কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আদেশে বিএনপি নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বসিত। প্রায় এক মাসের বেশি সময় কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে চার মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন উচ্চ আদালত। সোমবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ জামিনের এ আদেশ দেন। জামিন আদেশে দলটির নেতারা খুশি হয়েছেন। তবে একইসঙ্গে খালেদা জিয়ার কারামুক্তি নিয়ে শঙ্কার কথাও জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা। গতকাল সোমবার আদালত প্রাঙ্গণে জামিন আদেশ দেওয়ার পর দলটির সিনিয়র নেতাদের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এমন মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে।

জামিন আদেশের সময় হাইকোর্টে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তার কাছে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে আজকালের খবরকে তিনি বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসনের মামলায় উচ্চ আদালত জামিন মঞ্জুর করে যে আদেশ দিয়েছেন, তাতে আমরা খুশি। এখন আমরা অন্যান্য প্রক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন দেখার বিষয়, জামিনের ব্যাপারে সরকার আপিল করে কি না। আশা করব, সরকার এ নিয়ে আর বাড়াবাড়ি করবে না।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু তিনিও গতকাল আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে তার মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই উচ্চ আদালতের প্রতি আস্থাশীল ছিলাম। খালেদা জিয়াও আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। এখন আশা করছি তিনি দ্রুত কারামুক্ত হবেন।’

বিএনপির আরেক ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমদ আজম খান বলেন, ‘জামিনযোগ্য একটি মামলায় দীর্ঘদিন পর হলেও খালেদা জিয়ার জামিন মঞ্জুর করে আদালত আদেশে দিয়েছেন। এতে আমরা খুশি। এখন দ্রুত বেলবন্ড (জামিননামা) সংগ্রহ করে তাকে কারামুক্ত করাই হবে আমাদের মূল লক্ষ্য। অন্যদিকে মামলাটি আমরা এখন আইনিভাবে মোকাবিলা করব। আশা করি ম্যাডাম এ মামলা থেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হবেন।’

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরীর দক্ষিণের সভাপতি হাবীব-উন-নবী খান সোহেল বলেন, ‘বেশ কয়েকটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকার পরও ম্যাডামের জামিন আদেশ শুনতে আদালতে হাজির ছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ। জামিন আদেশ শুনার পর মনে হচ্ছে বুকের ওপর থেকে বিশাল পাথর সরে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আশা করছি, খুব দ্রুত দেশনেত্রী খালেদা জিয়া কারামুক্ত হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন।’

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য জয়নাল আবদীন ফারুক বলেন, ‘সরকার নানা টালবাহানা করে খালেদা জিয়ার জামিন প্রক্রিয়া বিলম্ব করেছে। এখন উচ্চ আদালত জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দিয়েছেন। এতে খুশি হওয়ার কিছুই নেই। তবে আমরা প্রত্যাশা করব খালেদা জিয়ার কারামুক্তিতে সরকার যেন অন্য কোনো পন্থায় বাধা না দেয়।’

বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী বলেন, ‘এককথায় বলতে গেলে বিএনপির নেতাকর্মীরা এ আদেশে খুশি। এর মাধ্যমে দলের নেতাকর্মীরা আরও চাঙা হবে। একইসঙ্গে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারামুক্ত হয়ে গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধারের আন্দোলন আরও বেগবান করবেন।’

এদিকে খালেদা জিয়ার জামিন আদেশে দলটির নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন। আদেশ শুনার পর আদালতের বারান্দায় অপেক্ষমাণ নেতাকর্মীরা সেখানে খালেদা জিয়ার নামে স্লোগান দিতে শুরু করেন। অনেকেই ফোনের মাধ্যমে নিকটজনের কাছে খবরটি পৌঁছে দেন। আবেগাপ্লুত হয়ে কেউ কেউ একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকেন। কেউ কেউ ‘ভি’ চিহ্ন দেখিয়ে বিজয়ের বার্তাও প্রকাশ করেন।

পরে বিএনপির নেতাকর্মীরা নিচে নেমে এসে সংগঠিত হয়ে আদাত প্রাঙ্গণে কয়েক দফা মিছিল করেন। এ সময় তারা খালেদা জিয়ার দ্রুত মুক্তি কামনা করে স্লোগান দেন।

অন্যদিকে খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে দিন ধার্য থাকায় দুপুরের পর থেকেই হাইকোর্ট এলাকায় অবস্থান নেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। প্রশাসনের কড়াকড়ি সত্তে¡ও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নেতাকর্মী আদালতের ভেতরে অবস্থান নেন। খালেদা আইনজীবী ছাড়াও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নজরুল ইসলাম খান, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নজরুল ইসলাম মঞ্জু, কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব, শহিদুল ইসলাম বাবুল, তাইফুল ইসলাম টিপু, আমিনুল ইসলাম প্রমুখ আদালতে উপস্থিত ছিলেন।