)-র তরফে জানানো হয়েছে এই বছর জানুয়ারি এবং ফেব্রুসয়ারিতে, বারোটি চিতাবাঘের মৃত্যু হয়েছে শারীরিক অসুস্থতার কারণে। ৩৬টি মৃত্যুর কারণ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে, এবং বাকি ৫৮টি চিতাবাঘ যে চোরাশিকারিদের নিশানার শিকার হয়েছে সেটা মেনে নিয়েছে ডব্লিউপিএসআই।

উল্লেখ্য ভারতের মোট ১৮টা রাজ্যে চিতাবাঘের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সবার প্রথমে রয়েছে উত্তরাখণ্ড। সেখানে ২৪টা চিতাবাঘের মৃত্যু হয়েছে। এর পরেই রয়েছে মহারাষ্ট্র এবং রাজস্থান, যেখানে যথাক্রমে ১৮টা এবং ১১টা চিতাবাঘের মৃত্যু হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী ২০১৭-তে ৪৩১ এবং ২০১৬-এ ৪৫০টি চিতাবাঘের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু সেই দুই বছরে চোরাশিকারিদের হাতে প্রাণ গিয়েছিল ১৫৯ এবং ১২৬টি চিতাবাঘের। আর চলতি বছরের প্রথম দু’মাসেই যা ইঙ্গিত, তাতে বছরের শেষে এই সংখ্যাটা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে সেটা আন্দাজ করা কঠিন। উল্লেখ্য, ‘ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ নেচার’-এ ভারতের চিতাবাঘকে ‘বিপন্ন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তার পরই কড়া ব্যবস্থা নেয় সরকার। কিন্তু লাভের লাভ কিছুই হয়নি। তা রিপোর্টেই স্পষ্ট।

নেপাল এবং চিনে চিতাবাঘের শরীরের অংশ পাচার করা হয় বলে জানিয়েছে ওই সংস্থাটি। ভারতে যার দাম ৩ থকে ৪ লক্ষ রুপি। কিন্তু সীমান্ত পেরিয়ে নেপালে পৌঁছলে এর দাম এক লাফে বেড়ে হয় ৮ থেকে ১০ লক্ষ রুপি। চিনে চিতাবাঘের দেহাংশের বাজার আরও বড়। আনুমানিক ৪০ থেকে ৫০ লক্ষ রুপি। বিশেষজ্ঞদের মতে, চোরাশিকারের পাশাপাশি জঙ্গল কাটার ফলেও বাসা হারিয়ে মৃত্যু হতে পারে চিতাবাঘদের। দেহরাদুনের সংগঠন ওয়াইল্ডলাইফ ইন্সটিটিউট অফ ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ভারতের ১৭টা রাজ্যে চিতাবাঘের সংখ্যা ৯,০০০। কিন্তু সমস্যা হলো হরিয়ানা, হিমাচল, গুজরাট এবং কাশ্মিরে চিতাবাঘের সংখ্যার ব্যাপারে কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। এই চারটে রাজ্যতেও মাঝেমধ্যেই চিতাবাঘ দেখা যায়।- সংবাদসংস্থা

LEAVE A REPLY