খালেদাকে আবারো বিএসএমএমইউতে নেওয়া হচ্ছে

    দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে আবারো নেওয়া হচ্ছে। রোববার (১০জুন) দুপুরে সচিবালয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এ তথ্য জানান।
    গতকাল শনিবার কারাগারে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখে আসার পর তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা ধারণা করেন, তিনি ‘মাইল্ড স্ট্রোকে’ আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁরা সাবেক প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসার জন্য লিখিতভাবে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন।

    আইনমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়ার চিকিৎসকরা কারাগারে তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে বলেছেন, তাঁর মাইল্ড স্ট্রোক হয়েছে। বিষয়টি জানার পর পরই আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে পাঠানো হবে। সেখানেই তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা হবে এবং সেখানে চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত নেবেন, কোথায় তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হবে।’তবে কখন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট করে কিছু বলেননি আইনমন্ত্রী।

    এদিকে অপর এক ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাঁকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে পাঠানোর জন্য কারা মহাপরিদর্শককে (আইজি প্রিজন) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁরা ধারণা করছেন, তিনি মাইল্ড স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁর সুগার ফল করেছে, নাকি মাইল্ড স্ট্রোক করেছেন সেটা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তাঁকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য আইজি প্রিজনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

    বিএনপি ও চিকিৎসকরা খালেদা জিয়াকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তির দাবি জানালেও তাঁকে কেন সেখানে পাঠানো হচ্ছে না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘জেল কোড অনুযায়ী খালেদা জিয়ার চিকিৎসা হচ্ছে। সেই অনুযায়ী পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা হবে। খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যাপারে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।’

    ‘দেশের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা ও পরীক্ষা—দুটোই শীর্ষস্থানে রয়েছে। সেখানকার চিকিৎসকরা যে পরামর্শ দেবেন, আমরা সেটাই পালন করব। উনারা কেন ইউনাইটেড হাসপাতালের কথা বলছেন, আমরা জানি না,’ যোগ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    গতকাল শনিবার বিকেলে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর চারজন ব্যক্তিগত চিকিৎসক সোয়া ঘণ্টা কারাগারে অবস্থান ও খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার করেন। পরে কারাগারের বাইরে এসে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এফ এম সিদ্দীকি বলেন, ‘জুনের ৫ তারিখে উনি (খালেদা জিয়া) হঠাৎ করে দাঁড়ানো অবস্থা থেকে অজ্ঞান হয়ে পড়ে গিয়েছিলেন। দুপুরবেলা ১টার সময়। প্রায় ৫/৭ মিনিট উনি আনকনসাস ছিলেন।

    উনি মনেই করতে পারছেন না যে, কী ঘটেছিল। মাইল্ড ফর্মে একটা স্ট্রোকের মতো হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। যদি টিআইএ (ট্রানজিয়েন্ট এস্কেমিক অ্যাটাক) কারো হয়, তাহলে সেটা ইন্ডিকেট করে সামনে তাঁর একটা স্ট্রোক হওয়ার আশঙ্কা খুব বেশি থাকে।’

    এর ঘণ্টা দুয়েক পর কারা অধিদপ্তরের ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে বেরিয়ে এলে সাংবাদিকরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এ ব্যাপারে জানতে চান। তখন তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মাথা ঘুরে পরে যাওয়ার বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষ অবগত নয়। তারপরও চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী খালেদা জিয়ার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। রিপোর্ট পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।’