খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসছে ব্রাজিল

    সময় পেরোচ্ছে। খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসছে ব্রাজিল। খেলা শুরু করেছে সাম্বার তালে তালে জোগো বনিতো ফুটবল। নেইমার, কটিনহো, উইলিয়ানরা দুর্দান্ত ফুটবল খেলে সব আলো কেড়ে নিচ্ছেন নিজেদের দিকে। পিছিয়ে নেই বেলজিয়ামও। দারুণ গতিশীল ফুটবল খেলছে ইউরোপীয় প্রতিনিধিরা। অসাধারণ খেলছেন এডিন হ্যাজার্ড, রোমেলু লুকাকুরা।
    শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায় সাম্বার ব্রাজিলকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পুরোপুরি প্রস্তুত বেলজিয়াম। ব্রাজিল এখন হেক্সা মিশনে রাশিয়ায়। নকআউট পর্বে নেইমার ম্যাজিকে মেক্সিকোকে হারিয়ে জায়গা নিয়েছে কোয়ার্টার ফাইনালে। মধ্য আমেরিকার দেশটির বিপক্ষে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জয় পেয়েছে ২-০ গোলে। কিন্তু জয়ের চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেছে তিতের দল। আক্রমণভাগের সঙ্গে সমানতালে খেলেছে থিয়াগো সিলভা, ফিলিপ লুই, মিরান্ডাদের রক্ষণভাগ। বহু বছর পর ব্রাজিলের রক্ষণভাগকে অনেক বেশি আঁটোসাঁটো মনে হয়েছে এবার।
    এমন একটি দল বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখতেই পারে। স্বপ্ন দেখলেই তো হবে না, প্রতিপক্ষ যখন দুরন্ত ফর্মের বেলজিয়াম। তখন ভাবতেই হবে। বেলিজয়াম এখন পর্যন্ত ৪ ম্যাচে গোল করেছে ১২টি। শুধু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ন্যূনতম এক গোল করেছে। নকআউট পর্বে জাপানের সঙ্গে ০-২ গোলে পিছিয়ে থেকেও ৩-২ গোলে জিতে মাঠ ছেড়েছে। এমন একটি দলের বিপক্ষে জোর লড়াই করতে হবে সেলেকাওদের। ফর্মের সর্বোচ্চ শিখরে থাকতে হবে নেইমার, কটিনহো, জেসুস, ফিরমিনহোদের। সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে আসর শুরু করেন নেইমাররা।
    পরের দুই ম্যাচে কোস্টারিকা ও সার্বিয়াকে হারিয়ে নকআউট পর্বে জায়গা নেয়। কোয়ার্টারে জায়গা নেয় মেক্সিকোকে হারিয়ে। কোচ তিতে বলছেন, ব্রাজিল কোনো একক খেলোয়াড় নির্ভর দল নয়। ভুল বলেছেন কি কোচ? চার ম্যাচে নেইমার খেলেছেন, গোল করেছেন ২টি। সহায়তা করেছেন দুটিতে।
    কটিনহো গোল করেছেন ২টি। ফিরমিনহোও করেছেন একটি। সবাই রয়েছেন ফর্মে। তারপরও সময় যত যাচ্ছে, ফর্মের শিখরে ফিরছেন নেইমার। প্রমাণ করছেন প্রতিটি ম্যাচে, তিনিই দলের প্রাণভোমরা। তারপরও ব্রাজিলকে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জিততে পুরো দলকে এক হয়ে খেলতে হবে। আর ১৫ জুলাই ফাইনালের আগে কঠিন বাধা বেলজিয়ামকে ডিঙাতে হবে।