দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মঙ্গলবার (১২জুন) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। তবে বিএনপির দাবি অনুযায়ী তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়ার কোনো সুযোগ এই মূহূর্তে কারাবিধি অনুযায়ী নেই। কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন্স) সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিএনপি চেয়ারপারসনের অসুস্থতা নিয়ে আলোচনার মধ্যে তিনি সোমবার (১১জুন) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসে বলেন, “আমরা উনাকে আগামীকাল সকালে বিএসএমএমইউতে নিয়ে যাব। বিএসএমএমইউ তৈরি রাখতে বলেছি। তবে উনি যদি রাজি থাকেন। উনার রাজি হওয়ার একটা বিষয় আছে।” বিএনপি শুরু থেকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। খালেদার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরাও একই সুপারিশ করেছেন।

কারা মহাপরিদর্শক বলেন, “জেল কোড অনুযায়ী সরকারি অর্থ খরচ করে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ নেই।”তবে সরকার চাইলে বেসরকারি হাসপাতালে কারও চিকিৎসায় অনুমোদন দিতে পারে বলে জানান তিনি। এক্ষেত্রে চিকিৎসা ব্যয় কে বহন করবে, কীভাবে করবে, তার ফয়সালা করতে হবে বলে তিনি জানান।

গত ৫ জুন খালেদা জিয়া পড়ে গিয়ে সংজ্ঞা হারিয়েছিলেন বলে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা জানালেও সৈয়দ ইফতেখার বলেন, “উনি অজ্ঞান হননি, ইমব্যালেন্সড হয়েছিলেন।”

এর আগে শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘খালেদা জিয়া গত ৫ জুন (মঙ্গলবার) কারাগারে মাথা ঘুরে পড়ে যান। সম্প্রতি কারাগারে তার নিকটাত্মীয়রা দেখা করতে যান। এসময় তিনি একথা জানান। সরকারের জিঘাংসার কষাঘাতের তীব্রতা যে কত ভয়াবহ, সেটি বোঝা যাবে শুধু খালেদা জিয়ার প্রতি অমানবিক আচরণের মাত্রা দেখলেই।’

রিজভী জানান, খালেদা জিয়া গত তিন সপ্তাহ যাবৎ ভীষণ জ্বরে ভুগছেন, যা কোনোক্রমেই থামছে না। চিকিৎসা বিদ্যায় যেটিকে বলা হয় টিআইএ (ট্রানজিয়েন্ট স্কিমিক অ্যাটাক)। দেশনেত্রীর দুটো পা-ই এখনও ফুলে আছে এবং তিনি তার শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করতে পারছেন না।এখনই বিশেষায়িত এমআরআই, সিটি স্ক্যান, ইকো কার্ডিওগ্রাফি, ইসিজি, বিএমডিসহ জরুরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং একটি চিকিৎসক দলের তত্ত্বাবধানে জরুরি চিকিৎসার বন্দোবস্ত করতে জোরালোভাবে সরকারের কাছে দাবি জানান রুহুল কবির রিজভী।

রিজভী বলেন, সরকারের ইচ্ছাকৃত অবহেলা ও উদাসীনতার কারণে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তার প্রয়োজনীয় যে চিকিৎসাগুলোর জন্য বারবার দাবি করা হয়েছিল, যেমন— বিশেষায়িত এমআরআই, সিটি স্ক্যান, ইকো কার্ডিওগ্রাফি, ইসিজি, বিএমডিসহ জরুরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং একটি চিকিৎসক দলের তত্ত্বাবধানে জরুরি চিকিৎসার বন্দোবস্ত করা। কিন্তু দলের নেতাদের দাবি এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ ক্রমাগত উপেক্ষাই করে চলেছে সরকার।

এরপর শনিবার (০৯জুন) বিকালে কারাবন্দি খালেদাকে দেখতে পুরনো ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে যান তার ব্যক্তিগত চার চিকিৎসক। দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় পর বেরিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী তাদের পর্যবেক্ষণ সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “গত ৫ জুন তিনি হঠাৎ করে পড়ে গিয়েছিলেন। তিনি ওই সময়টার কথা বলতে পারছেন না। তার একটি মাইল্ড স্ট্রোক হয়েছে বলে আমাদের কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে।” বিষয়টি নিশ্চিত হতে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য খালেদা জিয়াকে কারাগারের বাইরে বিশেষায়িত একটি হাসপাতালে ভর্তি করতে সুপারিশ করেছেন তার ব্যক্তিগত এই চিকিৎসকরা। বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসা নিয়ে চার পৃষ্ঠার একটি সুপারিশমালা কারা কর্তৃপক্ষকে দিয়েছেন। খালেদা জিয়াকে কেমন দেখেছেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, “উনার কথায় কিছুটা জড়তা আছে, তবে কমিউনিকেশন করতে পারছেন।”

অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকীর সঙ্গে ছিলেন নিউরো মেডিসিনের অধ্যাপক সৈয়দ ওয়াহিদুর রহমান, চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস এবং কার্ডিওলজিস্ট ডা. মোহাম্মদ মামুন। বিকাল ৪টায় কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে এই চার চিকিৎসক প্রধান ফটক দিয়ে কারাগারে ঢোকেন।

খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের এমন বক্তব্যের পর গত রোববার (১০জুন) দুপুরে সচিবালয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানান ‘খালেদা জিয়ার চিকিৎসকরা কারাগারে তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে বলেছেন, তাঁর মাইল্ড স্ট্রোক হয়েছে। বিষয়টি জানার পর পরই আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে পাঠানো হবে। সেখানেই তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা হবে এবং সেখানে চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত নেবেন, কোথায় তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হবে।’

গত মার্চের শেষে খালেদা অসুস্থ হয়ে পড়লে বিএনপির উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে তার চিকিৎসায় একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করে সরকার। চার সদস্যের ওই বোর্ডের সদস্যরা