দারুন একটা পেটানো শরীর, পেশির শক্তিও বেশ ওঠানামা করে। কিন্তু ঠিক কেমন করে তিনি গড়েন নিজেকে? বড়সড় ম্যাচে বলে টোকা দেওয়ার মুহূর্তে এবং ম্যাচের পরে তিনি বিশেষ নিয়মে এগিয়ে যান। মিলল আভাস। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর রুটিনের। তিনি ঠিক কী কী করেন? বিস্তারিত সে-ব্যাখ্যায় ঢোকার আগে বলে দেয়ার প্রয়োজন, তিনি সবচেয়ে অবাক করা কোন কাজটা করেন? আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখেন! এ এক অদ্ভুদ রুটিন তার! যতই অবাক লাগুক, রোনালদোর রুটিনে এই কাজটা অবশ্যই থাকে। ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের একদা সতীর্থ ওয়েন রুনিই তার সাক্ষী। বলেছেন, স্টেডিয়ামে পৌঁছেই ও পোশাক বদলায়। পায়ে বুটটাও গলিয়ে নেয়। তারপর?? আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখে!? স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। ম্যাচের জন্য মানসিকভাবে নিজেকে তৈরি করে। আয়নায় নিজের চোখে চোখ রেখে মনে মনে স্থির হওয়ার এই চেষ্টার বাইরে আরও অনেক কিছুই করেন রোনাল্ডো। খুব ভোরে উঠে ওয়ার্কআউট অভ্যেস। স্ট্রেচিংও নিয়মের মধ্যেই পড়ে। পরিশ্রম তো শুধু করলে চলে না,? ডায়েট চার্টটাও মানতে হয়। রোনালদো ম্যাচের দিন তরল পানীয় প্রচুর পরিমাণে খেতে পছন্দ করেন। যাতে কোনওভাবেই শরীরে জলের ঘাটতি না হয়। তালিকায় থাকে প্রচুর পরিমাণে মাছ। মিলে প্রোটিন জাতীয় খাবার বেশি থাকে। গমের তৈরি খাবারও খান। আর ম্যাচের পর? কী খান? কী করেন? এএস? পত্রিকায় এক সাক্ষাৎকারে রোনালদো নিজেই সে-রহস্য ভেদ করেছিলেন, ম্যাচের পর স্টেডিয়ামেই খাওয়াদাওয়া সেরে নিই। ফল আর পিৎজা। তারপর গরম-ঠান্ডা জলে স্নান করি। ২০ মিনিট সাঁতার কাটি। ম্যাচ খেলার ক্লান্তি কাটাতেই কি সাঁতার পছন্দ? সূত্রের খবর, হ্যাঁ যাবতীয় ক্লান্তি কাটাতে এবং মাথা থেকে সমস্ত ভাবনা ঝেড়ে ফেলতে রোনাল্ডো সাঁতার কাটেন। এ তো গেল খাওয়া আর পরিশ্রমের গল্প। এর বাইরে আরও একটা কাজ নিয়ম মেনে করেন। ঘুম। ম্যাচের আগের রাতে আট ঘণ্টা ঘুমোবেনই। এক মিনিট এদিক-ওদিক হওয়ার উপায় নেই। কেন? রোনাল্ডোর কথায়, ঘুমোলে আমার পেশি পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায়।? এজন্যই ঘুমোতে যান তাড়াতাড়ি, ঘুম থেকে ওঠেনও তাড়াতাড়ি। মাঠে পৌঁছনোর পর রোনালদোার রুটিনে আরও একটি বিষয় থাকে। কী? রুনি জানিয়েছেন, ও স্টেডিয়ামে পৌঁছে স্ট্রেচিং করার পর গান শোনে। নিজেকে ফিট রাখতে হলে শৃঙ্খলা জরুরি। রোনাল্ডো সেটা প্রতিদিন দেখিয়ে চলেছেন। ম্যাচের আগে হোক বা পরে।