খালেদা জিয়ার জামিন প্রশ্নে ফের শুনানি চলছে

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন প্রশ্নে আবার শুনানি শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে এ শুনানি শুরু হয়। এতে যুক্তি উপস্থাপন করছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

এর আগে সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে হাইকোর্টের জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আপিল আবেদনের ওপর শুনানি শুরু হয়।

অ্যাটর্নি জেনারেল একদিন সময় আবেদন করলে আদালত তা দুপুর ১২টা পর্যন্ত মঞ্জুর করেন।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের বেঞ্চ রায়ের জন্য এজলাসে ওঠে।

রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম একদিন সময় চাইলে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘একদিন সময় দিতে পারব না। কারণ আগামীকাল আমার একজন সহকর্মী আদালতে আসতে পারবেন না।’এর পর অ্যাটর্নি জেনারেলকে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আপনি সাড়ে ১১টার দিকে আসেন। তখন আদালত থেকে আইনজীবীরা বের হয়ে যান।’

৮ ও ৯ মে দুদিন খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের করা আপিল আবেদনের ওপর শুনানি হয়।

শুনানি শেষে মামলাটির রায় ঘোষণার জন্য ১৫ মে তারিখ নির্ধারণ করেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ। সে অনুযায়ী আপিল বিভাগের আজকের কার্যতালিকায় মামলাটি তিন নম্বরে রাখা হয়েছে।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করবেন।

১২ মার্চ দুদকের আবেদনের শুনানি নিয়ে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে চার মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।

পাশাপাশি এ মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা কেন বাড়ানো হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত। তার জামিন মঞ্জুর করে হাইকোর্টের দেয়া আদেশের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাষ্ট্রপক্ষ পৃথক আপিল করে।

পরে ১৯ মার্চ খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন আদেশ আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রেখে ৮ মে শুনানির জন্য রাখেন আপিল বিভাগ।

একই সঙ্গে খালেদা জিয়াকে দেয়া হাইকোর্টের জামিন আদেশের বিরুদ্ধে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষকে আপিলের অনুমতি দেয়া হয়। আর আপিল আবেদনের সারসংক্ষেপ পরবর্তী দুই সপ্তাহের মধ্যে জমা দিতে দুদককে নির্দেশ দেন আদালত।

খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের করা আপিল আবেদনের ওপর ৮ ও ৯ মে শুনানি হয়। শুনানি শেষে মামলাটির রায় ঘোষণার জন্য ১৫ মে তারিখ নির্ধারণ করেন আপিল বিভাগ।

ওই শুনানিতে খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন- আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন ও অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান এবং রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান।

রায় ঘোষণার পরপরই খালেদা জিয়াকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই আছেন।